প্রকাশঃ ০২ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দিনাজপুর সীমান্তে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ ও পাচার রোধে কঠোর নজরদারি ও অভিযান চালাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অংশ বিজিবি। বিশেষ করে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) দেশের সীমান্ত সুরক্ষা এবং জ্বালানি তেলের অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে ব্যাপক টহল, তল্লাশি ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এই অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান জানান, সীমান্ত এলাকায় জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ ও পাচার ঠেকানো সরকারের অগ্রাধিকার। দেশের স্বার্থ রক্ষা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সদস্যরা প্রতিনিয়ত সতর্ক দৃষ্টিতে নজর রাখছেন। তিনি আরও বলেন, “বিজিবি শুধুমাত্র সীমান্তে নজরদারি করছে না, পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতার মাধ্যমে জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব।”
অধিনায়ক লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান উল্লেখ করেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় জ্বালানি সংক্রান্ত কোনো সন্দেহজনক কার্যক্রম পরিলক্ষিত হলে জনগণকে সরাসরি বিজিবিকে অবহিত করতে হবে। তিনি বলেন, “কোনো প্রকার গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। আমরা চাই সীমান্তে সম্পূর্ণ সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা হোক যাতে দেশের জ্বালানি খাত নিরাপদ থাকে।”
বিজিবি জানিয়েছে, এ ধরনের অভিযান দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং রপ্তানি-আমদানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিতকরণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অবৈধ মজুদ ও পাচার প্রতিরোধে নিয়মিত টহল এবং তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি, জ্বালানি খাতে যে কোনো অবৈধ কার্যক্রমের তথ্য পেলে তা তৎক্ষণাৎ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয়রা বিজিবির এই তৎপরতাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসরত মানুষদের অভিমত, “বিজিবির এই কঠোর নজরদারি আমাদের নিরাপত্তা এবং জীবনের স্বাভাবিকতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে জ্বালানি তেলের অবৈধ লেনদেনের কারণে কোনো সংকট তৈরি হবে না।”
অভিযোগ রয়েছে, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে প্রায়ই জ্বালানি তেল অবৈধভাবে মজুদ ও পাচার করা হয়, যা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। এই ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিজিবি টহল, তল্লাশি ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করেছে। এছাড়াও, জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো হচ্ছে।
বিজিবির কর্মকর্তারা জানান, সীমান্তবর্তী এলাকায় পর্যাপ্ত নিয়মিত নজরদারি এবং অভিযান চালালে জ্বালানি তেলের অবৈধ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। এই ধরনের কার্যক্রম দেশের অর্থনীতি এবং সাধারণ জনগণের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সীমান্তবর্তী জনগণকেও সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে, যেন তারা কোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জড়িত না হন।
অধিনায়ক লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, “দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষা করতে সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া পদক্ষেপ বাস্তবায়নে বিজিবি সর্বদা সজাগ। আমরা আশা করি, নিয়মিত অভিযান এবং জনগণের সহযোগিতার মাধ্যমে সীমান্তবর্তী এলাকায় জ্বালানি তেলের অবৈধ কার্যক্রম পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।”
এ ধরনের অভিযান দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা, বাজারে জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। বিজিবি সীমান্তের প্রতিটি এলাকায় টহল এবং নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে যাতে কোনো অবৈধ কার্যক্রম ঘটে না। জনগণকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি সন্দেহজনক কার্যক্রমের তথ্য প্রশাসনকে জানাতে বলা হয়েছে, যা দেশের জ্বালানি খাতের সুষ্ঠু নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করবে।