প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
সচিবালয়ে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, দেশে জ্বালানি তেল কেনার জন্য সরকার একটি অ্যাপভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে। এই নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রত্যেক খরিদ্দারের তেল কেনার তথ্য ডিজিটালি সংরক্ষিত হবে এবং নির্দিষ্ট নিয়মে তেল বিতরণ করা সম্ভব হবে। এতে কে কতটা তেল কিনেছেন এবং কখন কিনেছেন, তা স্পষ্টভাবে দেখা যাবে। এর উদ্দেশ্য হলো তেলের অবৈধ মজুত ও পাচার রোধ করা এবং সাধারণ মানুষের জন্য জ্বালানি সরবরাহের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
ডা. জাহেদ বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে কিছুটা চাপ অনুভূত হলেও তা এখনও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্য বাড়ালেও দেশে এখনও দাম বৃদ্ধির কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে আগামী মাসে জ্বালানি মূল্য সমন্বয় করা হবে কি-না, তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ লাইন ও তেলের অভাবের ঘটনায় মূলত অবৈধ মজুত ও পাচারের চেষ্টা দায়ী।
উপদেষ্টা জানান, নতুন অ্যাপ–ভিত্তিক ব্যবস্থা চালু হলে প্রত্যেকটি কেনাকাটার তথ্য স্বচ্ছভাবে সংরক্ষিত হবে। এতে কেউ একাধিকবার বা অতিরিক্ত তেল কেনার সুযোগ পাবে না। তেলের সরবরাহে স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি এটি ভবিষ্যতে বাজারে অপ্রয়োজনীয় চাপ কমাবে। তিনি বলেন, সরকারের এই উদ্যোগ জনগণকে সঠিকভাবে তেল সরবরাহ নিশ্চিত করবে এবং অনিয়মের সুযোগ হ্রাস করবে।
ডা. জাহেদ বলেন, বিদ্যুতের ঘাটতি না থাকলেও শহরে অনিয়ন্ত্রিতভাবে অটোরিকশা চলতে পারবে না। এসব যানবাহনের ফিটনেস এবং চালকদের প্রশিক্ষণ নিয়ে সমস্যা রয়েছে। সরকার বিপদজনক যানবাহনের বিকল্প ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে ভাবছে, যাতে দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব হয়।
উপদেষ্টা আরও বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণে বাংলাদেশ এখনও প্রস্তুত নয়। বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কারণে এলডিসি থেকে উত্তরণের পরিকল্পনা এখনই নেওয়া হচ্ছে না। এছাড়া তিনি জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কোনো দুর্নীতি হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে। দুর্নীতি দমন কমিশন পুনর্গঠন করার পর এই কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
ডা. জাহেদ শিশুরা হামে মৃত্যুবরণ করছে বিষয়টি দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নেবে। হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় ঝুঁকিপূর্ণ ৩০ এলাকায় টিকা কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং আগামী ৩ মে থেকে সারা দেশে টিকা কার্যক্রম শুরু হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই অ্যাপ–ভিত্তিক ব্যবস্থা শুধু তেলের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করবে না, বরং ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনগণের জন্য সুব্যবস্থা নিশ্চিত করবে। সরকারের এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘমেয়াদে তেলের বাজারে অনিয়ম কমবে, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ হ্রাস পাবে এবং পরিবহন খাতও সঠিকভাবে কাজ করতে পারবে।
সরকারি কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, অ্যাপ ব্যবস্থার মাধ্যমে জ্বালানি তেলের ক্রয়–বিক্রয় কার্যক্রম সহজতর হবে এবং বাজারের অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। সাধারণ মানুষ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এটি ভবিষ্যতে জ্বালানি সরবরাহে স্বচ্ছতা, স্থিতিশীলতা এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করবে।