ওমানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার হুমকি

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬
  • ৭০ বার

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে আবারও নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী ও ট্রেজারি বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা ওমানকে ঘিরে কঠোর নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সরকারি সূত্রে জানা গেছে। এই বক্তব্যের পর বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী Scott Bessent সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের টোল বা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করতে ইরানকে সহায়তা করলে ওমানকে কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। তার মতে, এই ধরনের উদ্যোগ বৈশ্বিক জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগ এমন যেকোনো পক্ষকে লক্ষ্যবস্তু করবে, যারা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে হরমুজ প্রণালিতে টোল ব্যবস্থা চালুর সঙ্গে জড়িত থাকবে। তার বক্তব্যে স্পষ্ট করা হয়, এই ধরনের কোনো উদ্যোগকে যুক্তরাষ্ট্র “অগ্রহণযোগ্য” হিসেবে দেখছে এবং প্রয়োজন হলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ, যার মাধ্যমে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের বড় অংশ পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে যেকোনো পরিবর্তন বা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

এদিকে ওমান দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের একটি কূটনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ ও মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন আঞ্চলিক সংকটে দেশটি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করে এসেছে। তাই এই দেশকে ঘিরে নিষেধাজ্ঞার হুমকি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে আন্তর্জাতিক মহলে।

অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের শুল্ক বা টোল ব্যবস্থার প্রচেষ্টা সহ্য করবে না। এই অবস্থানকে তারা বৈশ্বিক মুক্ত বাণিজ্য ও নৌ চলাচলের নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি নীতিগত বিষয় হিসেবে দেখছে।

পরবর্তীতে হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে Scott Bessent জানান, তিনি ওমানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং সেই আলোচনায় ওমানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, হরমুজ প্রণালিতে টোল ব্যবস্থা চালুর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।

এই বক্তব্যের মাধ্যমে সাময়িকভাবে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হলেও কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বিষয়টি এখনো সম্পূর্ণভাবে নিষ্পত্তি হয়নি। কারণ ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের মতবিরোধ রয়েছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের হুমকি ও পাল্টা বক্তব্য শুধু কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়ায় না, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও সরাসরি প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে অপরিশোধিত তেলের দামের ওপর এর তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়তে পারে।

অন্যদিকে ওমানের ভূমিকাকে অনেক বিশ্লেষক আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। দেশটি অতীতে বহুবার ইরান ও পশ্চিমা শক্তির মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছে। ফলে তাদের ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞার হুমকি কূটনৈতিক ভারসাম্যে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যেকোনো উত্তেজনা কেবল একটি দেশ বা অঞ্চলের বিষয় নয়, বরং এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই এ ধরনের পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধানই সবচেয়ে কার্যকর পথ।

সব মিলিয়ে ওমানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের এই নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিকে আলোচনায় এনেছে। পরিস্থিতি এখনো পরিবর্তনশীল, এবং আগামী দিনে কূটনৈতিক আলোচনা এই উত্তেজনার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com