জাপানে ভারি তুষারপাতে প্রাণহানি ৪৬, আহত ৫৫৮

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২৭ বার
জাপানে ভারি তুষারপাতে প্রাণহানি ও আহত

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জাপানে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে অবিরামভাবে চলা ভারি তুষারপাতে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬ জনে, আর আহত হয়েছেন অন্তত ৫৫৮ জন। দেশটির ফায়ার অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি মঙ্গলবার এই তথ্য জানিয়েছে।

জানুয়ারির শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া এই তুষারঝড় বিশেষত জাপানের উত্তরাঞ্চল ও উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে। বরফে ঢাকা রাস্তা, যানজট এবং যোগাযোগব্যবস্থার ব্যাহত হওয়ার কারণে দৈনন্দিন জীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। জনগণ দৈনন্দিন কাজকর্ম সম্পন্ন করতে হিমশিম খাচ্ছে।

উত্তরাঞ্চলের আওমোরি প্রদেশসহ বিভিন্ন এলাকায় পরিস্থিতি সবচেয়ে গুরুতর। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, অধিকাংশ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বাড়ির ছাদে জমে থাকা ভারী বরফ ধসে পড়ার কারণে অথবা বরফ পরিষ্কার করার সময় পিছলে পড়ে গুরুতর আঘাত পাওয়ায়। আবহাওয়া সংস্থা জানায়, আওমোরিতে জমে থাকা বরফের পুরুত্ব প্রায় ১ দশমিক ৩ মিটার বা চার ফুটের বেশি।

স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকর্মীরা তীব্র সতর্কতা জারি করেছে। অতিরিক্ত বরফ, ল্যান্ডস্লাইড এবং হঠাৎ তাপমাত্রার ওঠানামার কারণে মানুষের জীবন বিপন্ন হতে পারে। বয়স্ক ও শিশুদের ওপর এই শীতের প্রভাব সবচেয়ে বেশি, তাই বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে।

জাপানের সাধারণ মানুষ, স্বেচ্ছাসেবী দল, পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিস উদ্ধারকর্মীরা অবিরামভাবে কাজ করছে। তারা বরফ সরানো, আহতদের উদ্ধার এবং বিপন্নদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনার জন্য নিরলস চেষ্টা চালাচ্ছে।

অসংখ্য বাড়ির ছাদে জমে থাকা ভারী বরফ নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সবাইকে সতর্ক করে বলেছেন যে, বাড়ির ছাদ থেকে বরফ সরানো বা বাইরে কাজ করার সময় অতিরিক্ত সাবধানতা নেওয়া উচিত। হঠাৎ বরফ ধসে পড়া বা ল্যান্ডস্লাইডের ঝুঁকি রয়েছে।

সামাজিক ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে তুষারঝড়ের দৃশ্যাবলি খুব নাটকীয়ভাবে ছাপা হয়েছে। ঘন বরফে ঢাকা রাস্তা, থমকে যাওয়া যানবাহন এবং স্থগিত ট্রেন ও বিমান পরিষেবা দেখলে বোঝা যায়, পরিস্থিতি কতটা বিপজ্জনক। জাপানের সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে যাতে ভবিষ্যতে এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও জনগোষ্ঠীকে পুনর্বাসন এবং সহায়তা দিতে স্থানীয় কমিউনিটি এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলোও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত