সিআইডির পরিচয়ে প্রতারণায় যুবক গ্রেফতার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৮ বার
সিআইডি পরিচয়ে প্রতারণা গ্রেফতার যুবক

প্রকাশঃ ০২ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকা: পুলিশি পরিচয় ভুয়া করে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাত করার অভিযোগে পুলিশ বিভাগের অপরাধ তদন্ত শাখা (সিআইডি) সাইবার ইউনিটের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন রিপন মিয়া (২৪)। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সে নিজেকে সিআইডির এসআই পরিচয় দিয়ে হারানো মোবাইল ফোন ও অন্যান্য জিনিস উদ্ধার করার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাত করছিল। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, রিপন মিয়া নেত্রকোনার পূর্বধলার চান মিয়ার ছেলে। রাজধানীর আশুলিয়ার একটি বাসা থেকে বুধবার (১ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে অপরাধে ব্যবহৃত চারটি মোবাইল ফোন এবং আটটি সিম কার্ড জব্দ করা হয়। গ্রেফতার হওয়ার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রিপন জানান, দীর্ঘদিন ধরে সে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেকে সিআইডির সদস্য পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের হারানো মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেল ও অন্যান্য জিনিস উদ্ধার করার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাত করছিল।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ৭ জানুয়ারি। রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকার এক ব্যক্তি তার আইফোন-১৫ মডেলের ফোন হারানোর পর “সাইবার ক্রাইম হেল্পলাইন” নামে ভুয়া ফেসবুক আইডির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আইডিটি থেকে তাকে একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর দেওয়া হয়। সেখানে যোগাযোগ করলে রিপন মিয়া নিজেকে সিআইডির সাইবার ইউনিটের এসআই ইকবাল হোসেন পরিচয় দিয়ে মোবাইল উদ্ধার করে দেয়ার প্রলোভন দেখান। এতে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা গ্রহণ করা হয় এবং পরবর্তীতে তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরে ভুক্তভোগী খিলক্ষেত থানা পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন।

সিআইডি বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত শুরু করলে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় রিপনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা গেছে, একই কৌশল অবলম্বন করে সে আরেক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ৭২ হাজার ৭০০ টাকা আত্মসাত করেছে। এটি ছাড়াও সিআইডির সাইবার সাপোর্ট সেন্টারে তার বিরুদ্ধে আরও একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

সিআইডি জানায়, রিপন মিয়া নিজেকে বিভিন্ন সময়ে সিআইডির এসআই যেমন ইকবাল, এসআই আরমান ইত্যাদি পরিচয় দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। হারানো মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেল উদ্ধার এবং অন্যান্য প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে চলছিল।

এই ঘটনার পর সিআইডি সাধারণ জনগণকে সতর্ক করেছে। কোনো ব্যক্তি যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে অর্থ দাবি করে, তবে তার সঙ্গে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়া রিপন মিয়ার প্রতারক চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সিআইডির কর্মকর্তারা মনে করাচ্ছেন, এই ধরনের প্রতারণা প্রতিদিনই নতুন আকার ধারণ করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপরাধীরা সহজেই মানুষের আস্থা ভেঙে অর্থ আত্মসাৎ করতে সক্ষম হচ্ছে। তাই নাগরিকদের সচেতন থাকা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বৈধ প্রক্রিয়া ছাড়া কোনো আর্থিক লেনদেন না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অপরাধী গ্রেফতারের পর পুলিশ বলেছে, রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রক্রিয়াধীন এবং তার সঙ্গে জড়িত অপর সদস্যদের শনাক্তের জন্য আরও তদন্ত চলমান। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে এমন প্রতারণা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই সাধারণ মানুষকে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যেকোনো ধরণের যোগাযোগের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

রিপন মিয়ার ধরপকড় এবং সিআইডির সক্রিয় অনুসন্ধান প্রমাণ করে যে, প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক কাজ করছে। তবে এই ঘটনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষও সতর্ক হয়েছেন যে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নাম ভাঙিয়ে প্রতারণা করা আজকের দিনে একটি গুরুতর সামাজিক সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত