ডিবি কর্মকর্তা নাজমুলসহ ৪ জনকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬
  • ১২ বার
ডিবি কর্মকর্তা নাজমুলসহ ৪ জনকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ

প্রকাশ: ১৫ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

প্রতারণা, হুমকি ও অপরাধে সহায়তার অভিযোগে দায়ের করা এক আলোচিত মামলায় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাবেক সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. নাজমুল হকসহ চারজনের বিরুদ্ধে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আগামী ১৯ আগস্ট সংশ্লিষ্ট চার আসামিকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। মামলাটিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর বিচারক সেটি আমলে নেন এবং পরবর্তী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আসামিদের আদালতে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেন। শুনানির সময় মামলার বাদী মজুমদার আরিফুর রহমান আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন ধানমণ্ডি থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, সাইদুর রহমান হাবিব এবং মোকাররম হোসেন জিমি। আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নেওয়ার পর বাদীপক্ষের আইনজীবী আফজাল হোসেন মৃধা আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন। তবে আদালত তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি না করে প্রথমে আসামিদের নির্ধারিত তারিখে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ভুক্তভোগীর ভাই মজুমদার আরিফুর রহমান ঢাকার আদালতে প্রতারণার অভিযোগ এনে মামলাটি দায়ের করেন। অভিযোগ গ্রহণের পর আদালত মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ চলতি বছরের ২১ মে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অপরাধ সংঘটনে সহায়তার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্তে উঠে এসেছে, ব্যবসায়িক লেনদেনকে কেন্দ্র করে এএসআর কম্পিউটারাইজড সোয়েটার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মালিক আতিকুর রহমান এবং আসামি সাইদুর রহমান হাবিবের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধের জের ধরেই পরবর্তীতে একাধিক আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

তদন্তে আরও বলা হয়েছে, ব্যবসায়িক বিরোধের একপর্যায়ে আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় এবং পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীরা অভিযোগের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে দেখতে পান, গ্রেপ্তারের পর তার ওপর চাপ সৃষ্টি করে চেকে স্বাক্ষর নেওয়া এবং সমঝোতার নামে আর্থিক সুবিধা আদায়ের অভিযোগেরও প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তকারী কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের উপাদান রয়েছে বলে মত দেন।

সিআইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তে মো. নাজমুল হক, মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, সাইদুর রহমান হাবিব এবং মোকাররম হোসেন জিমির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৫০৬ এবং ১০৯ ধারায় অপরাধ সংঘটনের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় প্রতারণা, ৫০৬ ধারায় ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ১০৯ ধারায় অপরাধে প্ররোচনা বা সহায়তার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, তদন্ত প্রতিবেদন আদালত আমলে নেওয়া মানেই আসামিদের অপরাধ প্রমাণিত হয়ে গেছে—এমন নয়। এটি বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ মাত্র। আদালতে উভয় পক্ষের বক্তব্য, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং আইনি যুক্তি উপস্থাপনের পরই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে। ফলে তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলেও বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আইনের দৃষ্টিতে এখনও বিচারাধীন বিষয় হিসেবে বিবেচিত হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ব্যবসায়িক বিরোধকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে বিচারব্যবস্থার প্রতি জনসাধারণের আস্থা আরও সুদৃঢ় হয় এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক বার্তা যায়।

আগামী ১৯ আগস্ট আসামিদের আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশের মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। নির্ধারিত তারিখে আসামিদের উপস্থিতি এবং পরবর্তী আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর মামলার ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নির্ভর করবে বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা মনে করছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত