জুলাই-আগস্টের বিচার নিষ্পত্তি ডিসেম্বরের আগেই: আশাবাদী চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৬ জুলাই, ২০২৫
  • ৩৬ বার
জুলাই-আগস্টের বিচার নিষ্পত্তি ডিসেম্বরের আগেই: আশাবাদী চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

চলমান মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে ডিসেম্বরের মধ্যেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় ঘোষণা সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন, বিচার কার্যক্রমে গতি অব্যাহত থাকলে চলতি বছরের মধ্যেই জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোর নিষ্পত্তি হবে।

বুধবার, ১৬ জুলাই, তিনি গণমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে বলেন, “যেভাবে বিচার কার্যক্রম এগোচ্ছে, তাতে আমরা আশাবাদী যে, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার নিষ্পত্তি এ বছরের মধ্যেই সম্ভব হবে।” তিনি জানান, বিচারকাজে নির্ধারিত সময় মেনে অগ্রগতি ঘটছে এবং সরকার, প্রসিকিউশন ও বিচার বিভাগের সমন্বয়ে বিষয়টি দ্রুত শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এই দিনই আশুলিয়ার ছয়জনকে হত্যা করে তাদের মরদেহ পুড়িয়ে ফেলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত আটজনের বিরুদ্ধে জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল। তাদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম অন্যতম, যিনি এখনো পলাতক রয়েছেন। ট্রাইব্যুনাল অভিযুক্তদের আদালতে হাজির করতে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সর্বজনীনভাবে জানিয়ে দিয়েছে।

অন্যদিকে, লক্ষ্মীপুরে সংঘটিত পাঁচজনকে হত্যার মামলায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের স্থানীয় এক নেতা সহ তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। আগামী ২৮ জুলাই এই মামলাগুলোর পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়েও গতি আসছে এবং অনেক মামলায় প্রধান সাক্ষীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ সংক্রান্ত মামলাগুলোর মধ্যে কিছু মামলার বিচার ইতোমধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন করেছে। আগামী ৪ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে ঐতিহাসিক একটি মামলায়, যেখানে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত একটি মামলায় সরকার পক্ষ থেকে আনীত অভিযোগের ভিত্তিতে সাক্ষীরা বক্তব্য দেবেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধেও একইদিনে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর।

পরবর্তী ১১ আগস্ট আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা—যেটি সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান হাবিবসহ আটজনের বিরুদ্ধে—সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে। ওই মামলায় রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ভেতরে থাকা অপরাধের চিত্র উন্মোচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, আগামী মাসে আরও দুইটি বড় মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হবে। একটি আশুলিয়ার ছয়জনকে হত্যা করে মরদেহ পোড়ানোর মামলার, অপরটি হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের মামলা। দুটি মামলাই দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ এবং জনমনে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে।

এদিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, রামপুরা এবং উত্তরা এলাকায় সংঘটিত অপরাধ সংক্রান্ত মামলাগুলোর তদন্ত কাজও দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। এসব এলাকায় সংঘটিত সহিংসতা এবং গোপন হত্যার নেপথ্য কাহিনী উদ্ঘাটনে তদন্তকারী সংস্থাগুলো ক্রমাগত কাজ করে যাচ্ছে। সূত্র বলছে, এসব মামলার পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব, অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিচারিক অগ্রগতির এমন চিত্রে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা হলেও আস্থা ফিরছে। চিফ প্রসিকিউটরের আশাবাদ প্রকাশ এবং ট্রাইব্যুনালের সক্রিয় পদক্ষেপ এসব বহুল আলোচিত মামলাগুলোর বিচারে একটি সুস্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচারই বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার। মামলাগুলোর রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচিত হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত