প্রকাশ: ১৪ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
নারী ফুটবলে দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দুটি দলের লড়াইয়ে শেষ হাসি হেসেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় রুদ্ধশ্বাস ও নাটকীয়তায় ভরা এক ম্যাচে শক্তিশালী নেপালকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েছে লাল-সবুজের মেয়েরা।
ম্যাচের শুরু থেকে বাংলাদেশের মেয়েরা আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে শুরু করলেও দ্বিতীয়ার্ধে দলে একজন কম থাকায় প্রতিপক্ষের চাপে পড়ে তারা। তবে শেষ বাঁশির আগ মুহূর্তে তৃষ্ণা রানীর এক দুর্দান্ত গোলে নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের জয়।
প্রথমার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণের ঢেউ তোলে স্বপ্না, সাগরিকা ও শিখাদের নিয়ে গড়া বাংলাদেশ। ১২তম মিনিটে বাঁ দিক থেকে সাগরিকার দুর্দান্ত মুভ থেকে শিখার শট নেপালের গোলরক্ষক ফিরিয়ে দিলে ফিরতি বলে আবার গোল করেন শিখা। এরপর ৩৭ মিনিটে আরও এক গোল করে ব্যবধান বাড়ান সাগরিকা, যখন শিখার নেওয়া শট ফেরত এলে বলটি ঠেলেই জালে জড়ান তিনি।
প্রথমার্ধের খেলা শেষে ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে প্রবল উত্তেজনার সূচনা ঘটে। ম্যাচের ৫৪তম মিনিটে নেপালি ডিফেন্ডার সিমরান রায়ের একটি আগ্রাসী ট্যাকলে সাগরিকা পড়ে গেলে দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। মাঠে তখন উত্তেজনার পারদ চড়তে থাকে। সিমরান চুল টেনে ধরেন সাগরিকাকে, পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সাগরিকাও জড়িয়ে পড়েন বিবাদে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সতীর্থরা এগিয়ে এলেও ম্যাচ রেফারি দুই ফুটবলারকেই লাল কার্ড দেখান। দুই দলই নামে ১০ জন করে খেলোয়াড় নিয়ে। এরপর যেন বদলে যায় ম্যাচের রং। বাংলাদেশ দলের ছন্দ কিছুটা ভেঙে পড়ে এবং সেই সুযোগেই ম্যাচে ফিরতে শুরু করে নেপাল।
৭৬ মিনিটে নেপাল একটি পেনাল্টি পায়। আনিশা রায়ের স্পট কিক গোললাইনে বাংলাদেশকে পেছনে ফেলে দেয়। ১০ মিনিট পর কাউন্টার অ্যাটাকে এসে সমতা ফেরান মীনা দেবুবা। তখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটি ড্রয়ের দিকেই যাচ্ছে।
তবে নাটকীয়তার ছিল আরও এক পর্ব। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের প্রাক্কালে ডান দিক থেকে উমেলা মারমার দারুণ একটি ক্রসে বল পান তৃষ্ণা রানী। বিপক্ষের দুই ডিফেন্ডার এবং গোলরক্ষককে দুর্দান্তভাবে ফাঁকি দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। মুহূর্তেই উল্লাসে ফেটে পড়ে গ্যালারি, নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের জয়।
কোচ পিটার বাটলার এদিন দলের একাদশে আনেন দুটি পরিবর্তন। রুপা আক্তার ও উমেলা মারমার জায়গায় সুযোগ পান বর্ণা খাতুন ও শাস্তি মারডি। দলে পরিবর্তন এলেও আক্রমণের ধার ছিল অক্ষুণ্ণ। যদিও রক্ষণভাগ মাঝে মধ্যে কিছু ভুল করেছে, তবুও শেষ পর্যন্ত নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয় স্বাগতিকরা।
ম্যাচ শেষে জয়সূচক গোলদাতা তৃষ্ণা রানী জানান, “শেষ মুহূর্তে গোল করে দলকে জয় এনে দিতে পেরে খুব ভালো লাগছে। প্রথমার্ধে আমরা এগিয়ে ছিলাম, তবে দ্বিতীয়ার্ধে প্রতিপক্ষ সমতায় ফিরেছে, সেই সময় আমরা মানসিকভাবে চাপে ছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পেরে খুবই আনন্দিত।”
এই জয়ের ফলে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল আবারও নিজেদের দৃঢ়তা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মানসিকতা প্রমাণ করলো। পরবর্তী ম্যাচে আগামীকাল বিকাল ৩টায় মাঠে নামবে লাল-সবুজের মেয়েরা, প্রতিপক্ষ ভুটান। এখন সবার নজর থাকবে কীভাবে পরের ম্যাচে নিজেদের ধারাবাহিকতা ধরে রাখে বাংলাদেশ।