সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবি এনসিপির

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৮ বার
৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবি

প্রকাশঃ ০২ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ৯ম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের জোর দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বুধবার (১ এপ্রিল) দলটির শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ শান্ত স্বাক্ষরিত এক বিবৃতির মাধ্যমে এই দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশে শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশায় সরকারি ও আধা-সরকারি প্রায় ২৩ লাখ কর্মী কর্মরত আছেন। এই বিশাল সংখ্যক চাকরিজীবীর বেতন স্কেল সর্বশেষ ২০১৫ সালে, অর্থাৎ ৮ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের সময় বৃদ্ধি পেয়েছিল। তবে বিগত এক দশকে দেশজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি ৫০ শতাংশেরও বেশি এবং জীবনযাপনের ব্যয় দ্বিগুণের কাছাকাছি বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারি চাকরিজীবীরা ন্যায্য বেতন বৃদ্ধি থেকে বঞ্চিত হয়ে দীর্ঘদিন হিমশিম খাচ্ছেন। বিবৃতিতে এনসিপি দাবি করেছে, বর্তমান বাস্তবতা অনুযায়ী দ্রুততম সময়ে ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

এনসিপি বিবৃতিতে আরও জানিয়েছে, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন সংক্রান্ত দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়। কমিশন বিভিন্ন অংশীদার এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে প্রায় ১৪৮টি সভা ও মতামত গ্রহণের মাধ্যমে ২১ জানুয়ারি ৯ম বেতন কমিশনের প্রস্তাব উপস্থাপন করেছিল। কিন্তু আজ পর্যন্ত এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হয়নি, যা সরকারি চাকরিজীবীদের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

জাতীয় নাগরিক পার্টি বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, সরকারি চাকরিজীবীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে দল শুরু থেকেই সোচ্চার। ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের আন্দোলনে সরকারি বেতনভুক্ত কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি অংশগ্রহণ করে এনসিপি তাদের দাবিকে শক্তিশালী করেছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে তারা মহান জাতীয় সংসদে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি উত্থাপন করা উচিত বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সরকারি খাতের চাকরিজীবী ও তাদের পরিবার বর্তমান বাজারের উচ্চমূল্যের পরিস্থিতিতে জীবনের প্রাথমিক চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। সরকারের কাছে স্পষ্টভাবে দাবি জানানো হয়েছে, জীবনমান ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে দ্রুততম সময়ে ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হোক। এনসিপি আশা প্রকাশ করেছে, সরকারের সদিচ্ছা থাকলে সরকারি চাকরিজীবীদের আর্থিক নিরাপত্তা ও মানসম্মত জীবনযাত্রা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

এনসিপির এই পদক্ষেপ সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘ সময় ধরে বেতন বৃদ্ধি না হওয়া এবং জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি সরকারি খাতের কর্মীদের মানসিক চাপ ও আর্থিক অসুবিধা বাড়িয়েছে। এনসিপির মাধ্যমে তাদের দাবিকে পুনরায় উজ্জ্বল আঙ্গিকে তুলে ধরা হয়েছে। এই ধরনের সামাজিক ও রাজনৈতিক উদ্যোগ সরকারি খাতের কর্মীদের অধিকার এবং রাষ্ট্রের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, সরকারের উচিত সরকারি চাকরিজীবীদের ন্যায্য দাবি এবং দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা। দীর্ঘমেয়াদে ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়ন দেশের সরকারি খাতের কর্মীদের প্রণোদনা বাড়াবে এবং সরকারি খাতের কর্মক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতাকে আরও শক্তিশালী করবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টি আশা প্রকাশ করেছে, সরকার তৎক্ষণাৎ ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এটি কেবল সরকারি চাকরিজীবীদের আর্থিক স্বার্থ রক্ষা করবে না, বরং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জনকল্যাণেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত