প্রকাশ: ১১ জুলাই, ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
চট্টগ্রাম নগরের কর্ণফুলী রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (কেইপিজেড) অবস্থিত একটি ফোম ও অ্যাক্সেসরিজ কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দুপুরে আকস্মিকভাবে এই আগুনের সূত্রপাত ঘটে, যা মুহূর্তের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে পুরো কারখানায়। প্রায় তিন ঘণ্টার নিরলস প্রচেষ্টার পর ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তবে এখন পর্যন্ত আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানানো হয়নি।
দুপুর ২টা ৫১ মিনিটে কর্ণফুলী ইপিজেডের ‘জ্যান্ট অ্যাক্সেসরিজ’ নামের ফ্যাক্টরিতে আগুনের সূত্রপাত ঘটে বলে নিশ্চিত করেছে চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের বিভাগীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। আগুনের ভয়াবহতা বুঝতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে ইপিজেড ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিটসহ কর্ণফুলী ও আগ্রাবাদ ফায়ার স্টেশন থেকে অতিরিক্ত ছয়টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। মোট আটটি ইউনিট দ্রুততম সময়ের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে এবং সন্ধ্যার কিছু আগেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়।
ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত টেলিফোন অপারেটর মোজাম্মেল জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ফ্যাক্টরির ভেতরের দাহ্য বস্তু এবং ফোমজাত পণ্যের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে আগুন লাগার কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ তদন্ত সাপেক্ষে নিশ্চিত করা হবে।
অগ্নিকাণ্ডের ফলে পুরো কারখানা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আশপাশের অন্য কারখানা ও কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যেও চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়। তাৎক্ষণিকভাবে কারখানাটি থেকে কর্মচারীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিস।
জানা গেছে, জ্যান্ট অ্যাক্সেসরিজ নামের এই কারখানাটি মূলত ফোমজাত পণ্য, গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ ও প্লাস্টিক জাতীয় সামগ্রী উৎপাদন করে থাকে। কারখানায় প্রচুর পরিমাণে দাহ্য উপাদান থাকায় আগুন দ্রুত বিস্তৃত হয় এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। আগুন লাগার ফলে কারখানার একটি বড় অংশের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ফায়ার সার্ভিস ও কেইপিজেড কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে, এই অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় কেইপিজেড কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসন এবং ফায়ার সার্ভিসের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি তদারকি করেছেন। আগুন পুরোপুরি নির্বাপিত হওয়ার পর তদন্ত শুরু করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এই ঘটনায় পুনরায় প্রমাণিত হলো, দেশের শিল্পাঞ্চলগুলোতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জরুরি মুহূর্তে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা কতটা জরুরি। একইসাথে শ্রমিক নিরাপত্তা, আগুন প্রতিরোধে পর্যাপ্ত সরঞ্জাম এবং সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়টিও আবারও আলোচনায় এসেছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং কারখানাটির অগ্নি নিরাপত্তা সংক্রান্ত পূর্বের কোনো ত্রুটি বা অবহেলা থাকলে তাও খতিয়ে দেখা হবে।
সাধারণ জনগণ ও স্থানীয় বাসিন্দারা এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নিয়মিত তদারকির দাবি জানিয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের সময়োচিত পদক্ষেপ এবং নিরলস পরিশ্রম প্রসংশিত হলেও, শিল্পাঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী অগ্নি প্রতিরোধ পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তাও আবারও সামনে চলে এসেছে।