তারেক রহমানকে গালিগালাজ এটা কীসের ইঙ্গিত, প্রশ্ন ফারুকের

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৮ জুলাই, ২০২৫
  • ৯৭ বার

“তারেক রহমানকে গালিগালাজ নির্বাচন ব্যাহত করার ইঙ্গিত” — বললেন জয়নুল আবদিন ফারুক

প্রকাশ: ১৮ জুলাই | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে চলমান সমালোচনার প্রতিবাদ জানিয়ে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক বলেছেন—তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ এবং একতরফা দোষারোপ শুধু একটি ব্যক্তিকে হেয় করার চেষ্টা নয়, বরং এটি একটি গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ। তার ভাষায়, “এটা কীসের ইঙ্গিত? এ ইঙ্গিত হচ্ছে নির্বাচনকে ব্যাহত করার। ষড়যন্ত্র শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু সেই ষড়যন্ত্র কে করছে, জনগণ তা এখন জানে।”

শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিএনপিপন্থী পেশাজীবীদের সংগঠন ‘মোটরচালক দল’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফারুক এসব কথা বলেন। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন কমিশনের নিরবতা, সরকারের ভূমিকা এবং ক্ষমতাসীনদের অবস্থান নিয়ে তিনি কঠোর সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, “আমরা এখনো আশাবাদী। আমরা প্রধান উপদেষ্টার ওপর আস্থা রেখেছি, তাঁকে সমর্থন দিয়েছি। এখনো সেই সমর্থন ফিরিয়ে নিইনি। আমরা বিশ্বাস করি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেবে, জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেবে। তবে সে দায়িত্ব কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যর্থ করছে—তাদের খুঁজে বের করাও এখন সময়ের দাবি।”

ফারুক আরও দাবি করেন, দেশের জনগণ এখন ভালো করেই বুঝে গেছে নির্বাচনকে কীভাবে ব্যাহত করার চেষ্টা চলছে, এবং কে বা কারা এর পেছনে কলকাঠি নাড়ছে। তিনি বলেন, “আমাদের দল বিএনপি প্রস্তুত আছে। সব ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার সাহস আমাদের আছে। কোনো পরিস্থিতিতে পিছিয়ে যাওয়ার নয়, বরং গণতন্ত্রের লড়াইকে সামনে এগিয়ে নেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।”

মানববন্ধনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হারুনুর রশিদ, মৎস্যজীবী দলের নেতা ইসমাইল হোসেন সিরাজীসহ দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। বক্তারা সবাই দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।

বক্তব্যে উঠে আসে গোপালগঞ্জে সংঘটিত সাম্প্রতিক একটি সহিংস ঘটনার প্রসঙ্গ, যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনার রেশ ধরে নির্বাচন নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার নিরবতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জয়নুল আবদিন ফারুক। তিনি বলেন, “আপনি বলেছেন ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন দেবেন, কিন্তু এখনো নির্দিষ্ট দিন-তারিখ ঘোষণা হয়নি। আমরা জানতে চাই—এই অনিশ্চয়তার পেছনে গোপালগঞ্জের নৃশংস ঘটনাটিই কি প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে?”

আসন্ন নির্বাচন ঘিরে নানা সংকট ও উদ্বেগের মধ্যেও বিএনপি নেতাদের কণ্ঠে আশার বার্তাও শোনা গেছে। তাঁরা জানিয়েছেন, সংবিধান ও গণতন্ত্রের সুরক্ষা, অবাধ-সুষ্ঠু ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দেশের মানুষের মর্যাদা রক্ষায় তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমানকে নিয়ে প্রকাশ্যে এই ধরনের বক্তব্য আসলে বিএনপির ভেতরে-বাইরে বিভিন্ন চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একই সঙ্গে আগামী নির্বাচনের পরিবেশ কতটা উত্তপ্ত হতে পারে, সেই পূর্বাভাসও দিচ্ছে এসব ভাষ্য।

দেশবাসীর এখন চেয়ে থাকা—এই অভিযোগ-প্রতিবাদ আর পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের ভিড়ে বাস্তবে কতটা গ্রহণযোগ্য এবং নিরপেক্ষ একটি নির্বাচন প্রক্রিয়া গড়ে ওঠে। সে দিকেই হয়তো বাংলাদেশ রাজনৈতিক ইতিহাসের পরবর্তী বাঁক নির্ধারিত হবে।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত