কাজের অভাবে তারকারা বিদেশে যাচ্ছেন: মিশা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৯৪ বার
শিল্পীদের বিদেশ যাত্রার কারণ জানালেন মিশা সওদাগর

প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও বিনোদন শিল্পে সাম্প্রতিক সময়ের একটি গুরুতর প্রবণতা দেখা দিয়েছে। অনেকে স্থায়ীভাবে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন, কেউ আবার দেশের মাটিতে সীমিত সময় কাজ করে আবার চলে যাচ্ছেন। এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন চলচ্চিত্রশিল্পী সমিতির সভাপতি এবং জনপ্রিয় খল-অভিনেতা মিশা সওদাগর। সম্প্রতি এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে মিশা স্পষ্ট করে বলেন, কাজের সংকটই মূলত তারকাদের দেশ ত্যাগের প্রধান কারণ।

তিনি বলেন, “কাজ না থাকলে শিল্পীরা কী করবে? একসময় দিনে চার-পাঁচটি সিনেমার কাজ করেছি। সকাল সাতটা থেকে রাত দুইটা পর্যন্ত শুটিং চলতো। এখন এফডিসি প্রায় বন্ধ। সেই অবস্থায় শিল্পীদের জন্য দেশে কাজের সুযোগ খুবই সীমিত। যার ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে দেশের বাইরে যাচ্ছেন।” মিশা উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন—অমিত হাসান, মৌসুমী, ইমন, আলেকজান্ডার বো সহ অসংখ্য তারকা বর্তমানে বিদেশে কাজ করছেন। মাহিয়া মাহিও স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। তিনি আরও বলেন, “কাজ থাকলে কেউই বিদেশে যেত না।”

মিশা নিজেও ব্যক্তিগত জীবনের কারণে বছরের বড় সময় যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। তার পরিবার স্থায়ীভাবে সেখানে বসবাস করছে। তিনি বলেন, “আমরাও পরিবারের জন্য বিদেশে থাকার প্রয়োজন অনুভব করি। শিল্পীদের কাজ থাকুক বা না থাকুক, তাদের জীবনধারার অনেক খরচ আছে। চেহারা, পোশাক, গাড়ি, মোবাইল, ঘরের পরিবেশ—সবকিছুর একটা মান বজায় রাখতে হয়। কিন্তু কাজ না থাকলে আয় বন্ধ হয়, তখন তারা কী করবে?”

অভিনেতা ব্যাখ্যা করেন যে, শিল্পীরা পরিবার, জীবিকা এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে বিদেশে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, “বিদেশে গেলে অন্তত স্থায়ীভাবে কাজ পাওয়া যায় এবং পরিবারের জীবনযাত্রা চালানো সম্ভব। তাই অনেকেই বাধ্য হয়ে দেশ ছাড়ছেন। এটা তাদের দোষ নয়, পরিস্থিতির চাপের ফল।”

মিশা সওদাগর মনে করেন, স্থানীয় চলচ্চিত্র ও বিনোদন শিল্পে কাজের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে তারকারা আবার দেশে ফিরে আসবেন। তিনি বলেন, “আমাদের শিল্পীরাই দেশের সংস্কৃতি ও বিনোদন শিল্পকে সমৃদ্ধ করে। যদি সুযোগ থাকে, তারা নিশ্চয়ই দেশের মাটিতে কাজ করতে ইচ্ছুক। কাজের সুযোগ বাড়লেই বিদেশে থাকা তারকারাও ফিরবেন।”

এদিকে, শিল্পীদের বিদেশে যাওয়া কেবল কাজের সংকটের কারণে নয়, বরং বাংলাদেশের বিনোদন শিল্পের অভ্যন্তরীণ সমস্যারও প্রতিফলন। শুটিং সেশন, নতুন সিনেমার প্রযোজনা, আর্থিক প্রণোদনা এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা—সব মিলিয়ে শিল্পীদের জন্য দেশের ভেতরে কাজের সুযোগ কমে গেছে। মিশা বলেন, “যখন শিল্পীদের জন্য কাজের পরিবেশ সৃষ্ট হবে, নতুন প্রজেক্ট, প্রযোজনা বাড়বে, তখন এই প্রবণতা কমবে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “বিদেশে যাওয়া মানে দেশের প্রতি অবজ্ঞা নয়। বরং এটা তারকারা বেঁচে থাকার জন্য, পরিবারকে স্বচ্ছল রাখার জন্য করা বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্ত। যারা দেশ ত্যাগ করেছেন, তারা সেই প্রক্রিয়ায় নিরাপদ জীবন, কাজের নিশ্চয়তা এবং পরিবারের জন্য আর্থিক স্থিতিশীলতা খুঁজছেন।”

বাংলাদেশের বিনোদন খাত দীর্ঘদিন ধরে একাধিক সমস্যার মুখোমুখি। সিনেমা হল সংকট, প্রযোজনার অভাব, শিল্পীদের পেশাগত নিরাপত্তাহীনতা এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা—এসব কারণে দেশের তারকাদের আন্তর্জাতিক বাজারে কাজের সুযোগের দিকে ঝুঁকতে হচ্ছে। মিশা বিশ্বাস করেন, স্থানীয় শিল্পে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নতুন প্রজেক্ট এবং পেশাগত সুযোগ সম্প্রসারণ এই সমস্যার সমাধান করতে পারে।

মিশা সওদাগরের বক্তব্য অনুরূপ শিল্পী ও সাধারণ দর্শকদের মধ্যে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, দেশের বিনোদন শিল্পকে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করতে স্থানীয় পর্যায়ে কাজের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শুধুমাত্র শিল্পীদের জন্য নয়, দেশের সংস্কৃতি, অর্থনীতি এবং সামাজিক প্রভাবও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

চলচ্চিত্রশিল্পী মিশা সওদাগরের দৃষ্টিতে, শিল্পীদের দেশ ছাড়ার প্রবণতা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া যা বর্তমান পরিস্থিতির ফল। তবে তিনি আশাবাদী যে, সঠিক পদক্ষেপ, কাজের সুযোগ বৃদ্ধি এবং শিল্পীর পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করলে তারা আবার দেশে ফিরে আসবেন এবং বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও বিনোদন শিল্পকে পুনরায় সমৃদ্ধ করবেন।

শিল্পীদের বিদেশে যাওয়ার পেছনের এই বাস্তবতা প্রকাশ করে দেশের বিনোদন শিল্পের ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। মিশার মতে, দেশের শিল্পীরাই দেশের সংস্কৃতি ও বিনোদন শিল্পের মূল স্তম্ভ, তাদের সুযোগ সৃষ্টি করা না হলে শিল্পের ধারা স্থিতিশীল রাখা সম্ভব নয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত