লেনদেন ও সূচক কমেছে, দাম কমার শীর্ষে মাইডাস ফাইন্যান্সিং

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৭৯ বার
লেনদেন ও সূচক কমেছে, দাম কমার শীর্ষে মাইডাস ফাইন্যান্সিং

প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন ও সূচক—উভয়ই নিম্নমুখী ছিল। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা ও বিক্রির চাপ বাড়ায় বাজারে নেতিবাচক প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দিন শেষে প্রধান সূচক ডিএসইএক্সসহ তিনটি সূচকই আগের দিনের তুলনায় কমেছে। একই সঙ্গে লেনদেনের পরিমাণেও দেখা গেছে ধারাবাহিক পতন, যা বাজারের সার্বিক মনোভাবকে আরও দুর্বল করেছে।

ডিএসই সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৫৩৬ কোটি ১২ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন ছিল ৬০৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং তার আগের দিন মঙ্গলবার লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৬৬৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ টানা দুই কার্যদিবস ধরে লেনদেন কমেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীদের আস্থার ঘাটতি, স্বল্পমেয়াদি মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা এবং নতুন বিনিয়োগে অনীহার কারণেই এই লেনদেনের চাপ কমে এসেছে।

লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স নেমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৯৯ দশমিক ৬০ পয়েন্টে। আগের দিনের তুলনায় সূচকটি কমেছে ৬ দশমিক ২৩ পয়েন্ট, যা শতাংশের হিসাবে শূন্য দশমিক ১২ শতাংশ। দ্বিতীয় সূচক ডিএসইএস কমে হয়েছে ১ হাজার ২৫ দশমিক ৪২ পয়েন্ট। এ সূচকটি কমেছে ২ দশমিক ২৫ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ২১ শতাংশ। বড় মূলধনী শীর্ষ ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস৩০ সূচকও নিম্নমুখী ছিল। দিন শেষে সূচকটি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৬২ দশমিক ৮৭ পয়েন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় ১ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ০৭ শতাংশ কম।

বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার দিন শেষে মোট ৩৯০টির বেশি কোম্পানির শেয়ারের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১৪৫টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে, ১৮৯টির দাম কমেছে এবং ৫৬টি কোম্পানির শেয়ারের দাম অপরিবর্তিত ছিল। দাম কমা শেয়ারের সংখ্যা বেশি হওয়ায় বাজারের সামগ্রিক চিত্র ছিল নেতিবাচক।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এদিন মূল্যহ্রাসের শীর্ষে ছিল মাইডাস ফাইন্যান্সিং। আর্থিক খাতের এই কোম্পানির শেয়ারের দাম একদিনেই উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়। বৃহস্পতিবার মাইডাস ফাইন্যান্সিংয়ের শেয়ারের দাম কমেছে ৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ। আগের দিন এই কোম্পানির শেয়ারের দর ছিল ৫ টাকা ৩০ পয়সা, যা দিন শেষে নেমে আসে ৫ টাকায়। ধারাবাহিক দরপতনের কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

মূল্যহ্রাসের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ওরিয়ন ইনফিউশন। ওষুধ ও চিকিৎসা খাতের এই কোম্পানির শেয়ারের দাম বৃহস্পতিবার কমেছে ৫ দশমিক ০৫ শতাংশ। আগের দিন যেখানে শেয়ারের দাম ছিল ৩৮৭ টাকা ৮০ পয়সা, সেখানে দিন শেষে তা কমে দাঁড়ায় ৩৬৮ টাকা ২০ পয়সায়। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্বল্পমেয়াদি মুনাফা তুলে নেওয়ার চাপ এবং সাম্প্রতিক লেনদেন প্রবণতার কারণেই এই দরপতন হয়েছে।

তৃতীয় অবস্থানে ছিল উত্তরা ফাইন্যান্স। আর্থিক খাতের এই প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম এদিন ৪ শতাংশ কমেছে। আগের দিন শেয়ারের দর ছিল ১০ টাকা, যা কমে দাঁড়ায় ৯ টাকা ৬০ পয়সায়। একই খাতের অন্যান্য কোম্পানির মতো উত্তরা ফাইন্যান্সের শেয়ারেও বিক্রির চাপ লক্ষ করা গেছে।

মূল্যহ্রাসের তালিকায় চতুর্থ স্থানে ছিল শাইনপুকুর সিরামিকস। সিরামিক খাতের এই কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ। আগের দিন যেখানে শেয়ারের দর ছিল ১৬ টাকা, সেখানে দিন শেষে তা নেমে আসে ১৫ টাকা ৪০ পয়সায়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও সামগ্রিক বাজার দুর্বলতার প্রভাব এই খাতের শেয়ারেও পড়ছে।

পঞ্চম স্থানে থাকা ফার্স্ট ফাইন্যান্সের শেয়ারের দাম কমেছে ৩ দশমিক ৭০ শতাংশ। আগের দিন শেয়ারের দর ছিল ২ টাকা ৭০ পয়সা, যা বৃহস্পতিবার দিন শেষে কমে দাঁড়ায় ২ টাকা ৬০ পয়সায়। আর্থিক খাতের শেয়ারগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে যে অস্থিরতা চলছে, ফার্স্ট ফাইন্যান্সের দরপতন তারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীরা অপেক্ষাকৃত রক্ষণশীল অবস্থানে রয়েছেন। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপ এবং কিছু খাতে আর্থিক প্রতিবেদন ঘিরে সংশয় বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে। ফলে নতুন বিনিয়োগের পরিবর্তে অনেকেই শেয়ার বিক্রি করে লাভ তুলে নেওয়ার পথ বেছে নিচ্ছেন।

তাঁরা আরও বলেন, বাজারে আস্থা ফেরাতে হলে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা, স্বচ্ছ তথ্যপ্রবাহ এবং নীতিগত স্থিতিশীলতা জরুরি। তা না হলে স্বল্পমেয়াদি ওঠানামার মধ্যেই বাজার ঘুরপাক খেতে থাকবে। তবে অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, বাজারের এই সংশোধন দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ প্রবৃদ্ধির জন্য সহায়কও হতে পারে।

সব মিলিয়ে বৃহস্পতিবারের লেনদেন ও সূচকের চিত্র স্পষ্ট করে দিয়েছে যে শেয়ারবাজার এখনো চাপের মধ্যেই রয়েছে। দাম কমার শীর্ষে মাইডাস ফাইন্যান্সিংয়ের অবস্থান বাজারের এই দুর্বলতারই একটি প্রতীক হয়ে উঠেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত