বগুড়ায় র‍্যাবের জালে দুই নারীসহ তিন মাদক কারবারি, উদ্ধার ৬ কেজি গাঁজা

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৮ জুলাই, ২০২৫
  • ৩২ বার

প্রকাশ: ১৮ জুলাই । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বগুড়ার শাজাহানপুরে গভীর রাতে র‍্যাবের একটি চৌকস অভিযানে ধরা পড়েছে অভিনব কৌশলে মাদক পরিবহনকারী তিন ব্যক্তি— যাদের মধ্যে রয়েছেন দুই নারী ও একজন পুরুষ। অভিযানে উদ্ধার হয়েছে ৬ কেজি গাঁজা, মোবাইল ফোন, সিমকার্ড এবং নগদ অর্থ।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে র‍্যাব-১২, সিপিএসসি বগুড়ার একটি বিশেষ দল ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের সাজাপুর ফুলতলা আহমদিয়া কামিল মাদ্রাসা গেটসংলগ্ন এলাকায় এই সফল অভিযান চালায়।

র‍্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, এই মহাসড়ক দিয়ে কিছু মাদক কারবারি অভিনব কৌশলে গাঁজা পাচার করছে। এরপর তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করে র‍্যাবের দলটি। অভিযানে আটক হন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার বাসিন্দা আবুল কাশেম (৪৫), দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার আয়েশা সিদ্দিকা (২০) এবং আছমা খাতুন (৪৫)।

তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৬ কেজি গাঁজা, দুটি স্মার্টফোন, একটি বাটন ফোন, চারটি সিমকার্ড এবং নগদ ২ হাজার ৩৮০ টাকা।

র‍্যাব-১২ সূত্রে জানা গেছে, এই তিনজন একটি সুপরিকল্পিত পন্থায় মাদক পরিবহন করছিলেন। দীর্ঘদিন ধরেই তারা দেশের বিভিন্ন জেলায় গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য সরবরাহে জড়িত। তারা নিয়মিতভাবে রুট পরিবর্তন ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নিরাপদ যোগাযোগের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদক পরিবহনের কাজ করতেন।

বগুড়া র‍্যাব-১২ কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট এম আবুল হাসান সবুজ বলেন, “আটক ব্যক্তিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গাঁজা পরিবহনের কাজে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। মাদক পরিবহনে তারা একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের সদস্য হিসেবে কাজ করছিল বলে আমরা ধারণা করছি।”

তিনি আরও জানান, আটক তিনজনের বিরুদ্ধে বগুড়ার শাজাহানপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাদেরকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

বগুড়া অঞ্চলে মাদক পাচারের ঘটনা বেড়ে চলেছে—এমন সময়ে এই ধরনের সফল অভিযানকে র‍্যাব একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছে। বিশেষ করে নারীদের মাধ্যমে মাদক পরিবহন, যাতে সামাজিক দৃষ্টি এড়িয়ে যাওয়া সহজ হয়—এই নতুন প্রবণতা উদ্বেগজনক বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় জনসাধারণ এই অভিযানের প্রশংসা জানিয়ে বলেছে, দেশের মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরালো করা দরকার। শুধু বড় শহর নয়, মফস্বল ও মহাসড়কগুলোকেও নজরদারিতে রাখতে হবে।

র‍্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে যদি নিয়মিত এই ধরনের গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান পরিচালিত হয়, তবে মাদক কারবারিরা আর গা-ছাড়া হয়ে উঠতে পারবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত