ব্র্যাকের মেধাবিকাশ বৃত্তির আবেদন সময় বাড়ল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬
  • ৪ বার
ব্র্যাক মেধাবিকাশ বৃত্তি

প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য ব্র্যাকের মেধাবিকাশ বৃত্তির আবেদন সময় বাড়ানো হয়েছে। এখন শিক্ষার্থীরা আগামী ২ মে পর্যন্ত এই বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে।

ব্র্যাকের নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত এই বৃত্তি কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণে সহায়তা করা হয়। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা এককালীন ২০ হাজার টাকা এবং প্রতি মাসে ৮ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন।

ব্র্যাক জানায়, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো এমন একটি প্রজন্ম তৈরি করা, যারা শিক্ষার মাধ্যমে নিজেদের উন্নত করার পাশাপাশি দেশের উন্নয়নেও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারবে। বিশেষ করে যারা আর্থিক সংকটের কারণে উচ্চশিক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকে, তাদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে কাজ করছে।

বৃত্তির জন্য আবেদন করতে হলে শিক্ষার্থীকে অবশ্যই ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষে কোনো সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হবে। পাশাপাশি পরিবারের মাসিক আয় ২০ হাজার টাকার কম হতে হবে। আবেদনকারীর এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ থাকা প্রয়োজন বলে জানানো হয়েছে।

তবে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা, শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী কিংবা আদিবাসী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে কিছু শর্ত শিথিলযোগ্য থাকবে। ব্র্যাক কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদেরও অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

ব্র্যাক আরও জানিয়েছে, আবেদন প্রক্রিয়ায় প্রতিটি তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে পরীক্ষার ফলাফল এবং ভর্তি সংক্রান্ত তথ্য ভুল হলে আবেদন বাতিল হয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্পষ্টভাবে স্ক্যান করে জমা দিতে হবে, যাতে যাচাই প্রক্রিয়ায় কোনো জটিলতা না হয়।

পারিবারিক আয়ের তথ্যের ক্ষেত্রে সত্যতা নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রয়োজনে পরবর্তী সময়ে যাচাই করা হতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। আবেদনকারীর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর ও ইমেইল সক্রিয় রাখতে হবে, কারণ ভবিষ্যতে যোগাযোগের জন্য এগুলো ব্যবহৃত হবে।

ব্র্যাক জানিয়েছে, এই বৃত্তি শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, বরং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও দক্ষতা বিকাশেও ভূমিকা রাখবে। অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী অর্থনৈতিক কারণে উচ্চশিক্ষা থেকে পিছিয়ে যায়, এই উদ্যোগ তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে।

শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের বৃত্তি কর্মসূচি দেশের উচ্চশিক্ষায় প্রবেশাধিকারের বৈষম্য কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা আর্থিকভাবে দুর্বল, তারা এই সহায়তা পেয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবেন।

আবেদনকারীদের অনলাইনে নির্ধারিত ফরম পূরণ করে আবেদন করতে হবে। তবে আবেদন গ্রহণের জন্য ভর্তি নিশ্চিতকরণ রসিদ থাকা বাধ্যতামূলক বলে জানানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে ব্র্যাকের এই বৃত্তি কর্মসূচি দেশের মেধাবী কিন্তু সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা তাদের উচ্চশিক্ষার পথকে আরও সহজ করে তুলবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত