২০২২ বিশ্বকাপে মেসির আর্জেন্টিনাও এত অর্থ পায়নি, যত অর্থ চেলসি পেয়েছে ক্লাব বিশ্বকাপ জিতে।

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৪ জুলাই, ২০২৫
  • ৪৩ বার
২০২২ বিশ্বকাপে মেসির আর্জেন্টিনাও এত অর্থ পায়নি, যত অর্থ চেলসি পেয়েছে ক্লাব বিশ্বকাপ জিতে।

প্রকাশ: ১৪ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বিশ্বজুড়ে ফুটবলভক্তদের চোখ ছিল নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের দিকে। কারণ ২০২৫ সালের ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ইউরোপিয়ান পরাশক্তি প্যারিস সেন্ট জার্মেইন (পিএসজি) এবং ইংলিশ জায়ান্ট চেলসি। ম্যাচ শেষে সবার আলোচনার কেন্দ্রে কেবল একটি নাম—চেলসি। আর এর পেছনে কেবলই নয়নজুড়ানো খেলা নয়, বরং বিশাল এক আর্থিক প্রাপ্তির গল্পও লুকিয়ে আছে।

চেলসি ফাইনালে পিএসজিকে ৩-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে শুধু শিরোপা জেতেনি, সঙ্গী করেছে বিশাল অঙ্কের প্রাইজমানি। এমনকি ২০২২ সালের বিশ্বকাপজয়ী লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাও যা পায়নি, সেই তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি অর্থ পেয়েছে ক্লাবটি। আর এখানেই তৈরি হয়েছে এক নতুন আলোচনার সূত্রপাত।

কাতারে অনুষ্ঠিত ২০২২ বিশ্বকাপে মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা ফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল। সেই শিরোপার পুরস্কার হিসেবে দক্ষিণ আমেরিকান দলটি পেয়েছিল ৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা সে সময়কার বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় দাঁড়ায় প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা। কিন্তু এবার ক্লাব বিশ্বকাপ জিতে চেলসি পেয়েছে পুরো ১১৩ মিলিয়ন ডলার, বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১ হাজার ৩৩৭ কোটি!

শুধু জয়ী হওয়াই নয়, এই বিশাল অঙ্কের মধ্যে ছিল অংশগ্রহণ বোনাস ও পারফরম্যান্স ইনসেনটিভ। ফিফার নতুন ক্লাব বিশ্বকাপ ফরম্যাট অনুযায়ী, প্রতিটি দল অংশগ্রহণের জন্য পেয়েছে প্রায় ২৮ মিলিয়ন ডলার। বাকি অর্থ এসেছে গ্রুপ পর্বে জয়, নকআউটে উত্তরণ, সেমিফাইনাল পার হওয়া এবং শিরোপা জেতার ফলে। শুধু ফাইনাল জয়ের পরই চেলসির অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে সরাসরি ৪০ মিলিয়ন ডলার।

তবে ফাইনালে হারলেও ফরাসি ক্লাব পিএসজি একেবারে খালি হাতে ফিরছে না। ক্লাবটির প্রাপ্তি ১০৬ মিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১,২৮৬ কোটি। অর্থাৎ চ্যাম্পিয়ন না হয়েও বিশ্বকাপজয়ী একটি দেশের প্রাপ্তির তুলনায় পিএসজির আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

এখানেই শেষ নয়। ক্লাব বিশ্বকাপের বাকি দুই সেমিফাইনালিস্ট দল রিয়াল মাদ্রিদ ও ফ্লুমিনেন্সের আয়ও তুলনামূলকভাবে বিস্ময়কর। রিয়াল, যারা সেমিতে পিএসজির কাছে হেরে বাদ পড়ে, তাদের আয় হয়েছে প্রায় ৮৯.৭ মিলিয়ন ডলার, আর ব্রাজিলিয়ান ক্লাব ফ্লুমিনেন্স পেয়েছে ৬৮ মিলিয়ন ডলার। দু’দলের এই আয়ও ২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার চেয়ে অনেক বেশি।

বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে যতই আবেগ থাকুক না কেন, ক্লাব পর্যায়ের এই বিশ্বমঞ্চ যেন ধীরে ধীরে আরও বেশি অর্থের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে। আয়, সম্প্রচার অধিকার, বাণিজ্যিক চুক্তি ও বিজ্ঞাপনী আয় মিলিয়ে ক্লাব ফুটবলের আসরগুলো জাতীয় দলের আসরের চেয়ে অনেক বেশি লাভজনক হয়ে উঠছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফিফার পক্ষ থেকে ক্লাব বিশ্বকাপের সম্প্রসারিত সংস্করণ চালু হওয়ার পর থেকেই অর্থের ঝাঁপিতে বিপুল পরিবর্তন এসেছে। এই অর্থনৈতিক সুবিধা শুধু বড় ক্লাবগুলোরই নয়, বরং ফুটবল কাঠামোর নানাদিকে ছড়িয়ে পড়ছে এর প্রভাব।

চেলসির এই জয়ে যেমন কোচ এন্টসো মারেস্কা পেলেন মর্যাদার দ্বিতীয় শিরোপা, তেমনি মালিকপক্ষের জন্য এটি বাণিজ্যিকভাবে একটি সুবর্ণ অর্জন। আর খেলোয়াড়দের তো প্রশ্নই ওঠে না—তাদের নাম এখন ফুটবল ইতিহাসের পাতায় নতুন এক জায়গা করে নিয়েছে।

এই টুর্নামেন্টের আর্থিক সাফল্য ও প্রতিযোগিতার উত্তেজনা মিলিয়ে অনেকেই ধারণা করছেন, ভবিষ্যতের ক্লাব বিশ্বকাপ আরও বড় ও আরও ব্যয়বহুল আকার ধারণ করবে। প্রশ্ন হচ্ছে—এর সঙ্গে কি একদিন জাতীয় দলের বিশ্বকাপও টিকতে পারবে?

ফুটবল যেমন আবেগের খেলা, তেমনি এটি এখন অর্থনীতিরও বিশাল এক অধ্যায়। আর চেলসি-ভিএস-পিএসজি ফাইনাল তা আবারও প্রমাণ করলো—শুধু মাঠে নয়, মাঠের বাইরেও খেলা চলছে, অনেক বড় অঙ্কের।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত