নির্বাচন গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধ্যায়: সুলতান মাহমুদ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৬ বার
নির্বাচন গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ

প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নির্বাচন কোনো সাধারণ ভোট আয়োজন নয়; এটি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়—এমন মন্তব্য করেছেন দৈনিক আমার দেশ-এর ডেপুটি এডিটর সুলতান মাহমুদ। তিনি বলেন, এই সংবেদনশীল সময়ে সাংবাদিকদের ভূমিকা ও দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সঠিক, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাই পারে জনগণের আস্থা বজায় রাখতে এবং গণতন্ত্রকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে।

বরিশালে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) উদ্যোগে এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় দুই দিনব্যাপী নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা বিষয়ক প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার সকালে বরিশাল প্রেস ক্লাবের সভাকক্ষে শুরু হওয়া এই প্রশিক্ষণে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার অর্ধশতাধিক সংবাদকর্মী অংশ নেন। নির্বাচন সামনে রেখে সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ আরও শানিত করতেই এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে বলে আয়োজকরা জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুলতান মাহমুদ বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে একটি সংবাদ কিংবা একটি শিরোনামও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ভুল তথ্য, গুজব বা পক্ষপাতদুষ্ট সংবাদ শুধু একটি প্রার্থীকেই নয়, পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াকেই প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের লেখনী ও প্রচারিত তথ্য অনেক সময় জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এই সময়ে সাংবাদিকদের আরও সতর্ক, সংবেদনশীল ও দায়িত্বশীল হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন একটি জাতির জন্য পরীক্ষার সময়। এই পরীক্ষায় সাংবাদিকরা যেন কোনোভাবেই পক্ষপাতিত্ব বা অযাচিত প্রভাবের অংশ না হন। বরং সত্য, তথ্যনির্ভরতা ও ন্যায্যতার ওপর দাঁড়িয়ে সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। তাঁর মতে, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও সচেতন সাংবাদিকরাই জনগণ ও রাষ্ট্রের মধ্যে আস্থার সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে পারেন। এই আস্থা ছাড়া গণতন্ত্র টেকসই হয় না।

সুলতান মাহমুদ বলেন, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্যের প্রবাহ খুব দ্রুত। কিন্তু এই দ্রুততার সঙ্গে সঙ্গে ভুল তথ্য ও গুজবও সমানতালে ছড়িয়ে পড়ছে। নির্বাচনকালীন সময়ে এসব গুজব পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করতে পারে, সহিংসতার জন্ম দিতে পারে এবং ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে মূলধারার গণমাধ্যম ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকদের ভূমিকা আরও বেশি প্রয়োজনীয় হয়ে ওঠে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিআইবির সমন্বয়ক জিলহাজ উদ্দিন নিপুন। তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা একটি বিশেষায়িত ক্ষেত্র, যেখানে সাধারণ সময়ের তুলনায় ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ বেশি থাকে। তথ্য যাচাই, সূত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা, আইনগত সীমাবদ্ধতা এবং নিরাপত্তার বিষয়গুলো মাথায় রেখে কাজ করতে হয়। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সাংবাদিকদের সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বরিশাল প্রেস ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হুমায়ুন কবির বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচন কাভার করতে গিয়ে সাংবাদিকরা নানা ধরনের চাপ ও প্রভাবের মুখে পড়েন। কখনো রাজনৈতিক চাপ, কখনো সামাজিক চাপ আবার কখনো ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রশ্ন সামনে আসে। এসব পরিস্থিতিতে পেশাদারিত্ব বজায় রেখে কাজ করা সহজ নয়। তবে প্রশিক্ষণ ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সাংবাদিকরা এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারেন।

বরিশাল জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান হিরা বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি। সাংবাদিকরা যদি ভয় বা চাপের মধ্যে থাকেন, তাহলে সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই প্রশিক্ষণ সাংবাদিকদের আত্মবিশ্বাস ও পেশাগত দৃঢ়তা বাড়াতে সহায়ক হবে।

বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন, নির্বাচন ঘিরে মাঠপর্যায়ে রিপোর্টিং করতে গিয়ে সাংবাদিকদের নানা বাস্তব অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়। ভোটকেন্দ্র, প্রার্থী ও ভোটারের সঙ্গে সরাসরি কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়। এসব ক্ষেত্রে কীভাবে পেশাদার আচরণ বজায় রাখতে হবে, তা এই ধরনের প্রশিক্ষণ থেকেই শেখা সম্ভব।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বরিশাল জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আযাদ আলাউদ্দীন। তিনি বলেন, সাংবাদিকতা শুধু পেশা নয়, এটি একটি দায়িত্ব। বিশেষ করে নির্বাচনকালীন সময়ে এই দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়। তিনি প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া সাংবাদিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও আগ্রহের প্রশংসা করেন।

প্রশিক্ষণের প্রথম দিনে নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতার নীতিমালা, আচরণবিধি, তথ্য যাচাইয়ের কৌশল, গুজব শনাক্তকরণ এবং ভোটসংক্রান্ত আইনি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। প্রশিক্ষকরা বাস্তব উদাহরণ তুলে ধরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকরাও নিজেদের অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন, যা আলোচনা আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া একাধিক সংবাদকর্মী বলেন, নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা নিয়ে এমন প্রশিক্ষণ সময়োপযোগী। তারা মনে করেন, মাঠে কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় যে দ্বিধা বা বিভ্রান্তি তৈরি হয়, এই প্রশিক্ষণ তা দূর করতে সহায়ক হবে। বিশেষ করে নতুন সাংবাদিকদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শেখার সুযোগ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের পেছনে প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি গণমাধ্যমের ভূমিকা অনস্বীকার্য। সাংবাদিকরা যদি দায়িত্বশীলভাবে তথ্য উপস্থাপন করেন, তাহলে ভোটাররা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। অন্যদিকে দায়িত্বহীন সংবাদ পরিবেশন গণতন্ত্রকে দুর্বল করে দিতে পারে।

সব মিলিয়ে, বরিশালে পিআইবির এই প্রশিক্ষণ শুধু একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়; এটি নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতার মান উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। সুলতান মাহমুদের বক্তব্যে উঠে আসা বার্তাই যেন এই আয়োজনের মূল সুর—নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধ্যায়, আর সেই অধ্যায়কে সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ করার দায়িত্ব সাংবাদিকদের। এই দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও মানবিকতা বজায় রাখাই হতে পারে গণতন্ত্রের প্রতি সাংবাদিক সমাজের সবচেয়ে বড় অবদান।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত