প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ব তেলের বাজারে দর নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) তাদের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ তেল মজুদ ছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছে। সম্প্রতি ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এই খবর নিশ্চিত করেছে, যেখানে সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়েছে। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেনে হামলার পর আইইএ’র সদস্য দেশগুলো বাজারে ১৮২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছেড়ে দিয়েছিল। এবার প্রস্তাবিত মজুদ ছাড়ের পরিমাণ তার চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে।
মঙ্গলবার আইইএ’র ৩২টি সদস্য দেশের জ্বালানি কর্মকর্তাদের জরুরি বৈঠকে এই প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। বৈঠকে আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ করা এবং ভোক্তাদের জন্য দাম স্থিতিশীল রাখা। কর্মকর্তাদের আশা, বৈঠকের পরবর্তী দিনে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার প্রেক্ষাপট অনেকটা আগুনে তেলের মতো। মধ্যপ্রাচ্যের সংকট এবং সামরিক উত্তেজনার কারণে বাজারে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত এবং বড় পরিমাণে মজুদ ছাড় দিলে দর নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এ ছাড়া, মজুদ ছাড়ের প্রস্তাবের ফলে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা বজায় থাকবে।
আইইএ’র সূত্র জানাচ্ছে, এই উদ্যোগ ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মজুদ ছাড়ের পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পূর্বের মজুদ ছাড়ের প্রভাব মূলত খুচরা ও পাইকারি বাজারে দাম স্থিতিশীল করার জন্যই দেখা গেছে। এবারও প্রত্যাশা করা হচ্ছে, বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং সম্ভাব্য মূল্যস্ফীতি রোধ করা যাবে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে তেলের দাম ওঠানামার প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ। জ্বালানি খাতের দাম বৃদ্ধি সাধারণ জনগণের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে। পরিবহন খরচ, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে ব্যয় বেড়ে যায়। এ কারণে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দেশগুলো এমন সময়ে মজুদ ছাড়ের মতো পদক্ষেপ নেয়। আইইএ’র এই প্রস্তাব শুধু বাজার নিয়ন্ত্রণেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনতে সহায়তা করবে।
আইইএ’র এক কর্মকর্তা জানান, প্রস্তাবিত মজুদ ছাড়ের পরিমাণ বাজারে সরবরাহ বাড়াবে এবং সম্ভাব্য জ্বালানি ঘাটতি কমাবে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে মূল্যস্ফীতি সৃষ্টি হওয়া রোধ করা প্রয়োজন। বৈঠকে সদস্য দেশগুলো একমত হয়েছেন যে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিলে বাজারের অনিশ্চয়তা হ্রাস পাবে।
এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি খাতের জন্য এক ধরণের নিরাপত্তা ছাঁচ তৈরি হবে। তেলের বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি সহনশীল হবে এবং ভোক্তাদের ওপর চাপ কমবে। তবে তা কত দ্রুত বাস্তবায়ন হবে তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রস্তাবটি অনুমোদন হলে তা বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি এবং দাম নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইইএ’র ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এই মজুদ ছাড়ের প্রস্তাব বাজারের জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে কাজ করবে। এটি শুধু দাম নিয়ন্ত্রণের জন্য নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং ভূ-রাজনৈতিক সংকট মোকাবেলায় একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে।
উপসংহারে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা আইইএ’র এই প্রস্তাব তেলের বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের কারণে বাজারে অনিশ্চয়তা বেড়ে যাওয়ায় বড় পরিমাণ মজুদ ছাড়ের পদক্ষেপ নেয়ার প্রয়োজনীয়তা ছিল। প্রস্তাবিত এই উদ্যোগ শুধু বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি করবে না, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি খাতের স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।