নতুন নিবন্ধনের দৌড়ে কেউই টিকল না: ১৪৪ দলই প্রাথমিক বাছাইয়ে বাদ

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই, ২০২৫
  • ৩৮ বার
নতুন নিবন্ধনের দৌড়ে কেউই টিকল না: ১৪৪ দলই প্রাথমিক বাছাইয়ে বাদ

প্রকাশ: ১৫ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন প্রক্রিয়া এক জটিল এবং নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতির মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়। সেই প্রক্রিয়ার সর্বশেষ ধাপে এসে দেখা গেল, নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা ১৪৪টি রাজনৈতিক দলের একটিও প্রাথমিক বাছাইয়ে উত্তীর্ণ হতে পারেনি। নির্বাচন কমিশন (ইসি) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ইসির অতিরিক্ত সচিব কেএম আলী নেওয়াজ জানিয়েছেন, যেসব দল নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছিল, তাদের সবার আবেদনে গঠনতন্ত্র, সাংগঠনিক কাঠামো বা সমর্থনের তথ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে ঘাটতি ছিল। এই ঘাটতিগুলো পূরণের জন্য কমিশন প্রথম দফায় ৬২টি দলকে চিঠি দিচ্ছে, যাতে তারা ১৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিপূরণ করতে পারে। এরপর দ্বিতীয় দফায় বাকি ৮২টি দলকেও একইভাবে চিঠি পাঠানো হবে।

এর আগে, ২০২৫ সালের ২০ এপ্রিল পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আবেদন আহ্বান করে ইসি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। পরে সময় বাড়িয়ে ২২ জুন পর্যন্ত তা বাড়ানো হয়। সেই সময়সীমার মধ্যেই মোট ১৪৪টি দল থেকে ১৪৭টি আবেদন জমা পড়ে। এসব আবেদন যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়, কোনো দলই নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় শর্তগুলো পূরণ করতে পারেনি।

নিবন্ধনের জন্য ইসির নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি দলকে একটি পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি, অন্তত এক-তৃতীয়াংশ জেলা কমিটি এবং ১০০টি উপজেলা কমিটির কার্যকর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হয়। সেইসঙ্গে প্রতিটি কমিটিতে কমপক্ষে ২০০ জন ভোটারের লিখিত সমর্থনও প্রয়োজন। এছাড়া যদি কোনো দল অতীতে সংসদ সদস্য পাঠিয়ে থাকে কিংবা সর্বশেষ সংসদ নির্বাচনে ৫ শতাংশ ভোট পেয়ে থাকে, তবে সেটিও নিবন্ধনের জন্য যোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়। এসব শর্তের যেকোনো একটিও যদি পূরণ না হয়, তাহলে সেই আবেদন কমিশন বাতিল করতে পারে।

এই দীর্ঘ তালিকায় রয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ সংগ্রামী ভোটার পার্টি, মুসলিম জনতা পার্টি, ওয়ার্ল্ড মুসলিম কমিউনিটি, নতুন বাংলাদেশ পার্টি, জাতীয় জনতা পার্টি, কোয়ালিশন-ন্যাশনাল পার্টি, বাংলাদেশ বেকার মুক্তি পরিষদ, বাংলাদেশ জাগ্রত পার্টি, বাংলাদেশ ইসলামিক জনতা পার্টি, এবং আরও বহু নাম। দলগুলোর অনেকে নামেই পরিচিতি থাকলেও, সাংগঠনিকভাবে তারা প্রমাণ দিতে পারেনি যে, তাদের সক্রিয় রাজনৈতিক উপস্থিতি রয়েছে মাঠে-ঘাটে কিংবা জনগণের মধ্যে।

নিবন্ধনপ্রাপ্ত দলের তালিকায় বর্তমানে ৫১টি দল রয়েছে, যার মধ্যে শীর্ষে আছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো দলগুলোর নিবন্ধন চালু হয়, যার পর থেকে ইসি মোট ৫৫টি দলকে নিবন্ধন দিলেও পরবর্তীতে নানা কারণে পাঁচটি দলের নিবন্ধন বাতিল করে। সেই বাতিল হওয়া দলগুলোর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ও জাগপা সম্প্রতি আদালতের নির্দেশে নিবন্ধন ফিরে পাওয়ার আইনি অধিকার পেলেও এখন পর্যন্ত ইসি শুধু জামায়াতকেই পুনরায় তালিকাভুক্ত করেছে।

ইসি জানিয়েছে, প্রাথমিক বাছাইয়ের পর আবেদনকারী দলগুলোর তথ্য সরেজমিন তদন্ত করে পরবর্তী ধাপে যাচাই করা হবে। এরপর প্রকাশিত হবে আপত্তি আহ্বানকারী বিজ্ঞপ্তি, যেখানে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আপত্তি জানালে শুনানি শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন। যেসব দল এ প্রক্রিয়া সফলভাবে অতিক্রম করতে পারবে, কেবল তারাই ইসির নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের তালিকায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে এবং নিজেদের প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার অধিকার অর্জন করবে।

এই প্রক্রিয়া যতই জটিল হোক না কেন, তা একটি গণতান্ত্রিক ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। রাজনৈতিক দল গঠনের স্বাধীনতা থাকলেও তা যেন অগঠিত, অকার্যকর কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংগঠনের আশ্রয় না হয়— সেটি নিশ্চিত করতেই এই নিয়ম-কানুনের প্রয়োজন বলে মনে করছে নির্বাচন কমিশন। এখন দেখার বিষয়, পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে দলগুলো নিজেদের ঘাটতি কতটা পূরণ করতে পারে এবং আদৌ নিবন্ধনের চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা করে নিতে পারে কিনা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত