বাংলাদেশে ডিজিটাল লেনদেনে অংশ নিচ্ছেন মাত্র ৩৪% মানুষ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৫ বার
বাংলাদেশে ডিজিটাল লেনদেনে অংশ নিচ্ছেন মাত্র ৩৪% মানুষ

প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, কিন্তু আনুষ্ঠানিক আর্থিক সেবা ও ডিজিটাল লেনদেনে নাগরিকদের অংশগ্রহণ এখনও সীমিত। বিশ্বব্যাংকের ‘গ্লোবাল ফিনডেক্স ডেটাবেজ ২০২৫’ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশে মাত্র ৪৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের আনুষ্ঠানিক আর্থিক হিসাব রয়েছে এবং ৩৪ শতাংশ মানুষ ডিজিটাল লেনদেনে নিয়মিত অংশগ্রহণ করছেন। প্রতিবেদনে মানুষের ব্যাংক হিসাব, মোবাইল ফোনের মালিকানা, ইন্টারনেট ব্যবহার এবং ডিজিটাল লেনদেনের বিস্তৃত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

দেশে সাধারণ মানুষ অনলাইন কেনাকাটা, দোকান বা সরকারি-বেসরকারি সেবার মাশুল পরিশোধে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এবং ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করছেন। এছাড়াও ব্যক্তিগত লেনদেন ও সরকারি বেতন-ভাতা ডিজিটাল মাধ্যমে নেওয়া হচ্ছে। তবে দেশের প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর মাত্র ৮২ শতাংশের কাছে মোবাইল ফোন এবং প্রায় ৪৪ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। এর অর্থ, যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন, তাদেরও সবই ডিজিটাল লেনদেনে অংশ নিচ্ছেন না।

ডিজিটাল লেনদেনে বাংলাদেশ অনেক দেশের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। প্রতিবেশী ও প্রতিযোগী দেশগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ভারতে ৪৮ শতাংশ মানুষ ডিজিটাল লেনদেন করছেন, চীনে ৮৯ শতাংশ, থাইল্যান্ডে ৮৩ শতাংশ, মালয়েশিয়ায় ৭৭ শতাংশ, তুরস্কে ৭১ শতাংশ, ভিয়েতনামে ৬২ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কায় ৪৭ শতাংশ মানুষ ডিজিটাল লেনদেনে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন। বাংলাদেশ নেপাল ও পাকিস্তানের তুলনায় এগিয়ে থাকলেও, ভারতের, চীনের এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক পিছিয়ে।

বাংলাদেশে ডিজিটাল লেনদেনের প্রসারে নারী ও কম আয়ের জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ এখনও তুলনামূলকভাবে কম। সঞ্চয় ও ঋণের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও চ্যালেঞ্জিং। দেশে মাত্র ১১ শতাংশ মানুষ আনুষ্ঠানিক মাধ্যমে সঞ্চয় করছেন এবং মাত্র ১৩ শতাংশ মানুষ আনুষ্ঠানিক উৎস থেকে ঋণ গ্রহণ করছেন। অন্যদিকে, চীনের ৬৭ শতাংশ মানুষ আনুষ্ঠানিক মাধ্যমে সঞ্চয় করছেন, থাইল্যান্ডে ৫৪ শতাংশ, মালয়েশিয়ায় ৫২ শতাংশ, ভিয়েতনামে ৪৫ শতাংশ, ভারতের ২৭ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ২৩ শতাংশ এবং পাকিস্তানে ১৩ শতাংশ মানুষ। আনুষ্ঠানিক ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে চীনের মানুষ ৪১ শতাংশ, থাইল্যান্ড ১৮ শতাংশ, শ্রীলঙ্কা ১৮ শতাংশ, মালয়েশিয়া ও ভারত ১৫ শতাংশ। এই তুলনায় বাংলাদেশের নাগরিকরা ডিজিটাল সেবা ও আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থায় এখনও পিছিয়ে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারের বিস্তৃত সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দেশের ডিজিটাল আর্থিক সেবা আরও সহজলভ্য করা উচিত। গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ডিজিটাল ব্যাংকিং এবং এমএফএস সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায়, বাংলাদেশের প্রাপ্তবয়স্কদের ডিজিটাল লেনদেনের হার এখনও কম। ২০১৪ সালে এই হার ছিল ৩৪ শতাংশ, ২০২৪ সালে এটি ৬২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। কিন্তু বিশেষ করে নারী ও নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে ব্যাংক হিসাবধারী সংখ্যা কম থাকায় ডিজিটাল লেনদেনে তাদের অংশগ্রহণও সীমিত।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দক্ষিণ এশিয়ার ব্যাংক হিসাবধারীদের মধ্যে মাত্র ৫৭ শতাংশ মানুষ গত এক বছরে ডিজিটাল মাধ্যমে লেনদেন করেছেন, যেখানে অন্যান্য অঞ্চলে এই হার ৮০ শতাংশের বেশি। অর্থাৎ, অঞ্চলভিত্তিক তুলনায় বাংলাদেশ এখনও ডিজিটাল লেনদেনে পিছিয়ে।

বিকাশের করপোরেট কমিউনিকেশনস প্রধান শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম বলেন, মোবাইলে আর্থিক সেবার কল্যাণে দেশের ডিজিটাল লেনদেন এখন কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। সাম্প্রতিক সময়ে বিকাশের মতো এমএফএস প্ল্যাটফর্মে চালু হওয়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ন্যানো ডিজিটাল লোন এবং ডিপিএস সেবাও জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। দেশব্যাপী ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণের জন্য সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ডিজিটাল লেনদেনের প্রসার ঘটানোতে প্রযুক্তিগত সহজলভ্যতা, নিরাপদ সেবা এবং প্রশিক্ষিত জনবল অপরিহার্য। এতে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস তৈরি হবে এবং তারা অনলাইন লেনদেন ও ডিজিটাল ব্যাংকিং গ্রহণ করবে। আরও বেশি নারী, নিম্ন আয়ের মানুষ এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে এই ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা গেলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে সকল অংশীদারকে অব্যাহতভাবে উদ্যোগ নিতে হবে। সরকারের নীতি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবনী সেবা একত্রিত হলে বাংলাদেশ দ্রুত ডিজিটাল অর্থনীতি ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করতে সক্ষম হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত