দেশে আবারও বাড়ল জেট ফুয়েলের দাম

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫ বার
জেট ফুয়েলের দাম বৃদ্ধি

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের জ্বালানির বাজারে চলমান অস্থিরতার মধ্যেই আবারও বিমানে ব্যবহৃত জ্বালানি তেল জেট ফুয়েলের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিইআরসি সচিব মো. নজরুল ইসলাম সরকারের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দাম কার্যকর হওয়ার তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই পরিবর্তন আজ রাত ১২টা থেকে প্রযোজ্য হবে এবং পরবর্তী কোনো নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

নতুন দামের ঘোষণা অনুযায়ী, এপ্রিলে দেশের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ২০২ টাকা ২৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২২৭ টাকা ০৮ পয়সা করা হয়েছে। অর্থাৎ লিটারপ্রতি দাম বেড়েছে ২৪ টাকা ৭৯ পয়সা। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে প্রতি লিটার ফুয়েলের দাম ১ দশমিক ৩২১৬ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক ৪৮০৬ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বৃদ্ধির ফলে বিমান সংস্থাগুলির পরিচালন ব্যয় বাড়বে এবং যাত্রী ভাড়া ও চার্জে প্রভাব পড়তে পারে।

বিগত মাসগুলোতে দেশের জ্বালানি বাজারে ক্রমাগত ওঠানামার প্রেক্ষাপটে এই নতুন সিদ্ধান্ত এসেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম এবং ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি দেশের বিমান ইন্ধন খাতে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জেট ফুয়েলের দাম বৃদ্ধির ফলে বিমানসংস্থাগুলোর খরচ বেড়ে যাবে এবং সেই ব্যয় ভ্রমণকারীদের ওপর পড়তে পারে।

বিমান সংস্থাগুলো ইতিমধ্যেই জেট ফুয়েলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব নিয়ে জরুরি বৈঠক শুরু করেছে। এ খাতে পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে তারা বিমান ভাড়া সমন্বয় করার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে যাত্রীসংখ্যার ওপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা আছে। বিমানচালকদের মতে, জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি সরাসরি খরচের সঙ্গে যুক্ত এবং এটি যাত্রীভাড়া বৃদ্ধি ছাড়া বাঁচানো সম্ভব নয়।

এদিকে, সাধারণ মানুষও জ্বালানির এই বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বিগ্ন। ভ্রমণকারীরা বলছেন, পূর্বে থেকেই বিমান ভাড়া তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল, এখন জেট ফুয়েলের দামের বৃদ্ধি ভ্রমণের খরচ আরও বাড়াবে। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে যাত্রা পরিকল্পনার ক্ষেত্রে নতুন বাজেট তৈরি করতে হবে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে দীর্ঘমেয়াদে বিমানপরিষেবার খরচ এবং দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ভ্রমণে প্রভাব পড়বে।

বিইআরসি সচিব মো. নজরুল ইসলাম সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নতুন দর নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে দেশের জ্বালানি বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের ওঠানামা বিবেচনা করে। কমিশন আশা করছে, এই সিদ্ধান্ত বিমানের চলমান কার্যক্রমে সহায়ক হবে এবং জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।

অন্যদিকে, বিমান সংস্থাগুলো বলেছে যে তারা যাত্রীদের সুবিধা এবং সেবা অটুট রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তবে খরচ বৃদ্ধি এড়িয়ে যাত্রীর ওপর প্রভাব না পড়ানো কঠিন হয়ে পড়বে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিবর্তন দেশের বিমান খাতে একটি নতুন বাস্তবতার সূচনা করবে এবং ব্যবসায়িক পরিকল্পনা সংশোধন অপরিহার্য হয়ে যাবে।

জ্বালানি বাজারে এমন অস্থিরতার কারণে দেশের অর্থনীতি এবং ভ্রমণ শিল্পের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। যাত্রীদের জন্য সাশ্রয়ী ফ্লাইটের সন্ধান আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি বিমান সংস্থাগুলোকে খরচ নিয়ন্ত্রণ ও কার্যকরী পরিকল্পনা গ্রহণে মনোযোগ দিতে হবে যাতে যাত্রী সেবা এবং নিরাপত্তা বজায় থাকে।

এ প্রসঙ্গে, বিমান বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের দামের ওঠানামা এবং ডলারের প্রভাবের কারণে জেট ফুয়েলের দাম বৃদ্ধি প্রতিটি ফ্লাইটের পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। এতে খরচ বেড়ে যাওয়া এড়ানো যায় না, তাই অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ভ্রমণে এই প্রভাবের পূর্বাভাস দেওয়া জরুরি।

সার্বিকভাবে, দেশের বিমানখাতে জ্বালানি তেলের দামের বৃদ্ধি নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। যাত্রী, বিমান সংস্থা এবং অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারকরা সকলেই এর প্রভাব বিবেচনায় রাখবেন। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে যাত্রী সংখ্যা, টিকেট মূল্য এবং সেবার মান ঠিক রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

এভাবে, দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে জেট ফুয়েলের নতুন মূল্য কার্যকর হয়ে যাত্রাপথে পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। ভ্রমণকারীদের জন্য এটি বাজেট ও পরিকল্পনায় নতুন ধাক্কা হয়ে উঠেছে, আর বিমান সংস্থাগুলোকে খরচ বৃদ্ধি সামলাতে কৌশলগত পদক্ষেপ নিতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত