প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর ২০২৫ শুক্রবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের একটি ফুটওভার ব্রিজে আগুনের ঘটনায় জনজীবন অস্থির হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের এবং পুলিশের সূত্রে জানা যায়, দুষ্কৃতিকারীরা অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে শহরে আতঙ্ক সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছিল। পুলিশের তৎপরতায় একজন যুবক, রিয়াজ হোসেন (৩১), আটক করা হয়েছে। তিনি সোনারগাঁও উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের বিহাকাহির এলাকার জাকির হোসেনের ছেলে।
ঘটনা ঘটেছে শিমরাইল এলাকার মাদানীনগর মাদ্রাসা সংলগ্ন ফুটওভার ব্রিজে। অভিযোগ অনুযায়ী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদের বিভিন্ন ব্যানারে দুষ্কৃতিকারীরা আগুন ধরায়। এ সময় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা আশপাশের লোকজনের নজরে আসে। স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করলে দুষ্কৃতিকারীরা পালিয়ে যায়। তবে জনতার তৎপরতায় রিয়াজ হোসেনকে হাতেনাতে আটক করা সম্ভব হয়।
পরে খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আটক রিয়াজ হোসেনের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন, অপরিচিত একজন ব্যক্তি তাকে এক হাজার টাকার বিনিময়ে বিএনপি নেতার ব্যানারে আগুন ধরানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। পুলিশ ঘটনাটিকে মারাত্মক সামাজিক নাশকতার চেষ্টা হিসেবে দেখছে এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গভীর রাতে এমন আগুনের ঘটনায় সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ফুটওভার ব্রিজটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল, যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আগুন লাগার ঘটনায় রাস্তায় যানবাহন চলাচলও প্রভাবিত হয়।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ধরণের নাশকতা সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি স্বরূপ। দুষ্কৃতিকারীরা স্থানীয় সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা বিপন্ন করার চেষ্টা করেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সহযোগীদের খুঁজে বের করতে তদন্ত চালাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নির্বাচনী অস্থিতিশীলতা ও রাজনৈতিক সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের নাশকতার ঘটনা বেড়ে যেতে পারে। তাই প্রশাসন ও পুলিশের দায়িত্ব বাড়ছে, যাতে জনজীবন ও জনসম্পত্তি নিরাপদ থাকে। তারা বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও রাজনৈতিক সহিংসতা প্রতিহত করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
অগ্নিসংযোগের ঘটনায় স্থানীয়রা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। শিক্ষার্থী, পথচারী ও আশপাশের দোকানিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনায় তৎক্ষণাৎ আরও বড় কোনো দুর্ঘটনা ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার মূল উদ্দেশ্য রাজনৈতিক সহিংসতা ও ভীতি সৃষ্টির ছিল।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রিয়াজ হোসেনকে থানায় রাখা হয়েছে এবং তার সঙ্গে যোগাযোগকারী অন্যান্য সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার জন্য অভিযান চলমান। পুলিশ স্থানীয়দেরও সহযোগিতা কামনা করেছে, যাতে নাশকতার পরিকল্পনা ভেঙে ফেলা যায়।
এ ঘটনার পর শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও যানবাহন চলাচলের স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ফুটওভার ব্রিজের আশেপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসনের উদ্দেশ্য হল, এমন ঘটনা পুনরায় ঘটানো থেকে প্রতিরোধ করা এবং নাগরিকদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা।
স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন, দুষ্কৃতিকারীদের দ্রুত শনাক্ত ও বিচারের মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং রাজনৈতিক সহিংসতার ভীতিমূলক পরিস্থিতি এড়িয়ে সাধারণ মানুষ শান্তিতে জীবন যাপন করতে পারবে। এ ঘটনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ও সতর্ক হয়েছেন এবং নিজ নিজ দায়িত্বশীলতা বাড়িয়েছেন।
সংক্ষেপে, সিদ্ধিরগঞ্জের ফুটওভার ব্রিজে গভীর রাতে আগুন লাগানোর ঘটনায় প্রশাসন ও পুলিশ তৎপরতা দেখিয়েছে। রিয়াজ হোসেনের আটক এবং তার স্বীকারোক্তি সমাজে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে যে, নাশকতা ও সহিংসতার সঙ্গে কোনো আপোষ করা হবে না। এটি স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ এবং সাধারণ মানুষের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবেও দেখা যাচ্ছে, যা আগামীতে শহরে নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সহায়ক হবে।