যুক্তরাষ্ট্র সফরে নেতানিয়াহু, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের চেষ্টা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬
  • ১১ বার
যুক্তরাষ্ট্র সফরে নেতানিয়াহু, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের চেষ্টা

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আগামী শনিবার যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা সংকট, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা এবং আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইসরাইলের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে সফরের সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো, নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে আগ্রহী হলেও এখন পর্যন্ত সেই বৈঠকের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন বা সময়সূচি নিশ্চিত হয়নি।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এই সফর কেবল একটি আনুষ্ঠানিক শোকানুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট, ইরানকে ঘিরে সামরিক ও কৌশলগত পরিস্থিতি, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ আঞ্চলিক নীতিনির্ধারণের বিষয়গুলোও আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। যদিও হোয়াইট হাউস কিংবা ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সফরকালে নেতানিয়াহু প্রয়াত মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের স্মরণসভায় অংশ নেবেন। যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলপন্থী অবস্থানের জন্য পরিচিত এই প্রভাবশালী রিপাবলিকান নেতার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে ইসরাইল। তবে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি। সে কারণে সফরের সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

মার্কিন রাজনীতিতে লিন্ডসে গ্রাহাম দীর্ঘদিন ধরে ইসরাইলের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। নিরাপত্তা সহযোগিতা, সামরিক সহায়তা এবং মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে তিনি বরাবরই ইসরাইলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ফলে তার স্মরণসভায় নেতানিয়াহুর উপস্থিতি প্রতীকী ও রাজনৈতিক—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।

এই সফরের সময়টি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। হরমুজ প্রণালি, পারস্য উপসাগর এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে উভয় দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতিতে ইসরাইলের নিরাপত্তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বিত কৌশল নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেলআবিবের নিরাপত্তা সহযোগিতা বরাবরই ঘনিষ্ঠ। সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যদিও সম্ভাব্য বৈঠকের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি, তবুও নেতানিয়াহুর সফরকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

ইসরাইলের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরাও মনে করছেন, এই সফরের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের চেষ্টা করবেন নেতানিয়াহু। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, গাজা যুদ্ধ-পরবর্তী বাস্তবতা, ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে মতবিনিময়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিও এই সফরের গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে একাধিক আন্তর্জাতিক সংকট মোকাবিলা করছে। ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য এবং এশিয়ার বিভিন্ন নিরাপত্তা ইস্যুর পাশাপাশি ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনা তাদের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। এমন প্রেক্ষাপটে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর সফর ওয়াশিংটনের নীতিগত অবস্থান বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

এদিকে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের দৃষ্টি এখন নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের সম্ভাব্য বৈঠকের দিকেই। যদি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য কৌশল, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সামরিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমন্বয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বা বার্তা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যদিও সফরের পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবুও এটি স্পষ্ট যে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থির প্রেক্ষাপটে নেতানিয়াহুর যুক্তরাষ্ট্র সফর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সম্পর্ক, ইরান ইস্যু এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে এই সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।

সফর ঘিরে আগামী কয়েক দিনে ওয়াশিংটন ও তেলআবিব থেকে আরও আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গন এখন সেই দিকেই নজর রাখছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত