প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দামে পতন হয়েছে। টানা ওঠানামার মধ্যেই ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে নতুন করে দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন বা বাজুস।
সংগঠনটির নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছে ২ হাজার ১৫৮ টাকা। এতে নতুন নির্ধারিত মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার ৩৩৭ টাকা। আজ সকাল ১০টা থেকে এই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাজুস জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম কমে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারেও সমন্বয় করা হয়েছে। বৈশ্বিক বাজারের ওঠানামার প্রভাব সরাসরি দেশের স্বর্ণের দামে পড়ছে বলে জানায় সংগঠনটি।
নতুন দর অনুযায়ী, ২১ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৯৬ হাজার ৬৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬০ হাজার ১৪৭ টাকা।
এর আগের দিনই অর্থাৎ ২৯ এপ্রিল বাজুস স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল। সেদিনও ভরিতে ২ হাজার টাকার বেশি কমানো হয়েছিল। ফলে মাত্র এক দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো স্বর্ণের দামে পরিবর্তন এলো।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে স্থানীয় বাজারেও এই ধরনের দ্রুত পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এতে একদিকে যেমন ক্রেতারা কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন, অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে অনিশ্চয়তা।
বছরের শুরু থেকেই দেশের স্বর্ণবাজারে ধারাবাহিকভাবে ওঠানামা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কখনো দাম বাড়ছে, আবার পরদিনই কমে যাচ্ছে। ফলে সাধারণ ক্রেতা থেকে শুরু করে স্বর্ণ ব্যবসায়ী—সবাইকে নতুন দামের সঙ্গে বারবার খাপ খাওয়াতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, স্বর্ণের দাম কমলেও রুপার বাজারে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বর্তমানে ২২ ক্যারেট রুপা ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ২১ ক্যারেট রুপা ৫ হাজার ১৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৪৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ৩৮৩ টাকায় স্থির রয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ডলারের ওঠানামা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা-সরবরাহের পরিবর্তনই মূলত দেশের স্বর্ণের দামের এই ঘন ঘন পরিবর্তনের পেছনে কাজ করছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও দামের এই অস্থিরতা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য কিছুটা চাপ তৈরি করছে। বিশেষ করে বিয়েশাদি ও উৎসবের মৌসুমে যারা স্বর্ণ কিনতে চান, তারা প্রায়ই দামের ওঠানামায় সিদ্ধান্তহীনতায় পড়ছেন।
বাজুস জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভবিষ্যতেও প্রয়োজন অনুযায়ী স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হবে।