২৮৪৭ গ্রামে এখনও প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই: শিক্ষামন্ত্রী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩৬ বার
গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই তথ্য

প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সারাদেশে এখনও ২ হাজার ৮৪৭টি গ্রামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বুধবার জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে ফেনী‑২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল এবদিনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য তুলে ধরেন। জাতীয় সংসদের বৈঠকে বিভিন্ন সংসদ সদস্য শিক্ষা খাতসহ দেশের অন্যান্য উন্নয়নমূলক বিষয়ে প্রশ্ন করেন।

শিক্ষামন্ত্রী লিখিত জবাবে বলেন, দেশের প্রতিটি গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকা এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি এবং এর ফলে ২ হাজার ৮৪৭টি গ্রামে শিশু‑ছাত্রীদের মৌলিক শিক্ষা কার্যক্রমে প্রবেশাধিকারে ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে। তিনি জানান, এই সংখ্যা দেশের আটটি বিভাগে ভিন্নভাবে বিস্তৃত রয়েছে এবং সবচেয়ে বেশি বিদ্যালয়‑বিহীন গ্রাম চট্টগ্রাম ও ঢাকায় অবস্থিত।

মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারি উদ্যোগে বিদ্যালয় স্থাপনের প্রয়োজনীয় শর্তাদি বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে বিদ্যালয়‑বিহীন এসব গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি সংসদে জোর দিয়েছেন যে, গ্রামীণ অধিকাংশ শিশু আজও নিরাপদ শ্রেণিকক্ষ ও মানসম্মত শিক্ষার অভাবে মৌলিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, এবং সরকারের লক্ষ্য হওয়া উচিত এসব গ্রামে শিক্ষা সুযোগ পৌঁছানো।

রাজধানীর একাধিক শিক্ষা বিশেষজ্ঞ বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা একটি সমাজের মৌলিক স্তরের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং প্রতিটি শিশুর কাছে সহজভাবে এর উপস্থিতি থাকা উচিত। শিক্ষামন্ত্রীর তথ্য দেশের শিক্ষা খাতের বিস্তৃত চিত্রকে সামনে নিয়ে এসেছে। অনেকে বলছেন, মাত্র ২৮৪৭টি গ্রামের অভাব অনেক বড় চ্যালেঞ্জ, কারণ এই সংখ্যা মিলিয়ে হাজার হাজার শিশুরা বাধ্য হয়ে নিজের গ্রাম থেকে দূরে অন্যত্র স্কুলে যেতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতি শিশুদের নিরাপদ এবং মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, শুধুমাত্র একটি বিদ্যালয় স্থাপন করলেই সমস্যা সমাধান হবে না; বরং শিশুদের কাছে শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষক, পাঠ্যসূচি, পাঠ্য বই ও শিক্ষার মানসম্মত পরিবেশ থাকা প্রয়োজন। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে প্রায় ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে, কিন্তু গ্রামীণ অঞ্চলের ফাঁক এখনও অনেক। বিদ্যালয়‑বিহীন গ্রামগুলোতে জনসংখ্যা ও শিশু শিক্ষার্থীর সংখ্যা যথেষ্ট হলেও সেগুলোতে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের ক্ষেত্রে ভূমি, জনবল এবং অন্যান্য অবকাঠামো সংক্রান্ত সমস্যাগুলি সমাধান হয়নি।

শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, বিভাগভিত্তিক বিদ্যালয়‑বিহীন গ্রামগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে ৮১৮টি, ঢাকায় ৭১৭টি, রাজশাহী ৩৫৫টি, খুলনা ৩৪৯টি, ময়মনসিংহ ২৬৬টি, সিলেট ২৬০টি, বরিশাল ৪৫টি এবং রংপুরে ৩৭টি গ্রাম রয়েছে যেখানে প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। এসব গ্রামে বসবাসকারী শিশুদের অনেকেই এখনও প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত।

এক শিক্ষাবিদ বলেন, “গ্রামে বিদ্যালয় না থাকলে শিশুরা দীর্ঘ দূরত্ব পার করে স্কুলে যেতে বাধ্য হয়; বিশেষ করে মেয়েরা নিরাপত্তার কারণে পড়াশোনায় ঝুঁকে পড়তে অনেক হিমশিম খায়। সরকার দ্রুত পরিকল্পিতভাবে বিদ্যালয় স্থাপন ও শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নিলে গ্রামীণ শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে।”

অভিভাবক ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বিদ্যালয়‑বিহীন গ্রামে শিশুদের বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য প্রতিদিন হাঁটা দূরত্ব অনেক বেশি হয়, যা বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে আরও কষ্টকর হয়ে ওঠে। কেউ কেউ বলেন, “গ্রামে যদি একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকত, শিশুরা আরও উৎসাহী হতো এবং বঞ্চিত এলাকার শিশুরা পড়াশোনায় মনোযোগী হতে পারত।”

মন্ত্রী বলেছেন, বিদ্যালয়‑বিহীন এসব গ্রামে ভবিষ্যতে বিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা যাচাই‑বাছাই করে নেয়া হবে। সরকারি নীতি অনুযায়ী বিদ্যালয় স্থাপনের ক্ষেত্রে জনসংখ্যা, ভূমির প্রাপ্যতা, পর্যাপ্ত ছাত্র‑ছাত্রী সংখ্যা, আশপাশের নিরাপদ পরিবেশ ইত্যাদি শর্ত বিবেচনা করা হবে। শিক্ষা অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে, তারা এসব গ্রামে জরিপ করে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব জমা দিতে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারের এই উদ্যোগ গ্রামীণ শিক্ষা উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক শুরু হলেও প্রকৃত ফল পাওয়া তখনই সম্ভব হবে যখন স্থাপিত বিদ্যালয়গুলোর জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষক, পাঠ্য উপকরণ, নিরাপদ অবকাঠামো ও কার্যকর প্রশাসনিক তদারকি নিশ্চিত করা হবে। এতে করে দেশের প্রতিটি শিশুর জন্য সমান ও ন্যায্য শিখন পরিবেশ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে বলে তারা আশাবাদী।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত