ঈদের দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরল ২২ প্রাণ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬
  • ৩২ বার

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঈদের আনন্দে যখন সারা দেশ ভরে ওঠার কথা, তখনই সড়কে নেমে আসে এক ভয়াবহ শোকের ছায়া। ঈদুল আজহার দিনেই দেশের অন্তত ১২ জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২২ জন। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ, যাদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও হাসপাতাল সূত্র।

গোপালগঞ্জে সবচেয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে বেদগ্রাম এলাকায়। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা একটি বাস মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায় বাসটি। ঘটনাস্থলেই একাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও একজন শিশুর মৃত্যু হলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ছয়জনে। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের সদস্যও রয়েছেন। ঈদের দিন এমন দুর্ঘটনায় এলাকায় নেমে আসে গভীর শোক, কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা।

দিনাজপুরে বৃষ্টিভেজা সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে ট্রাক ধাক্কা দিলে দুই শিশুসহ একাধিক যাত্রী প্রাণ হারান। স্থানীয়রা জানান, মুহূর্তের মধ্যে পুরো যানটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়, উদ্ধার কাজ চালাতে হিমশিম খেতে হয় ফায়ার সার্ভিসকে।

নাটোরের গুরুদাসপুরে একাধিক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হন এবং অন্তত ১৫ জন আহত হন। একই জেলার লালপুরে পৃথক ঘটনায় আরও একজন রাজমিস্ত্রির মৃত্যু হয় চিকিৎসাধীন অবস্থায়। দুর্ঘটনার ধারাবাহিকতায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পটুয়াখালীর গলাচিপায় মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই তরুণের মৃত্যু হয়। আহত হন আরও কয়েকজন, যাদের মধ্যে কয়েকজনকে বরিশালে পাঠানো হয়েছে উন্নত চিকিৎসার জন্য।

টাঙ্গাইলে পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় একজন কলেজছাত্রসহ দুইজন নিহত হন। স্থানীয়রা বলছেন, ঈদের দিনে অতিরিক্ত গতি ও বেপরোয়া যান চলাচলই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফরিদপুরে পদ্মা সেতু দেখতে যাওয়ার পথে প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে দুই কিশোর বন্ধুর মৃত্যু হয়। একই দিনে পদ্মা সেতু সংলগ্ন এলাকায় বাস থেকে ছিটকে পড়ে আরও একজনের মৃত্যু ঘটে মাদারীপুরে।

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে বাস ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হন এবং আহত হন অন্তত ২০ জন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসটি বিপরীত লেনে ঢুকে পড়ায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।

গাইবান্ধা, নারায়ণগঞ্জ, নড়াইল ও মাদারীপুরেও পৃথক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও কয়েকজন। কোথাও পথচারী, কোথাও মোটরসাইকেল আরোহী আবার কোথাও বাসযাত্রী—সড়কে মৃত্যুর এই মিছিল থামেনি ঈদের দিনেও।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঈদযাত্রায় সড়কে অতিরিক্ত চাপ, বেপরোয়া গতি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। একই সঙ্গে চালকদের ক্লান্তি ও প্রতিযোগিতামূলক গতি পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে।

প্রতিটি দুর্ঘটনাস্থলেই স্থানীয় প্রশাসন উদ্ধার অভিযান চালালেও ক্ষয়ক্ষতি থামানো যায়নি। অনেক জায়গায় স্বজন হারানোর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। ঈদের দিনে আনন্দের বদলে এসব পরিবারে নেমে আসে চরম শোক।

দেশজুড়ে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। নাগরিকদের দাবি, ঈদসহ বিশেষ সময়ে কঠোর নজরদারি, চালক প্রশিক্ষণ এবং সড়ক ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই মৃত্যুর মিছিল থামানো কঠিন হবে।

এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনাগুলোর কারণ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা প্রদান করা হবে।

ঈদের দিনে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাগুলো আবারও মনে করিয়ে দিল, আনন্দের উৎসবও মুহূর্তে রূপ নিতে পারে গভীর শোকে—যদি সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা যায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত