প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করায় এবার ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলেরও ভ্রমণ পরিকল্পনায় বিশাল ব্যাঘাত ঘটেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সমস্যা দেখা দিয়েছে জিম্বাবুয়ের দলকে, যারা দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তাদের শেষ ম্যাচ শেষে ভারতে অবস্থান করছেন। মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী দলটি ধাপে ধাপে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করেছিল, তবে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় তাদের জন্য প্রাথমিক রুটে যাত্রা সম্ভব হচ্ছে না।
জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দলের কিছু সদস্যকে ৪ মার্চ ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে দিল্লি থেকে দুবাই হয়ে হারারেতে ফেরার ফ্লাইটে রওনা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যেহেতু এখন উপসাগরীয় অঞ্চলে বিমান চলাচল ব্যাহত, তাই নতুন বিকল্প রুট এবং বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিবেচনা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দলটি ৪ মার্চ পর্যন্ত দিল্লির হোটেলে অবস্থান করবে। দলটির কোচ জাস্টিন স্যামন্স বলেছেন, ‘আমরা যখন ম্যাচ শুরু করি তখনো কিছুই জানতাম না। ম্যাচ চলাকালীনও কোনো নতুন তথ্য পাইনি, তাই ভ্রমণ পরিকল্পনা এখন অনিশ্চিত।’
মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা শুক্রবার শুরু হয়, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এর প্রভাব অবিলম্বে পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশের আকাশসীমায় পড়ে। অনেকে দুবাইসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের বিমানবন্দরকে ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করতেন। কিন্তু সেসব রুট বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল বা বিকল্প রুটে পরিচালনার চাপ তৈরি হয়েছে। এ কারণে ক্রিকেটার, কর্মকর্তারা এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্টরা বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছেন।
আইসিসি (আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল) পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তারা নিশ্চিত করেছে যে, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়, টিম ম্যানেজমেন্ট, ম্যাচ অফিসিয়াল, সম্প্রচারকর্মী এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা এবং ভ্রমণ ব্যবস্থার জন্য বিকল্প পরিকল্পনা সক্রিয়ভাবে প্রণয়ন করা হয়েছে। যদিও মধ্যপ্রাচ্যের সংকট সরাসরি টুর্নামেন্টের পরিচালনায় প্রভাব ফেলেনি, আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে বিলম্ব এবং রুট পরিবর্তনের কারণে প্রতিটি দলের দেশে ফেরার সময়সূচি সামঞ্জস্য করতে হচ্ছে।
জিম্বাবুয়ের ক্ষেত্রে, তারা মূলত ভারত থেকে ফেরা পরিকল্পনা করেছিল, যেখানে দিল্লি থেকে দুবাই হয়ে হারারে ফ্লাইট বুক করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে অন্য রুটগুলো বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। আইসিসি তাদের নিরাপত্তা পরামর্শক দলকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার নির্দেশ দিয়েছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী তাৎক্ষণিক পরামর্শ প্রদান করছে। খেলোয়াড় ও অন্যান্য সংশ্লিষ্টদের সহায়তায় একটি বিশেষ ট্রাভেল সাপোর্ট ডেস্কও চালু করা হয়েছে।
এছাড়া পাকিস্তান দল সুপার এইট পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার পর শ্রীলঙ্কা থেকে দেশে ফিরে গেছে। এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বিশ্বকাপের অন্য দলগুলোও বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সমস্যার মোকাবিলা করতে ব্যস্ত। জিম্বাবুয়ে দলের কোচ এবং ম্যানেজমেন্টকে এখন বিকল্প ফ্লাইট ও নিরাপদ রুট খুঁজে বের করতে হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা পরীক্ষা হয়ে যাচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে, ক্রিকেটারদের মানসিক চাপও বৃদ্ধি পেয়েছে। দীর্ঘ সময় হোটেলে অবস্থান, ভ্রমণে বিলম্ব এবং অজানা পরিস্থিতিতে থাকার কারণে দল ও কোচিং স্টাফের জন্য মানসিক চাপ ও অস্বস্তি তৈরি হচ্ছে। আইসিসি সূত্রে জানা গেছে, তারা খেলোয়াড়দের মানসিক ও শারীরিক নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রাখছে এবং যত দ্রুত সম্ভব নিরাপদ দেশে ফেরার ব্যবস্থা করছে।
বর্তমানে পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত। জিম্বাবুয়ে দলসহ অন্য দলগুলো আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের বিকল্প রুট ও নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করার জন্য আইসিসি, স্থানীয় বিমান কর্তৃপক্ষ এবং বিমান সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করছে। টুর্নামেন্ট পরিচালনায় সরাসরি কোনো প্রভাব না পড়লেও, দলের দেশে ফেরা, মিডিয়া ক্রু ও কর্মকর্তাদের ভ্রমণ পুরোপুরি নির্ভর করছে পরিস্থিতির উন্নতি ও বিকল্প ফ্লাইটের প্রাপ্যতার ওপর।
এই পরিস্থিতি ক্রিকেট বিশ্ব এবং সাধারণ দর্শকদেরও উদ্বিগ্ন করেছে। আন্তর্জাতিক খেলার পাশাপাশি খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা, দলের ভ্রমণ সুষ্ঠু করা এবং অনিশ্চয়তার মধ্যেও নিয়মিত খেলা চালিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব আইসিসির ওপর নিভर করছে। ফলে জিম্বাবুয়ে দলসহ সব সংশ্লিষ্টকে নিরাপদ দেশে পৌঁছাতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।