স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী সেলিনা জেটলি

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৫৮ বার
স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী সেলিনা জেটলি

প্রকাশ: ২৭ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বলিউডের আলোচিত অভিনেত্রী সেলিনা জেটলি সম্প্রতি স্বামী পিটার হাগের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নির্যাতনের অভিযোগ এনে ৫০ কোটি রুপির ক্ষতিপূরণ দাবি করে আদালতে মামলা করেছেন। মুম্বাইয়ের আন্ধেরি আদালতে করা এই মামলা ঘিরে বলিউড মহলে ইতোমধ্যেই ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত জীবনের সংকট নিয়ে নীরব থাকা সেলিনা অবশেষে মুখ খুলেছেন সামাজিক মাধ্যমে। তাঁর আবেগঘন বার্তায় উঠে এসেছে গভীর কষ্ট, সংগ্রাম এবং টিকে থাকার লড়াই।

সামাজিক মাধ্যমের সেই পোস্টে সেলিনা লেখেন, বর্তমানে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে এমন এক ঝড় বয়ে যাচ্ছে যা তিনি কখনো কল্পনাও করেননি। তিনি জানান, জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়ে এসে নিজেকে সম্পূর্ণ একা মনে হচ্ছে। তাঁর বাবা-মা নেই, নেই কাছের মানুষের সহায়তা। জীবনের এমন অবস্থায় এসে নিজের মাথার ওপর থেকে নিরাপদ আশ্রয় হারানোর অনুভূতিটি তাঁকে ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছে। ব্যক্তিগত জীবনের নীরব সংগ্রাম, সম্পর্কের ভাঙ্গন ও বিশ্বাসভঙ্গের আঘাত—সব মিলিয়ে তিনি কঠিন সময় পার করছেন।

অভিনেত্রী বলেন, তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় ভরসা ছিলেন তাঁর কাছের মানুষরা—বাবা-মা, ভাই, সন্তান এবং তিনি যাঁর সঙ্গে জীবন কাটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে সংসার শুরু করেছিলেন। সেই মানুষটির কাছ থেকেই তিনি আজ বিচ্ছিন্ন। এমন পরিস্থিতি তাঁর জন্য শুধু মানসিক চাপই নয়, জীবন-সংকটের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। যাদের একসময় তিনি বিশ্বাস করেছিলেন, তারা পাশে না থাকায় তাঁর মানসিক অবস্থা আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বলে জানান তিনি।

সেলিনা আরও বলেন, জীবনে কখনো ভাবেননি যে সবকিছু এত দ্রুত বদলে যাবে। যেসব প্রতিশ্রুতি তাঁকে ভরসা দিত, সেগুলো ভেঙে যাওয়ার যন্ত্রণায় তিনি কষ্ট পাচ্ছেন। তবে তিনি দৃঢ়ভাবে জানান—এই ঝড় তাঁকে ভেঙে দিতে পারেনি। বরং তা তাঁকে আরও শক্ত হতে শিখিয়েছে। ছোটবেলা থেকে তাঁকে শেখানো হয়েছে কঠিন পরিস্থিতিতে হাল না ছেড়ে দাঁড়িয়ে থাকার কথা। সেই শিক্ষা আজ তাকে পথ দেখাচ্ছে।

তিনি বলেন, যখন মনে হয় পৃথিবী যেন একসঙ্গে সব চেপে ধরছে, তখনও মাথা উঁচু করে লড়াই করে যাওয়ার শক্তি তাঁর আছে। হৃদয় ভেঙে গেলেও ন্যায়বিচারের জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া তাঁর কাছে এখন নীতির বিষয়। নিজের প্রতি করা কোনো অবিচারের ক্ষেত্রে দুর্বলতা কিংবা আপস নয়—বরং দৃঢ় মানসিকতা নিয়েই তিনি এগিয়ে যেতে চান।

পোস্টে সেলিনা উল্লেখ করেন, তাঁর জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার সময়েও কিছু মানুষ তাঁকে সাহস জুগিয়েছেন। তাঁর মর্যাদা, অধিকার এবং ন্যায়বিচারের লড়াইয়ে যারা ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন, তাদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এই সমর্থন তাঁকে নতুনভাবে শক্তি দিয়েছে বলেও জানান তিনি।

বলা হয়ে থাকে বলিউডের আলো-ঝলমলের আড়ালে বহু শিল্পী ব্যক্তিগত জীবনে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। সেলিনার এই অভিজ্ঞতাও সেই বাস্তবতারই জানান দেয়। অর্থনৈতিক নির্যাতনের অভিযোগ সাধারণত পারিবারিক নির্যাতনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় রয়েছে। অনেক সময় এটি শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের মতো দৃশ্যমান না হলেও এর প্রভাব সমানভাবে ক্ষতিকর হতে পারে। সেলিনার অভিযোগ সমাজে নারীদের প্রতি আর্থিক শোষণ ও নির্ভরশীলতার জটিল বাস্তবতাকে নতুনভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।

মামলার বিষয়ে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো দাম্পত্য সম্পর্কে আর্থিক নিয়ন্ত্রণ বা সম্পদ থেকে বঞ্চিত করা যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কারও স্বাধীনতা সীমিত করে, তবে সেটি নির্যাতনের আওতায় পড়ে। সেলিনা যদি আদালতে তাঁর দাবি প্রমাণ করতে সক্ষম হন, তবে ভারতের আইনে এটি একটি নজিরবিহীন মামলা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

অন্যদিকে বলিউড অঙ্গনে সেলিনার এই অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রতিক্রিয়া ভিন্নরকম। কেউ কেউ তাঁর পাশে দাঁড়াচ্ছেন, আবার কেউ পুরো ঘটনা আদালতের ওপর ছেড়ে দিতে চান। তবে সাধারণ মানুষ ও ভক্তদের সহানুভূতিই বেশি চোখে পড়ছে। অনেকেই সেলিনাকে সাহসী নারী হিসেবে অভিহিত করছেন, যিনি নিজের অধিকারের জন্য লড়াই করতে পিছপা হননি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় তার পোস্টটি ব্যাপক আলোচিত হওয়ার পর অনেকেই মন্তব্য করেছেন—একজন পরিচিত অভিনেত্রী যখন নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে আনেন, তখন তা বহু নিপীড়িত নারীর কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠে। সমাজে যারা এমন সমস্যায় ভোগেন কিন্তু প্রকাশ করতে ভয় পান, তাদের জন্য সেলিনার সাহস অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারে।

এদিকে, মামলার অগ্রগতির বিষয়ে এখনো আদালতের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তদন্ত ও শুনানি শুরু হলে বিষয়টি বলিউড অঙ্গনে বড় আলোচনার জন্ম দিতে পারে। সেলিনা নিজেও জানিয়েছেন—এই মামলা কেবল ব্যক্তিগত লড়াই নয়; বরং যে ধরনের অন্যায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে সহ্য করেছেন, সেটির বিচার পাওয়াটাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।

বর্তমানে তিন সন্তানের মা সেলিনা জেটলি দীর্ঘদিন ধরেই বলিউডের বাইরে শান্ত জীবনযাপনের চেষ্টা করে আসছিলেন। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন তাঁকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। তবুও তিনি আশা হারাতে চান না। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট—অন্ধকারের মধ্যেও তিনি আলো খুঁজে পেতে চান, এবং নিজের সম্মান রক্ষার লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত অবিচল থাকবেন।

কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি দৃঢ়ভাবে জানান, “আমাকে বাঁচতেই হবে, আমাকে লড়তেই হবে।” তাঁর এই বার্তা শুধু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বর্ণনা নয়, বরং সমাজের বহু নারীর বাস্তব অভিজ্ঞতার প্রতিচ্ছবি। সেলিনার এই লড়াই শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়, তা এখন দেখার অপেক্ষা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত