মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলতে উদ্যোগ জোরদারঃ আরিফুল হক চৌধুরী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৬ বার
আরিফুল হক চৌধুরী।

প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের প্রবাসী কর্মসংস্থানের অন্যতম বড় গন্তব্য মালয়েশিয়া-র শ্রমবাজার পুনরায় চালু করার লক্ষ্যে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে সরকার। এই প্রেক্ষাপটে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী আগামী বুধবার (৮ এপ্রিল) দেশটি সফরে যাচ্ছেন, যা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এই সফরের কথা জানান। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে এই সফরের আয়োজন করা হয়েছে এবং সেখানে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের মাধ্যমে শ্রমবাজার দ্রুত খুলে দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। আলোচনার ফলাফল অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবছর হাজার হাজার বাংলাদেশি কর্মী এই দেশে কাজের সুযোগ পেয়ে থাকেন, যা দেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের মাধ্যমে বড় অবদান রাখে। তবে বিভিন্ন সময় প্রশাসনিক জটিলতা, নীতিগত পরিবর্তন এবং অভিযোগের কারণে এই শ্রমবাজার বন্ধ বা সীমিত হয়ে পড়েছে। ফলে নতুন কর্মী পাঠানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয় এবং অনেক সম্ভাবনাময় কর্মী বিদেশে যাওয়ার সুযোগ হারান।

এই বাস্তবতায় সরকার আবারও শ্রমবাজারটি সচল করতে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে। আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সরকার সব সময় চায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকুক। শ্রমবাজারে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা একচেটিয়া প্রভাব যেন না থাকে, সে বিষয়ে সরকার সচেতন। তিনি বলেন, “আমরা কোনো সিন্ডিকেট বুঝি না, আমরা চাই উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সবাই সুযোগ পাক।” তার এই বক্তব্যে শ্রমবাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিই প্রতিফলিত হয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, সফরের সময় মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এতে শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করা, ব্যয় কমানো এবং কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়ে বলেন, এই উদ্যোগ সফল হলে দেশের বহু মানুষের কর্মসংস্থানের নতুন দ্বার খুলে যাবে।

এই ঘোষণার পাশাপাশি তিনি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। সাম্প্রতিক সময়ে ওই অঞ্চলে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কয়েকজন বাংলাদেশি কর্মীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তার ভাষ্যমতে, এখন পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে চারজনের মরদেহ দেশে আনা হয়েছে। একজনের মরদেহ পরিবারের সম্মতিতে সৌদি আরবেই দাফন করা হয়েছে।

নিহতদের পরিবারের প্রতি সরকারের সহানুভূতির কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। দাফনের জন্য ৩৫ হাজার টাকা এবং অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা নগদ সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। এই সহায়তা যদিও শোকাহত পরিবারের ক্ষতি পূরণ করতে পারে না, তবে সরকারের পক্ষ থেকে এটি একটি মানবিক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু করা গেলে দেশের বেকারত্ব সমস্যা কিছুটা হলেও লাঘব হবে। একই সঙ্গে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়বে, যা দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে। তবে এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা এবং শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি বলে তারা মত দিয়েছেন।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, অতীতে শ্রমবাজারে অনিয়ম ও অতিরিক্ত খরচের অভিযোগ ছিল, যা অনেক কর্মীর জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তাই নতুন করে এই বাজার চালু করার ক্ষেত্রে সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি টেকসই ও সুশাসিত কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন। এতে করে কর্মীরা যেমন উপকৃত হবেন, তেমনি দেশের ভাবমূর্তিও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও উজ্জ্বল হবে।

সব মিলিয়ে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সরকারের এই নতুন উদ্যোগ দেশের কর্মসংস্থান খাতে একটি ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, আসন্ন সফরের আলোচনায় কী ধরনের সিদ্ধান্ত আসে এবং তা কত দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়। তবে সংশ্লিষ্ট সবার প্রত্যাশা—এই উদ্যোগ সফল হবে এবং দেশের হাজারো তরুণ-তরুণীর জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত