ক্রেডিট কার্ড, সঞ্চয়পত্র কেনাসহ ১৩ সেবায় রিটার্নের ঝামেলা শেষ

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই, ২০২৫
  • ৪২ বার

প্রকাশ : ১০ জুলাই | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

কর প্রদানে স্বচ্ছতা ও পরিপূর্ণতা নিশ্চিত করতে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা দীর্ঘদিন ধরেই নাগরিক জীবনের এক অনিবার্য অংশ হয়ে উঠেছে। তবে এবার করদাতাদের জন্য স্বস্তির খবর নিয়ে এলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন অর্থবছর থেকে দেশের সাধারণ নাগরিকদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে আর আয়কর রিটার্নের প্রমাণপত্র দেখানোর শর্ত থাকছে না।

একটি সময় ছিল যখন ব্যাংক থেকে সঞ্চয়পত্র কেনা, মেয়াদি আমানত খোলা বা ক্রেডিট কার্ড নেওয়ার মতো সাধারণ আর্থিক কর্মকাণ্ডেও করদাতাকে শেষ অর্থবছরের রিটার্নের প্রমাণ দেখাতে হতো। এতে যেমন ভোগান্তি বাড়ত, তেমনি অনেকে নিরুৎসাহিত হতেন এসব সেবা গ্রহণে। এবার এনবিআর ১৩টি সেবার ক্ষেত্রে রিটার্নের শর্ত শিথিল করে নাগরিকদের জন্য প্রক্রিয়াটি সহজ ও ঝামেলামুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্র কেনার জন্য কোনো প্রকার রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র লাগবে না। একইভাবে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত মেয়াদি আমানত বা এফডিআর খুলতে গেলে আর ব্যাংক কর্মকর্তাকে আলাদা করে রিটার্নের কাগজ দেখাতে হবে না। ফলে যারা সীমিত আয়ের মানুষ, তারা সহজেই সঞ্চয়ের সুযোগ কাজে লাগাতে পারবেন।

এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে ক্রেডিট কার্ড নিতে বা নবায়ন করতে হলে করদাতাকে রিটার্নের কাগজপত্র দেখাতে হতো। অনেক সময় স্বল্প আয়ের চাকরিজীবী বা ছোট ব্যবসায়ীরা এই কারণে কার্ড সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতেন। এবার সেই বাধ্যবাধকতা উঠে গেছে। একইভাবে সিটি করপোরেশন বা পৌরসভা এলাকায় নতুন ট্রেড লাইসেন্স নেওয়ার ক্ষেত্রেও আর এই প্রমাণপত্র লাগবে না।

যারা সমবায় সমিতি নিবন্ধন করতে চান, সাধারণ বিমার তালিকাভুক্ত সার্ভেয়ার হিসেবে নতুন লাইসেন্স নিতে চান কিংবা কোনো স্বীকৃত পেশাজীবী সংগঠন যেমন ডাক্তার, আইনজীবী, প্রকৌশলী বা চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে সদস্যপদ পেতে চান, তারাও এবার থেকে এ সুবিধার আওতায় পড়বেন।

পোস্ট অফিসের সঞ্চয়ী হিসাব যারা পাঁচ লাখ টাকার বেশি অঙ্কে খুলতে চান, তাদের ক্ষেত্রেও রিটার্নের বাধ্যবাধকতা শিথিল করা হয়েছে। একইভাবে এমপিওভুক্তি পেয়ে সরকারের কাছ থেকে দশম গ্রেড বা তার ঊর্ধ্ব পদমর্যাদার কর্মকর্তা-কর্মচারীর আর্থিক প্রাপ্তি, মোবাইল ব্যাংকিং বা মোবাইল রিচার্জের মাধ্যমে কমিশন বা ফি প্রাপ্তি, স্ট্যাম্প ভেন্ডর বা দলিল লেখক হিসেবে লাইসেন্স ও তালিকাভুক্তি—সব ক্ষেত্রেই রিটার্ন জমার প্রমাণ আর প্রয়োজন হবে না।

ত্রিচক্র মোটরযান নিবন্ধন, মালিকানা পরিবর্তন বা ফিটনেস নবায়ন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ই-কমার্স ব্যবসার লাইসেন্স গ্রহণের সময়ও এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে। ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, ফ্রিল্যান্সার ও ডিজিটাল উদ্যোক্তারা আরও সহজে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।

করদাতাদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে নেওয়া এই সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের আর্থিক কর্মকাণ্ড যেমন সহজ হবে, তেমনি নতুন করদাতা তৈরিতে উৎসাহ জোগাবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। দেশের রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ধরে রেখেই জনগণকে আর্থিক কার্যক্রমে আগ্রহী করতে এনবিআরের এমন পদক্ষেপ ইতিবাচক বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত