প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের হাসিনা ব্যবস্থার সবকিছুই দরকার, শুধু হাসিনা ছাড়া। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহর মতে, বর্তমান শাসন ব্যবস্থার অনেক দিকই কার্যকর, তবে সরকারপ্রধানের ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণ এবং কেন্দ্রীয়করণ সমাজে গণতান্ত্রিক চর্চাকে বাধাগ্রস্ত করছে। তিনি ফেসবুক পোস্টে আরও বলেন, এখন শুধু এটুকুই বলার বাকি—আমাদের হাসিনা ব্যবস্থার সবকিছুই দরকার, শুধু হাসিনা ছাড়া। এই মন্তব্যে স্পষ্টভাবে তার বক্তব্য প্রতিফলিত হয়েছে যে, নীতিগত কাঠামোর সঙ্গে ব্যক্তিগত শাসকের ক্ষমতার সমন্বয় সমাজে অসন্তোষ সৃষ্টি করছে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) তিনি একটি পোস্টে উল্লেখ করেন যে, সরকার পক্ষ গণভোটসহ ১০টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল করার প্রস্তাব দিয়েছে। এসব অধ্যাদেশের মধ্যে ছিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ, মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ, ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ এবং গণভোট অধ্যাদেশ। হাসনাত আব্দুল্লাহ দাবি করেন, এসব অধ্যাদেশ বাতিলের প্রস্তাব দেশের সংবিধানিক সংস্কারের লক্ষ্যকে ব্যাহত করবে।
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দীর্ঘ এক বছরের আলোচনা, সংলাপ ও তর্কবিতর্কের পর রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্যোগগুলো নিয়ে জুলাই জাতীয় সনদ চূড়ান্ত করা হয়, যা স্বাক্ষরিত হয় গত বছরের ১৭ অক্টোবর। এরপর সংবিধান সম্পর্কিত ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য ১৩ নভেম্বর ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ জারি করা হয়। এই আদেশ অনুযায়ী, নির্বাচনে জয়ী সংসদ সদস্যরা একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন।
তবে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে, কারণ বিএনপির সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ করেননি। এর ফলে নির্ধারিত ৩০ দিন সময়ের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন সম্ভব হয়নি। হাসনাত আব্দুল্লাহ এ প্রসঙ্গে বলেছেন, সরকারের সংবিধান সংশোধন এবং সংস্কার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও সকল দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি মনে করেন, সরকারী ব্যক্তিবিশেষের নিয়ন্ত্রণ ছাড়া বাস্তব কাঠামোর ওপর মনোযোগ দিলে দেশ আরও উন্নত ও গণতান্ত্রিক হতে পারবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হাসনাত আব্দুল্লাহর মন্তব্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিরোধী রাজনৈতিক চেতনার শক্তি এবং সরকারের প্রতি সমালোচনার স্বরকে প্রতিফলিত করছে। দেশের সংবিধানিক সংস্কার এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টি আজও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সংবিধান সংশোধন এবং নির্বাচনী পরিবেশে সব পক্ষের সমন্বয় ছাড়া কার্যকর সংস্কারের বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
এই মন্তব্য সামাজিক ও রাজনৈতিক সমালোচকদের মধ্যে সরাসরি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, সরকারের নীতি এবং শাসন ব্যবস্থার কাঠামো নিয়ে গণমত তৈরির ক্ষেত্রে এমন উক্তি জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। হাসনাত আব্দুল্লাহর বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক সংলাপকে আরও তীব্র ও সমৃদ্ধ করার সম্ভাবনা রাখে, যা রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী সংস্কার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ।