সব স্তরে নারীর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে জামায়াত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৭১ বার
সব স্তরে নারীর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে জামায়াত

প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান নারী অধিকার ও নিরাপত্তা বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, সমাজের সব স্তরে নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, এমন একটি সমাজ গড়ে তোলা হবে যেখানে পুরুষ ও নারী উভয়ই নিজেদের অধিকার ভোগ করতে পারবে। তিনি আরো বলেন, কোনো জালিম ব্যক্তি যেন কোনো নারীর প্রতি অবিচার করার সাহস না পায়। ঘরে-বাইরে, কর্মক্ষেত্রের সর্বস্তরে নারী ও মায়েদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।

ডা. শফিকুর রহমান জনসভায় বলেন, “মা-বোনদের অবদান অসীম। আমরা তাদের একটিও প্রতিদান দিতে পারি না, তাদের ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব নয়। তবে চেষ্টা করতে হবে। মায়েদের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলা আমাদের দায়িত্ব।” তিনি নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং তাদের মর্যাদা রক্ষার বিষয়কে দেশের রাজনীতির মূল অঙ্গ হিসেবে উপস্থাপন করেন।

এতে আর থেমে থাকেননি জামায়াতের আমির। তিনি আরও বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে, যা সবার ওপর সমানভাবে কার্যকর হবে। চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দুর্নীতি শূন্যে নামিয়ে আনা হবে। তিনি বলেন, “একটি ন্যায়সঙ্গত ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা আমাদের লক্ষ্য, যেখানে অবিচার ও অনিয়ম থাকবে না। যুবক-যুবতীরা ভাতার জন্য নয়, কাজের জন্য আন্দোলন করেছে। আমরা তাদের মর্যাদাপূর্ণ কাজ দিতে চাই এবং পেশাগত বৈষম্য দূর করতে চাই। ভবিষ্যতে যুবক-যুবতীরাই দেশের নেতৃত্ব গ্রহণ করবে।”

শফিকুর রহমান দেশের গুরুত্বপূর্ণ নদী ও জলবায়ু সংক্রান্ত বিষয়ে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে বলেন, “মহানন্দা নদী শুকিয়ে গেছে। এটিকে পুনরায় জীবন্ত করা হবে। এছাড়া পদ্মা নদীতে যথাযথ স্থানে ব্যারেজ নির্মাণ করা হবে। এ উদ্যোগ দেশের কৃষি, পরিবেশ এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

তিনি আগামী নির্বাচনের ভোট প্রক্রিয়া সম্পর্কেও মত প্রকাশ করেন। তিনি জনগণকে সম্বোধন করে বলেন, “আগামী ১২ তারিখ দুটি ভোটের মাধ্যমে জনগণ তাদের মুক্তির জন্য ‘হ্যা’ ভোট দেবেন। আর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মাধ্যমে ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে ভোট প্রদান করবেন। আমাদের লক্ষ্য হলো আজাদ ও ন্যায়ময় সমাজ প্রতিষ্ঠা করা।”

জনসভায় জেলা জামায়াতের আমির আবু জার গিফারীর সভাপতিত্বে ডা. শফিকুর রহমান জামায়াতের চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ শিবগঞ্জ আসনের প্রার্থী ড. কেরামত আলী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের প্রার্থী ড. মিজানুর রহমান এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ সদর আসনের প্রার্থী ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুলের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নূরুল ইসলাম (সাদ্দাম) এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের ভিপি ইব্রাহিম হোসেন (রনি) প্রমুখ।

ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যে নারী অধিকার ও নিরাপত্তার ওপর দেওয়া গুরুত্বে স্পষ্ট হয়ে উঠে যে, জামায়াত দেশের রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সমাজকে ন্যায়সঙ্গত এবং মানবিক করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণে সচেষ্ট। নারীর নিরাপত্তা, যুবকদের মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এই দলের নির্বাচনী এজেন্ডার মূল ভিত্তি।

জনসভায় তিনি বারবার নারী ও যুব সমাজকে সমর্থন করার প্রতিশ্রুতি দেন। নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ, দুর্নীতি নির্মূল এবং পদ্মা-এবং মহানন্দা নদী সংরক্ষণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশকে সমৃদ্ধ ও ন্যায়সঙ্গত করার দিকেও জোর দেন। ডা. শফিকুর রহমানের ভাষণে প্রতিস্পর্ধী রাজনৈতিক দল ও জনগণের সামনে একটি সুস্পষ্ট বার্তা গড়ে ওঠে, যা সমাজের নারীর মর্যাদা, যুবকদের অধিকার এবং মানবিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতিশীল।

এই জনসভায় নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তা, যুব সমাজের কর্মসংস্থান, নদী পুনর্জীবন, ন্যায় ও ইনসাফের প্রতিষ্ঠা—সবই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে অন্তর্ভুক্ত। ডা. শফিকুর রহমানের ভাষণে স্পষ্ট যে, জামায়াত নারী ও যুবকদের ক্ষমতায়ন ও সমাজকে ন্যায়সঙ্গত ও মানবিক করার জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করতে চায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত