৪০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে লাপাত্তা ‘ধামাকা শপিং’: গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের আর্তি

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৯ জুলাই, ২০২৫
  • ৩৩ বার
৪০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে লাপাত্তা ‘ধামাকা শপিং’: গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের আর্তি

প্রকাশ: ০৯ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশের ই-কমার্স খাতের এক সময়কার আলোচিত প্রতিষ্ঠান ‘ধামাকা শপিং’-এর বিরুদ্ধে ভয়াবহ আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে। ইনভ্যারিয়েন্ট টেলিকম বাংলাদেশ লিমিটেডের মালিকানাধীন এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আনুমানিক ৪০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ এনেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও গ্রাহকরা।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে আজ বুধবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা তাদের ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন। তারা জানান, ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত ধামাকা শপিং-এর সাথে ব্যবসায়িক চুক্তির ভিত্তিতে প্রায় ৫০০ জন উদ্যোক্তা এবং ৩ হাজারেরও বেশি গ্রাহক পণ্য সরবরাহ ও অর্ডারের মাধ্যমে লেনদেন চালিয়ে যাচ্ছিলেন। শুরুতে প্রতিষ্ঠানটি সময়মতো পণ্য সরবরাহ ও পেমেন্ট দিলেও মার্চের পর থেকে পেমেন্ট পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়, অথচ পণ্য সরবরাহ অব্যাহত থাকে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ধামাকাশপিং ডটকম তাদের উদ্বুদ্ধ করে বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও গ্রাহকের কাছ থেকে বিনিয়োগ ও অগ্রিম পেমেন্ট সংগ্রহ করে। তারা আশ্বস্ত করেন যে, প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হলেন দেশের স্বনামধন্য অর্থোপেডিক চিকিৎসক ও এভারকেয়ার হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মোজতবা আলী এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসএমডি জসিম উদ্দিন চিশতী, যিনি পরিচিত ব্যবসায়ী হিসেবে খ্যাত।

তবে বাস্তবে দেখা যায়, চুক্তি অনুযায়ী ব্যবসায়ীরা পণ্যের মূল্য পাননি এবং গ্রাহকদের পণ্য বা টাকাও ফেরত দেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীলদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ফল মেলেনি। ডা. মোজতবা আলীর বাসায় গিয়ে সাক্ষাৎ করতে না পেরে ইমেইল ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া মেলেনি।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ধামাকা শপিং-এর মালিকপক্ষ বারবার ভার্চুয়াল বৈঠক ও ফেসবুক লাইভে প্রতিশ্রুতি দিলেও তা কখনো বাস্তবায়ন হয়নি। কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বর্তমানে সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে পলাতক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং ও প্রতারণা সংক্রান্ত একাধিক মামলাও চলমান রয়েছে। বিশেষ করে ১১৬ কোটি টাকার মানি লন্ডারিং মামলায় তাদের নাম রয়েছে।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, ডা. মোজতবা আলী ক্ষমতাসীন দলের একাধিক প্রভাবশালী নেতার আত্মীয় ও বন্ধু পরিচয়ে প্রতারণার কাজ নির্বিঘ্নে চালিয়ে গেছেন। এসব পরিচয় ব্যবহার করে তিনি প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ থেকে নিজেদের আড়াল করে রেখেছেন এবং এই ফাঁকে বিপুল অবৈধ সম্পদ গড়ে তুলেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পূর্ববর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন দপ্তরে মানবিক সহায়তার আবেদন জানানো হলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। এখন বর্তমান সরকারের কাছে ন্যায্য পাওনা ফেরত পাওয়ার আকুতি জানান ভুক্তভোগীরা। তাদের বক্তব্য, চাকরি না করে উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে তারা ই-কমার্স ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছিলেন, সেই স্বপ্ন যেন প্রতারণার কারণে ধ্বংস না হয়।

সম্প্রতি ধামাকা শপিং-এর চেয়ারম্যান ডা. মুজতবা আলীকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে এখনো তার বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় অর্থ ফেরতের কোনো আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি হয়নি।

ধামাকা শপিং কেলেঙ্কারি ই-কমার্স খাতের বিশ্বাসযোগ্যতা ও ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের পরিবেশ নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। তাই এই প্রতারণার দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার এবং ভুক্তভোগীদের অর্থ ফেরতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত