২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি লক্ষ্য সরকারের: অর্থমন্ত্রী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১২ বার
বাংলাদেশ ট্রিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য

প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো’র সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৬৯ মার্কিন ডলার। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা। এই লক্ষ্য অর্জনে সরকার সমন্বিতভাবে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃজন, অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ন, ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি ও স্পোর্টস অর্থনীতিকে গুরুত্ব দিয়ে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করছে।

অর্থমন্ত্রী সংসদে সরকারি দলের সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে জানান, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির জন্য সরকার কোনো একক খাতের উপর নির্ভর করছে না, বরং বহুমাত্রিক কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, উৎপাদন, রপ্তানি, প্রবাসী আয়, দক্ষতা উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা—সবগুলো ক্ষেত্রকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য উৎপাদন, নির্মাণ, সেবা, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা খাতের বিকাশে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে পরিবারিক আয়ের সঙ্গে সঙ্গে মাথাপিছু আয়ও ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাবে।

মন্ত্রী আরও জানান, বেসরকারি বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যবসা শুরু ও সম্প্রসারণকে সহজ করা হচ্ছে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি, উৎপাদনমুখী খাতে অর্থপ্রবাহ বাড়ানো এবং নতুন কারখানা ও ব্যবসায়িক উদ্যোগকে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হয়। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহজ অর্থায়ন, নারী ও যুব উদ্যোক্তাদের উৎসাহ প্রদান এবং বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি করেও স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী করা হচ্ছে।

রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য সরকারের উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে রপ্তানিমুখী শিল্পে প্রণোদনা, বহুমুখীকরণ ও নতুন বাজার অনুসন্ধান। প্রবাসী আয়ের উন্নয়নের জন্য বিদেশগামী কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈধ চ্যানেলে অর্থ প্রেরণার প্রচারণা চলছে। কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে উৎপাদন বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন ও ক্ষুদ্র কৃষিভিত্তিক ব্যবসা সম্প্রসারণে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এতে গ্রামীণ আয়ের বৃদ্ধি ও সামগ্রিক অর্থনীতি চাঙ্গা হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগের একটি অংশ ইতিমধ্যেই ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাস্তবায়নাধীন রয়েছে, আর বাকি পদক্ষেপগুলো স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করা হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষের আয়ের বৃদ্ধি, বেকারত্ব হ্রাস, বিনিয়োগ ও উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ক্রয়ক্ষমতার উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।

এমন নীতি ও উদ্যোগ বাস্তবায়ন দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোকে আরও প্রতিরোধী করে তুলবে, বহুমুখী আয় ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবে এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের উচ্চাকাঙ্ক্ষিত অবস্থানে পৌঁছে দিতে সহায়তা করবে। সরকারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে দেশ সমৃদ্ধি, বৈষম্য হ্রাস এবং স্থিতিশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত