প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে চেলসির দুর্দান্ত জয় উদযাপনের মুহূর্তে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বিষয়টি চেলসির জয়ের চেয়েও বেশি আলোচিত হচ্ছে তার ‘অপ্রত্যাশিত’ এবং ‘অস্বাভাবিক’ আচরণকে ঘিরে।
ম্যাচ শেষে ফিফার প্রথা অনুযায়ী বিজয়ী দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি তুলে দিয়ে আয়োজক ও অতিথিরা দ্রুত মঞ্চ ত্যাগ করেন। উদ্দেশ্য একটাই—উদযাপন যেন নির্ভুলভাবে খেলোয়াড়দের প্রাপ্য আনন্দ হয়ে ওঠে, তাতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে। এবারের ক্লাব বিশ্বকাপ ফাইনালেও ট্রফি তুলে দেয়ার পর ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সেই নিয়মই অনুসরণ করলেন। কিন্তু ট্রাম্প যেন তাতে কর্ণপাতই করলেন না।
ফুটবলবিশ্বের রীতি-নীতিকে উপেক্ষা করে ট্রাম্প দাঁড়িয়ে রইলেন চেলসির খেলোয়াড়দের মাঝে, এমনভাবে যেন তিনিও দলের অংশ। খেলোয়াড়রা যখন বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতে উঠেছেন, তখন তাঁদের পেছনে বা পাশে একজন রাজনৈতিক নেতার উপস্থিতি অনেকেই দেখেছেন অপ্রাসঙ্গিক এবং অগ্রহণযোগ্য হিসেবে।
ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো একাধিকবার ট্রাম্পকে মঞ্চ ত্যাগ করার ইঙ্গিত দিলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বিকার ভঙ্গিতে সেখানে দাঁড়িয়ে থেকে ক্যামেরার ফ্রেম দখল করে রাখেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এরই মধ্যে ঘটনাটির ভিডিও এবং ছবি ছড়িয়ে পড়েছে এবং ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, এটি ছিল ক্রীড়া আচার ও শিষ্টাচার লঙ্ঘনের একটি প্রকাশ্য উদাহরণ।
অনেকেই এ ঘটনার সঙ্গে তুলনা টেনেছেন ২০০৬ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ক্রিকেট ফাইনালের। ওই ম্যাচে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের তৎকালীন সভাপতি শারদ পাওয়ার অজি অধিনায়ক রিকি পন্টিংয়ের হাতে ট্রফি তুলে দিয়ে মঞ্চ ছাড়ছিলেন না, যার ফলে পন্টিং তাঁকে সরাসরি সরিয়ে দিতে বাধ্য হন। এবারও কিছুটা সেই চিত্রই যেন ফুটে উঠেছে ক্লাব বিশ্বকাপের মঞ্চে।
চেলসির কোচ ও ফুটবলাররা প্রকাশ্যে কিছু না বললেও তাঁদের অস্বস্তির ছবি ধরা পড়েছে লাইভ ব্রডকাস্টেই। বিশেষ করে অধিনায়ক যখন ট্রফি হাতে তুলে পুরো দলকে উদ্দীপনার স্রোতে ভাসাতে যাচ্ছিলেন, তখন ঠিক পাশে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা অনেকেই অনুচিত বলেই মনে করেছেন।
ট্রাম্পের উপস্থিতি কেবল ক্রীড়া ভক্তদের নয়, কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যেও প্রশ্ন তৈরি করেছে। তারা বলছেন, রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে ট্রাম্প যেভাবে নিজেকে খেলোয়াড়দের উদযাপনের অংশ বানাতে চাইলেন, তা একটি ক্রীড়া-নিরপেক্ষতার দৃষ্টান্তের জন্য অনুপযুক্ত।
অন্যদিকে ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ মহল ও তার সমর্থকেরা এ ঘটনাকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন। তাঁদের মতে, প্রেসিডেন্ট ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা এবং সমর্থন জানাতে গিয়েছিলেন, যা কোনোভাবেই ভুল নয়।
তবে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংগঠন এবং বিশ্বব্যাপী ফুটবলপ্রেমীদের বড় অংশের দৃষ্টিতে ঘটনাটি ছিল বিব্রতকর। প্রশ্ন উঠছে, এমন আচরণ ভবিষ্যতে ক্রীড়াঙ্গনের মর্যাদা, শৃঙ্খলা ও উদযাপনের বিশুদ্ধতাকে কতটা প্রভাবিত করবে?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে ঘটনাটির নামে নতুন হ্যাশট্যাগও ট্রেন্ড করছে—#TrumpAtFinal এবং #LetThemCelebrate। অনেকেই লিখেছেন, “এই দিনটি চেলসির, ট্রাম্পের নয়।”
যেখানে ক্রীড়া মাঠে বিজয়ী দলের উদযাপন নির্ভেজাল ও খেলোয়াড়দের অধিকার হিসেবে দেখা হয়, সেখানে কোনো ধরনের ‘অবাঞ্ছিত অংশগ্রহণ’ নিঃসন্দেহে সমালোচনার যোগ্য। ক্লাব বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই ঘটনাটি নিছক একটি বিচ্ছিন্ন কাণ্ড নয়, বরং ক্রীড়া ও রাজনীতির মধ্যকার সীমারেখা নিয়ে একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন।