আফগানিস্তানের হাসপাতাল লক্ষ্য করে হামলার দাবি, নিহত ৪ শতাধিক

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬
  • ৫ বার
কাবুলে হাসপাতাল বিমান হামলা নিহত

প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি হাসপাতালকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ বিমান হামলার অভিযোগ সামনে আসার পর পুরো অঞ্চলজুড়ে তীব্র উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তালেবান প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় একটি বড় হাসপাতাল ধ্বংস হয়ে গেছে এবং এতে শত শত মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন। যদিও এই দাবির সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবুও ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

তালেবানের এক মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় জানান, সোমবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে কাবুলের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান, ওমিদ আসক্তি চিকিৎসা হাসপাতালকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। তিনি দাবি করেন, প্রায় দুই হাজার শয্যার এই হাসপাতালটি মূলত মাদকাসক্তদের পুনর্বাসন ও চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হতো এবং সেখানে তখন বিপুলসংখ্যক রোগী, চিকিৎসক ও কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার পরপরই হাসপাতালের বড় একটি অংশ ধসে পড়ে এবং আগুন ধরে যায়, যার ফলে হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। তিনি দাবি করেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০০ জন নিহত হয়েছেন এবং আহতের সংখ্যা ২৫০-এর কাছাকাছি। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

স্থানীয় কিছু গণমাধ্যমও হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, হাসপাতালটিতে হামলার সময় রোগীদের পাশাপাশি অনেক চিকিৎসাকর্মীও উপস্থিত ছিলেন। আহতদের অনেককে আশপাশের অন্যান্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে, কিন্তু কাবুলের চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার পরপরই এলাকাজুড়ে শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের শব্দ এতটাই তীব্র ছিল যে আশপাশের কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেও তা শোনা যায়। হামলার পর ধোঁয়া ও আগুনে আকাশ ঢেকে যায়, আর চারদিকে আহতদের আর্তনাদ শোনা যায়। অনেক স্বজন তাদের প্রিয়জনদের খোঁজে হাসপাতালের ধ্বংসস্তূপের আশপাশে ভিড় করেন।

তবে এই ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন একটি বড় হামলা যদি সত্যিই ঘটে থাকে, তবে এর প্রভাব শুধু আফগানিস্তানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং পুরো দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা বেড়েছে। উভয় দেশের মধ্যে নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে দীর্ঘদিনের মতবিরোধ রয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর উপস্থিতি এবং পারস্পরিক অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই প্রেক্ষাপটে কাবুলে এমন একটি হামলার দাবি পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই ঘটনার প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। একটি হাসপাতালের মতো মানবিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়। তারা দ্রুত একটি নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা সম্ভব হয় এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা যায়।

অন্যদিকে, সাধারণ মানুষের জন্য এই ঘটনা এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় হিসেবে দেখা দিয়েছে। যারা চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন, তাদের অনেকেই জীবন হারিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। এতে পরিবারগুলোতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং অনেকেই হঠাৎ করে তাদের স্বজন হারিয়ে অসহায় অবস্থায় পড়েছেন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি বড় হাসপাতাল ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ফলে কাবুলের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। মাদকাসক্তদের পুনর্বাসন ও চিকিৎসা কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে, যা সামাজিক সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

এদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতির দিকে গভীরভাবে নজর রাখছে। বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা ইতোমধ্যেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, কারণ এখন পর্যন্ত ঘটনাটির অনেক তথ্যই যাচাইবিহীন সূত্র থেকে এসেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের ঘটনা সত্য হোক বা না হোক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনেক সময় পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। তাই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা এবং যাচাইকৃত তথ্যের গুরুত্ব এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

সামগ্রিকভাবে, কাবুলে হাসপাতাল লক্ষ্য করে বিমান হামলার এই দাবি একটি গভীর মানবিক ও রাজনৈতিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সত্যতা যাচাই এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

বিশ্ব এখন অপেক্ষা করছে নির্ভরযোগ্য তথ্যের জন্য—আসলে কী ঘটেছে, কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং এর পেছনে কারা দায়ী। এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই নির্ধারণ করবে পরবর্তী সময়ে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা কোন পথে এগোবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত