নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য ট্রাম্পকে মনোনয়ন দিয়ে আলোচনায় নেতানিয়াহু

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৮ জুলাই, ২০২৫
  • ২৭ বার
নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য ট্রাম্পকে মনোনয়ন দিয়ে আলোচনায় নেতানিয়াহু

প্রকাশ: ০৮ জুলাই’ ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন দিয়েছেন। সোমবার ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এক নৈশভোজে নেতানিয়াহু এ তথ্য জানান এবং জানিয়েছেন যে, নোবেল কমিটির কাছে পাঠানো মনোনয়ন চিঠির একটি কপি তিনি নিজ হাতে ট্রাম্পকে উপহার দিয়েছেন।

প্রত্যাশিতভাবেই এই খবরটি আন্তর্জাতিক মিডিয়া, কূটনৈতিক মহল এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। নোবেল শান্তি পুরস্কারকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প অতীতে একাধিকবার মনোনয়ন পেলেও তা জয়ের পথে পৌঁছাতে পারেননি। এবার নিজ মিত্র নেতানিয়াহুর সরাসরি সমর্থন নতুন করে তার পুরস্কারপ্রাপ্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা তৈরি করেছে।

ওয়াশিংটন থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি জানায়, সোমবার রাতে হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক নৈশভোজে অংশ নিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, “আমরা যখন এখানে কথা বলছি, তখন ট্রাম্প একের পর এক অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজ করে যাচ্ছেন। তার নেতৃত্বে বিশ্বে নতুন কূটনৈতিক অধ্যায় সূচিত হচ্ছে।”

ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিপূর্বে তার ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র এবং রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের কাছ থেকে একাধিকবার নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য প্রস্তাব পেয়েছেন। তবে পুরস্কারটি না পাওয়ার কারণে তিনি একাধিকবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং দাবি করেছেন, তার শান্তি প্রচেষ্টাগুলো ‘রাজনৈতিকভাবে উপেক্ষিত’ হয়েছে। তিনি বিশেষ করে ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্ব, সার্বিয়া-কসোভো সংকট এবং মিসর-ইথিওপিয়ার জলবণ্টন বিরোধে নিজের মধ্যস্থতামূলক ভূমিকাকে নোবেল পাওয়ার যোগ্যতা হিসেবে তুলে ধরেছেন।

সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল ‘অ্যাব্রাহাম অ্যাকর্ডস’। এই চুক্তি ইসরাইল এবং একাধিক আরব দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সহায়তা করে। ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিকে বিশ্ব কূটনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নেতানিয়াহুর মনোনয়নে এই দিকটিও ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

ট্রাম্প বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয়ভাবে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার প্রচারণায় শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়টি একটি মুখ্য প্রতিশ্রুতি হিসেবে উঠে এসেছে। তিনি দাবি করেছেন, ইউক্রেন ও গাজা উপত্যকার যুদ্ধ পরিস্থিতি তিনি ক্ষমতায় এসে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধান করতে সক্ষম হবেন। যদিও বাস্তবে দ্বিতীয় মেয়াদে তার পাঁচ মাসের শাসনকাল অতিক্রম করলেও উভয় সংঘাত এখনো সমাপ্ত হয়নি, বরং পরিস্থিতি আরও জটিল ও সহিংস হয়ে উঠেছে।

নেতানিয়াহুর এই মনোনয়নকে অনেকেই রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেও বিবেচনা করছেন। কারণ ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক বন্ধুত্ব রয়েছে। ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও নেতানিয়াহু সাম্প্রতিক সময়ে কঠিন সময় পার করছেন, এবং এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে প্রভাবশালী একটি সমর্থন পুনঃনিশ্চিত করাও তার কৌশলের অংশ হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

এদিকে, নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পাওয়া যে কোনো প্রার্থীর ক্ষেত্রেই এটি একটি মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় নরওয়ের নোবেল কমিটি। তাদের বিচারে শুধুমাত্র মনোনয়ন নয়, প্রার্থীর কার্যত শান্তি স্থাপন বা সহিংসতা হ্রাসে বাস্তব অবদান বিবেচনা করা হয়। সেক্ষেত্রে ট্রাম্পের মনোনয়ন কতটা গ্রহণযোগ্যতা পায়, তা সময়ই বলে দেবে।

নেতানিয়াহুর এই ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ এই মনোনয়নকে ‘যথার্থ স্বীকৃতি’ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ এটিকে ‘রাজনৈতিক নাটক’ বলেও মন্তব্য করছেন। তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য নেতানিয়াহুর আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক এবং বিশ্লেষণের জন্ম দিয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত