বাংলাদেশের ভেন্যু বদল নিয়ে অনিশ্চয়তা, আইসিসির দিকেই তাকিয়ে ভারত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৫ বার
বিসিসিআইয়ের সচিব সাইকিয়া

প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে বাংলাদেশের ম্যাচগুলোর ভেন্যু পরিবর্তন নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। বিশেষ করে ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও লজিস্টিক বিষয় ঘিরে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে এ নিয়ে ভারতের ক্রিকেট বোর্ড বোর্ড অব ক্রিকেট কন্ট্রোল অব ইন্ডিয়া (বিসিসিআই) এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা বা আপডেট পায়নি বলে জানিয়েছেন বোর্ডটির সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া।

ভারতের শীর্ষ এই ক্রিকেট কর্মকর্তা স্পষ্ট করে বলেছেন, বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ম্যাচগুলোর ভেন্যু পরিবর্তনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এখনো বিসিসিআইকে কিছু জানায়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি মূলত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও আইসিসির মধ্যকার একটি বিষয়, যেখানে আয়োজক হিসেবে বিসিসিআই কেবল আইসিসির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে।

আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করছে ভারত ও শ্রীলঙ্কা। বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত সংস্করণের এই মহাযজ্ঞ ঘিরে ইতোমধ্যে দুই আয়োজক দেশে প্রস্তুতির তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে। তবে এর মধ্যেই বাংলাদেশের ম্যাচের ভেন্যু নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, যখন বিসিবি নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে নিজেদের ম্যাচ ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের অনুরোধ জানিয়ে আইসিসিকে একটি চিঠি পাঠায়।

বিসিবির এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং তার সম্ভাব্য প্রভাব। বিসিবি মনে করছে, এমন পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও সমর্থকদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়া উচিত। সে কারণেই তারা আইসিসির কাছে বিকল্প ভেন্যু হিসেবে শ্রীলঙ্কার নাম প্রস্তাব করেছে। বিসিবি পরে এক বিবৃতিতে জানায়, আইসিসি তাদের চিঠির জবাব দিয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে।

এই খবর প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোতে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো আদৌ ভারতে হবে কি না, তা নিয়ে নানা সম্ভাবনার কথা উঠে আসে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) ক্রিকেটভিত্তিক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ক্রিকবাজে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, আইসিসি বাংলাদেশের ম্যাচগুলোর জন্য বিকল্প ভেন্যু বিবেচনা করছে। তবে সেই প্রতিবেদনে এটাও উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের ম্যাচ পুরোপুরি ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় নেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

ক্রিকবাজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যদি ভেন্যু পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তবে তা হতে পারে ভারতের ভেতরেই। আগে নির্ধারিত কলকাতা ও মুম্বাইয়ের পরিবর্তে দক্ষিণ ভারতের চেন্নাই ও কেরালার তিরুবনন্তপুরম (ত্রিভান্দ্রম)কে সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই দুটি শহর তুলনামূলকভাবে কম রাজনৈতিক উত্তেজনাপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাও তুলনামূলক সহজ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে এই সব জল্পনা-কল্পনার বিষয়ে বিসিসিআই পুরোপুরি অজ্ঞাত থাকার কথা জানিয়েছে। দেবজিৎ সাইকিয়া বার্তাসংস্থা আইএএনএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, বাংলাদেশের ম্যাচ চেন্নাই বা অন্য কোনো শহরে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বিসিসিআইয়ের সঙ্গে এখনো কোনো ধরনের যোগাযোগ করা হয়নি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এটি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরের বিষয়।

সাইকিয়ার ভাষায়, “বাংলাদেশের ম্যাচের ভেন্যু পরিবর্তন নিয়ে বিসিসিআইয়ের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। এটি পুরোপুরি বিসিবি ও আইসিসির মধ্যকার বিষয়, কারণ আইসিসিই বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। যদি আইসিসি আমাদের জানায় যে ভেন্যু পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তাহলে আয়োজক হিসেবে বিসিসিআই প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি ও ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কিন্তু এই মুহূর্তে আমরা এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানি না এবং কোনো সিদ্ধান্তের অংশও নই।”

এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, আয়োজক দেশ হিসেবে ভারত এখনো আইসিসির আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। একই সঙ্গে এটি বোঝায়, ভেন্যু পরিবর্তন নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি এবং বিষয়টি আলোচনার স্তরেই রয়েছে।

বর্তমান সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশের বিশ্বকাপ মিশন শুরু হওয়ার কথা কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ইডেন গার্ডেন্সে। ৭ ফেব্রুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করবে টাইগাররা। এরপর একই ভেন্যুতে ৯ ফেব্রুয়ারি ইতালির বিপক্ষে এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের আরও দুটি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে নেপালের মুখোমুখি হওয়ার কথা বাংলাদেশের।

ইডেন গার্ডেন্স ও মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম—দুটি ভেন্যুই ক্রিকেট ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই মাঠগুলোতে খেলার অভিজ্ঞতা যেমন রোমাঞ্চকর, তেমনি দর্শক সমর্থনও বিপুল। তবে নিরাপত্তা ইস্যু সামনে আসায় ভেন্যু নিয়ে নতুন করে ভাবনার অবকাশ তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আইসিসি সাধারণত এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে একাধিক দিক বিবেচনা করে। শুধু নিরাপত্তা নয়, সম্প্রচার, টিকিট বিক্রি, স্পনসর স্বার্থ এবং দর্শক উপস্থিতিও বড় বিষয়। তাই হুট করে ভেন্যু পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ নয়। বিশেষ করে বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে সূচি ও ভেন্যু নির্ধারণ অনেক আগেই চূড়ান্ত করা হয়।

বাংলাদেশ দলের দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ভিন্ন ভিন্ন ভেন্যু মানে ভিন্ন কন্ডিশন, যা খেলোয়াড়দের প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। কলকাতা ও মুম্বাইয়ের উইকেটের সঙ্গে চেন্নাই বা তিরুবনন্তপুরমের উইকেটের পার্থক্য স্পষ্ট। ফলে ভেন্যু পরিবর্তন হলে কৌশলগত দিক থেকেও নতুন করে ভাবতে হতে পারে টিম ম্যানেজমেন্টকে।

সব মিলিয়ে বাংলাদেশের ম্যাচের ভেন্যু পরিবর্তন নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তা এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়েছে। বিসিবি তাদের উদ্বেগ আইসিসির কাছে তুলে ধরেছে, আইসিসি বিষয়টি পর্যালোচনার আশ্বাস দিয়েছে, আর বিসিসিআই জানিয়েছে তারা এখনো কিছু জানে না। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত যে আইসিসিই নেবে, সেটাই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে পরিষ্কার বার্তা। বিশ্বকাপ শুরুর আগে এই বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত আসে, সেটির দিকেই তাকিয়ে আছে ক্রিকেট বিশ্ব।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত