উইকেটের পেছনের শট নিয়ে আলোচনায় শামীম

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬
  • ২ বার
উইকেটের পেছনের শট নিয়ে আলোচনায় শামীম, ব্যাখ্যা দিলেন নিজেই

প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক টি–টোয়েন্টি ম্যাচের পর থেকে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন তরুণ ব্যাটার শামীম হোসেন। ম্যাচ শেষ হয়েছে চার দিন আগে, কিন্তু তাঁর এক অদ্ভুত ও সাহসী ‘নো লুক’ শট নিয়ে আলোচনা যেন থামছেই না। উইকেটের পেছন দিয়ে ছক্কা হাঁকানোর সেই শট এখন ক্রিকেট বিশ্লেষক থেকে শুরু করে ভক্তদের মুখে মুখে ঘুরছে।

তৃতীয় টি–টোয়েন্টির আগে সংবাদ সম্মেলনে এসে শামীম নিজেই জানালেন, সেই শটের কোনো নির্দিষ্ট নাম তিনি জানেন না। তিনি বলেন, ব্যাটিংয়ে নতুনত্ব আনার চেষ্টা থেকেই এমন শট খেলেন, এবং এটি তিনি নিয়মিত নেটে অনুশীলন করে থাকেন।

চট্টগ্রামের ম্যাচে ১৮৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। মাত্র ৭৭ রানে তিন উইকেট হারিয়ে কঠিন অবস্থায় পড়ে যায় দলটি। সেই মুহূর্তেই পারভেজ হোসেনের দ্রুত রান তোলার পর তাওহিদ হৃদয়ের সঙ্গে জুটি গড়ে ম্যাচে ফেরান শামীম হোসেন। দুজন মিলে মাত্র ১৯ বলে ৪৯ রানের ঝড়ো জুটি গড়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন।

ব্যক্তিগতভাবে শামীম খেলেন ১৩ বলে ৩১ রানের কার্যকর ইনিংস, যেখানে ছিল কয়েকটি আক্রমণাত্মক শট এবং সাহসী সিদ্ধান্ত। বিশেষ করে তাঁর একটি ‘নো লুক’ শট, যা উইকেটকিপারের পাশ দিয়ে বাউন্ডারি ছাড়িয়ে যায়, সেটিই এখন আলোচনার মূল বিষয়।

সংবাদ সম্মেলনে শামীম জানান, তাঁর ব্যাটিংয়ের মূল দর্শনই হলো ইতিবাচকতা এবং শুরু থেকেই আক্রমণ করা। তাঁর ভাষায়, যখনই তিনি ব্যাট করতে নামেন, তখনই চেষ্টা করেন প্রথম বল থেকেই রান তোলার চাপ তৈরি করতে। দলের জন্য দ্রুত রান তোলা তাঁর প্রধান দায়িত্ব বলেই মনে করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, এমন আক্রমণাত্মক ব্যাটিং তাঁকে আত্মবিশ্বাস দেয় এবং দলের পরিস্থিতি অনুযায়ী ঝুঁকি নিতে তিনি প্রস্তুত থাকেন। নেটে নিয়মিত এসব শট অনুশীলন করার কারণেই ম্যাচে সুযোগ পেলেই তা কাজে লাগাতে পারেন বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ দল ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত টি–টোয়েন্টি ফরম্যাটে ভালো সময় কাটিয়েছে। ৩০টি ম্যাচের মধ্যে ১৫টিতে জয় পেয়েছে দলটি। শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, নেদারল্যান্ডস, আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের মাধ্যমে দলটি আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে। বছরের শুরুতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে যায়, ফলে তৃতীয় ম্যাচটি সিরিজ নির্ধারণী হয়ে দাঁড়ায়।

এই ম্যাচে শামীম–হৃদয়ের জুটি দলকে জয়ের পথে ফিরিয়ে আনে, যা পুরো সিরিজের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। দলের ভেতরের সমন্বয় ও ইতিবাচক পরিবেশকে সাফল্যের বড় কারণ হিসেবে দেখছেন শামীম।

তিনি বলেন, গত বছর একাধিক টি–টোয়েন্টি সিরিজ জেতার ফলে দলের মধ্যে ভালো বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে, যা মাঠে পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। যদিও বিশ্বকাপ মিস করার হতাশা রয়েছে, তবে সেটিকে পেছনে ফেলে এখন নতুন সিরিজ ও ম্যাচে মনোযোগ দিচ্ছে দল।

বিশ্লেষকদের মতে, শামীম হোসেনের মতো তরুণ ব্যাটারদের সাহসী মানসিকতা বাংলাদেশের টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে নতুন মাত্রা যোগ করছে। বিশেষ করে চাপের মুহূর্তে ঝুঁকি নিয়ে খেলার ক্ষমতা তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিচ্ছে।

এদিকে শামীম নিজেও জানিয়েছেন, তিনি ভবিষ্যতে আরও উন্নতি করতে চান এবং দলের প্রয়োজনে দ্রুত গতিতে রান তোলার দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত থাকবেন। তাঁর মতে, আধুনিক টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মানসিকতা ছাড়া সফল হওয়া কঠিন।

সব মিলিয়ে উইকেটের পেছনের সেই ‘অচেনা শট’ এখন শুধু আলোচনার বিষয় নয়, বরং শামীম হোসেনের ব্যাটিং দর্শনেরও প্রতীক হয়ে উঠেছে, যেখানে সাহস আর ইম্প্রোভাইজেশনই তাঁর মূল শক্তি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত