ইরানের বিরুদ্ধে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬
  • ৪৩ বার
নেভাডার নেলিস বিমান ঘাঁটিতে ট্রাকে দূরপাল্লার হাইপারসনিক অস্ত্র

প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে অত্যাধুনিক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের সম্ভাবনা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র “ডার্ক ইগল” নামের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা বিবেচনা করছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম ইতোমধ্যে এই অস্ত্র ব্যবহারের অনুমোদন চেয়ে আবেদন করেছে। তাদের লক্ষ্য মূলত ইরানের গভীরে অবস্থিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোতে আঘাত হানা।

বিশ্লেষকদের মতে, অনুমোদন পেলে এটি হবে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন। যদিও রাশিয়া ও চীন ইতোমধ্যে নিজেদের উন্নত হাইপারসনিক প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র এ প্রযুক্তির পূর্ণ সক্ষমতা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর ঘোষণা করেনি।

সেন্টকমের দাবি, ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারগুলোকে এমন অবস্থানে সরিয়ে নিয়েছে, যেখানে প্রচলিত প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল দিয়ে কার্যকরভাবে আঘাত করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ৩০০ মাইলের বেশি দূরত্বে নির্ভুল হামলার জন্য নতুন প্রযুক্তির প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা সামনে আসায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উদ্বেগ ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের অস্ত্র মোতায়েন হলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযানের পর গত কয়েক মাস ধরে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অচলাবস্থা পুরোপুরি কাটেনি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় সেন্টকম ইরানের বিরুদ্ধে সীমিত কিন্তু শক্তিশালী হামলার বিভিন্ন পরিকল্পনা তৈরি করেছে। এর অংশ হিসেবেই হাইপারসনিক অস্ত্র মোতায়েনের বিষয়টি সামনে এসেছে।

অন্যদিকে ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী ও তাদের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত কোনো নতুন আলোচনা সম্ভব নয়। তেহরান পাকিস্তানের মাধ্যমে একটি প্রস্তাবও দিয়েছে, যেখানে শর্তসাপেক্ষে সমুদ্রপথ খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে বলে জানা গেছে। মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান, ইরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের সমাধান করতে হবে, তবেই কোনো ধরনের চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার বলেছেন, ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ না করা পর্যন্ত কোনো শান্তিচুক্তি হবে না এবং বর্তমান নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকবে।

বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে নতুন অস্ত্র মোতায়েনের আলোচনা শুরু হওয়ায় কূটনৈতিক সমাধানের পথ আরও জটিল হয়ে পড়তে পারে।

সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র অত্যন্ত দ্রুতগতির এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এদের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে না। তাই এ ধরনের অস্ত্র মোতায়েন বৈশ্বিক নিরাপত্তা ভারসাম্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে। একদিকে কূটনৈতিক আলোচনা, অন্যদিকে সামরিক প্রস্তুতি—দুই দিকেই চলছে উত্তেজনা। ফলে ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বাড়ছে উদ্বেগ।

সব মিলিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের পরিকল্পনা নতুন করে যুদ্ধ আশঙ্কা ও আঞ্চলিক অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com