বক্স অফিসে ইতিহাস গড়ল ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬
  • ৫৮ বার
ধুরন্ধর দ্য রিভেঞ্জ বক্সঅফিস

প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পে আবারও সৃষ্টি হলো নতুন ইতিহাস। দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে যে বক্স অফিস রেকর্ডকে অপ্রতিরোধ্য বলে মনে করা হচ্ছিল, সেটিকেই এবার ভেঙে দিল বহুল আলোচিত সিনেমা ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’। মুক্তির মাত্র ছয় সপ্তাহের মধ্যেই বিশ্বজুড়ে প্রায় ১ হাজার ৬৪৬ কোটি রুপি আয় করে সিনেমাটি এখন ভারতীয় বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের নতুন মানদণ্ডে পরিণত হয়েছে।

এই অর্জন শুধু সংখ্যার হিসাব নয়, বরং ভারতীয় সিনেমার দর্শক চাহিদা, বৈশ্বিক বাজার এবং আধুনিক বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের শক্তির এক নতুন বাস্তবতা তুলে ধরেছে। এতদিন যে অবস্থানে ‘বাহুবলি ২’ প্রায় নয় বছর ধরে আধিপত্য ধরে রেখেছিল, সেই শীর্ষস্থান এখন দখল করেছে ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’। মাঝখানে ‘পুষ্পা: দ্য রুল’সহ কয়েকটি সিনেমা রেকর্ড ছোঁয়ার খুব কাছাকাছি গেলেও শেষ পর্যন্ত ইতিহাস বদলাতে পারেনি।

চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এর সবচেয়ে বড় সাফল্য এসেছে দর্শকদের দীর্ঘ সময় ধরে হলমুখী রাখার ক্ষমতা থেকে। মুক্তির প্রথম সপ্তাহের পরও সিনেমাটির প্রতি আগ্রহ কমেনি, বরং ধীরে ধীরে আরও বিস্তৃত হয়েছে। দেশের বড় বড় শহর থেকে শুরু করে ছোট শহরের প্রেক্ষাগৃহেও টানা হাউসফুল শো চলেছে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারেও ছবিটি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সিনেমাটির মোট আয়ের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ২৩৭ কোটি রুপি এসেছে ভারতীয় বাজার থেকে। অন্যদিকে বিদেশি বাজার থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৪০৯ কোটি রুপি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে ছবিটি কেবল বড় উদ্বোধনী আয়ের ওপর নির্ভর করেনি, বরং দীর্ঘমেয়াদি দর্শক আগ্রহ ধরে রাখতে পেরেছে। বর্তমান সময়ে যেখানে অনেক সিনেমা প্রথম সপ্তাহের পর দর্শক হারিয়ে ফেলে, সেখানে ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ ব্যতিক্রমী উদাহরণ তৈরি করেছে।

সিনেমাটির সাফল্যের পেছনে অন্যতম বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে এর গল্প বলার ধরনকে। অ্যাকশন, আবেগ, পারিবারিক সম্পর্ক এবং প্রতিশোধের নাটকীয় উপস্থাপন দর্শকদের সঙ্গে দ্রুত সংযোগ তৈরি করেছে। একইসঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা ছবিটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

ছবিটির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন রণবীর সিং, যার শক্তিশালী অভিনয় দর্শক ও সমালোচক উভয়ের প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই বলছেন, এটি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স। চরিত্রের আবেগ, ক্রোধ এবং মানসিক দ্বন্দ্বকে তিনি যেভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন, তা সিনেমাটির জনপ্রিয়তা বাড়াতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

শুধু অভিনয় নয়, সিনেমাটির সংগীত, ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর এবং অ্যাকশন দৃশ্যও দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে বড় পর্দায় ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা উপভোগ করতে দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহে যাওয়ার আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেক সিনেমা বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জনপ্রিয়তার মধ্যেও বড় বাজেটের সিনেমার প্রতি দর্শকদের আকর্ষণ এখনো কমেনি—‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ তারই বড় প্রমাণ।

চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হলো, এই রেকর্ড মূলত ‘অরিজিনাল রান’ বা প্রথম মুক্তির আয় হিসেবেই অর্জিত হয়েছে। অর্থাৎ সিনেমাটি পরবর্তীতে চীন বা অন্য বড় আন্তর্জাতিক বাজারে পুনরায় মুক্তি ছাড়াই এই বিশাল আয় করেছে। এ কারণেই অনেকের কাছে এই অর্জন আরও তাৎপর্যপূর্ণ।

তবে সর্বমোট বৈশ্বিক আয়ের দিক থেকে এখনও এগিয়ে রয়েছে ‘দঙ্গল’। কারণ সেই সিনেমাটি চীনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারে মুক্তি পেয়ে অতিরিক্ত বিশাল আয় করেছিল। তবুও বর্তমান সময়ে মূল মুক্তির বাজারে ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এর এই সাফল্য ভারতীয় সিনেমার নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পে এখন বড় বাজেটের সিনেমা নির্মাণে নতুন আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতীয় সিনেমা শুধু স্থানীয় বাজার নয়, বরং বৈশ্বিক দর্শকদের লক্ষ্য করেই নির্মিত হচ্ছে। গল্পের পরিসর, প্রযুক্তি, ভিএফএক্স এবং আন্তর্জাতিক মানের উপস্থাপনা এখন ভারতীয় সিনেমাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে আসন্ন কয়েকটি বড় বাজেটের সিনেমা নিয়েও ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। ‘রামায়ণ’ ও ‘বারাণসী’র মতো বহুল প্রতীক্ষিত প্রজেক্টগুলো ভবিষ্যতে এই রেকর্ডকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বর্তমান মুহূর্তে বক্স অফিসের শীর্ষে একচ্ছত্র আধিপত্য ধরে রেখেছে ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সিনেমার সাফল্য ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য শুধু বাণিজ্যিক অর্জন নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় সিনেমার গ্রহণযোগ্যতা ও শক্ত অবস্থানেরও প্রতিফলন। দক্ষিণ এশিয়ার বাইরেও ভারতীয় সিনেমার দর্শকসংখ্যা যে দ্রুত বাড়ছে, এই অর্জন তা আরও স্পষ্ট করেছে।

সব মিলিয়ে ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ শুধু একটি সফল সিনেমা নয়, বরং এটি ভারতীয় বক্স অফিসের ইতিহাসে নতুন যুগের সূচনার প্রতীক হয়ে উঠেছে। দর্শকের আবেগ, প্রযুক্তির আধুনিকতা এবং শক্তিশালী গল্পের সমন্বয়ে ছবিটি এখন ভারতীয় সিনেমার নতুন মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com