৬০-এ নতুন প্রেম: জীবনের নতুন অধ্যায় আমির খানের

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৮৯ বার
৬০-এ নতুন প্রেম: জীবনের নতুন অধ্যায় আমির খানের

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ হিসেবে পরিচিত অভিনেতা আমির খান আবারও শিরোনামে, তবে এবার সিনেমা নয়—ব্যক্তিজীবনের এক মানবিক মুহূর্তকে ঘিরে। ছয় দশকের জীবন পার করে এসে নতুন করে প্রেমে পড়ার অভিজ্ঞতাকে তিনি নিজেই বর্ণনা করেছেন “অপ্রত্যাশিত” হিসেবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও আন্তর্জাতিক বিনোদন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারগুলোতে তিনি খোলামেলা ভাষায় জানিয়েছেন, তিনি কখনো ভাবেননি এই বয়সে এসে আবার এমন কাউকে তাঁর জীবনে খুঁজে পাবেন, যিনি তাঁকে নতুন করে স্থিরতা ও মানসিক প্রশান্তি এনে দেবেন।

কয়েক বছর আগে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী কিরণ রাও-এর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো আমির খানের জীবনের এই অধ্যায় এখানেই শেষ। দীর্ঘদিনের দাম্পত্য জীবনের ভাঙনের পর তিনি নিজেও ভেবেছিলেন, বাকি জীবন হয়তো একাকীত্বই তাঁর সঙ্গী হবে। কিন্তু সেই দৃশ্যপট বদলে দেন গৌরী স্প্র্যাট—একসময় যিনি আমির খানের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন, আর আজ তাঁর জীবনের সবচেয়ে কাছের মানুষদের একজন।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আমির খান বলেন, “আমি সত্যিই কখনো ভাবিনি যে, আমার জীবনে আবার এমন কাউকে পাব। আমার মনে হয়েছিল, বাকিটা পথ সম্ভবত আমাকে একাই চলতে হবে।” তাঁর কণ্ঠে ছিল অভিজ্ঞ জীবনের একধরনের শান্ত গ্রহণযোগ্যতা, যেখানে হারানোর বেদনা যেমন আছে, তেমনি নতুন পাওয়ার আনন্দও স্পষ্ট। তিনি বলেন, গৌরীর সঙ্গে পরিচয়ের পর তাঁর জীবনের ভেতরের অনেক অস্থিরতা শান্ত হয়ে যায়। “গৌরী আমার জীবনে স্থিরতা নিয়ে এসেছে”—এই বাক্যটিই যেন তাঁর নতুন জীবনের মূল সুর হয়ে উঠেছে।

এই সম্পর্ক প্রথমবার জনসমক্ষে আসে তাঁর ৬০তম জন্মদিনের অনুষ্ঠানে, যেখানে তিনি নিজেই গৌরীকে বন্ধু, সহকর্মী ও কাছের মানুষদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। সেই মুহূর্তটি ছিল অনেকের কাছেই বিস্ময়কর—কারণ বরাবরই ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব সংযত ছিলেন এই তারকা। কিন্তু এইবার যেন তিনি আর কিছু লুকিয়ে রাখতে চাননি। বরং, তাঁর কথাবার্তায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে জীবনের এই নতুন অধ্যায়কে তিনি সম্মানের সঙ্গেই সামনে আনতে চান।

আমির খানের জীবন মানেই শুধু সফল ক্যারিয়ার নয়, বরং আবেগ, ভাঙন, দায়বদ্ধতা আর নতুন করে দাঁড়ানোর গল্পও। তাঁর প্রথম স্ত্রী রিনা দত্ত-র সঙ্গে দাম্পত্য জীবন, এরপর কিরণ রাও-এর সঙ্গে দীর্ঘ পথচলা—দুটো সম্পর্কই শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হয়নি। তবে এই বাস্তবতাকে তিনি হতাশা হিসেবে নয়, বরং জীবনের স্বাভাবিক পরিক্রমা হিসেবে দেখেন। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তাঁর আগের দুটি বিয়ে টেকেনি—এটা সত্য, কিন্তু তাতে করে তাঁর জীবনে রিনা দত্ত বা কিরণ রাও-এর অবদান একটুও কমে যায় না। বরং তিনি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন, এমন দুই মানুষের সঙ্গে তাঁর জীবনের বড় একটি সময় কাটানোর সুযোগ পেয়েছেন।

এই স্বীকারোক্তির মধ্যেই উঠে আসে তাঁর পরিণত মানসিকতা ও জীবনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, রিনা, কিরণ ও গৌরী—তিনজনই তাঁর জীবনের তিনটি ভিন্ন অধ্যায়ের প্রতীক। প্রত্যেকেই তাঁকে কিছু না কিছু শিখিয়েছেন, তাঁকে মানুষ হিসেবে আরও পরিপূর্ণ হতে সাহায্য করেছেন। তারকা হয়েও এই ধরনের আত্মসমালোচনামূলক এবং সম্মানজনক বক্তব্য অনেকের কাছেই প্রশংসিত হয়েছে।

এই খবর শুধুমাত্র এক সুপারস্টারের প্রেমের গল্প নয়, বরং তা অনেক মানুষের জীবনের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে। বয়স বাড়লে কি প্রেম শেষ হয়ে যায়? জীবনে বড় ভাঙনের পর কি আবার নতুন করে বিশ্বাস করা যায়? আমির খানের এই অভিজ্ঞতা যেন সেই প্রশ্নগুলোর মানবিক উত্তর হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে মধ্যবয়সী কিংবা বয়স্ক মানুষের কাছে এই গল্প নতুন করে সাহস জোগাচ্ছে—জীবনে নতুন কিছু শুরু করার জন্য বয়স কখনোই চূড়ান্ত বাধা নয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যেই ভক্তদের নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ লিখেছেন, “আপনি সুখী থাকুন, সেটাই চাই।” কেউ আবার বলছেন, “এই সাহসটাই আপনাকে আলাদা করে।” আন্তর্জাতিক বিনোদনমাধ্যমগুলোতেও এই সম্পর্কের খবর ইতিবাচকভাবে উপস্থাপিত হয়েছে, যেখানে আমির খানের এই অধ্যায়কে ‘late-life love story’ বা জীবনের শেষভাগের এক আশাব্যঞ্জক প্রেম হিসেবে দেখানো হচ্ছে।

শেষ পর্যন্ত, এই গল্প কেবল তারকাজগতের একটি ব্যক্তিগত ঘটনা নয়, বরং এক মানবিক উপলব্ধি। যেখানে বলা হচ্ছে—জীবন কখনোই একরঙা নয়, ভালোবাসা কোনো সময়সীমার মধ্যে আবদ্ধ নয়, এবং সবচেয়ে অন্ধকার সময়ের পরেও আলো আসতে পারে। আমির খান-এর জীবনের এই নতুন অধ্যায় তাই শুধু তাঁর নিজের নয়, বরং অনেক মানুষের জন্য এক ধরনের নীরব অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত