প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
‘নতুন দিনের অঙ্গীকার, স্কাউটিং হোক সবার’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বুধবার (৮ এপ্রিল) রাজধানীর কাকরাইলে বাংলাদেশের স্কাউটসের জাতীয় সদর দপ্তরে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উদযাপিত হলো বাংলাদেশ স্কাউটস দিবস-২০২৬। দেশের যুব সমাজকে দক্ষ, নৈতিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ দিবসটি প্রতিবছর নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়ে আসছে।
প্রধান অনুষ্ঠান শুরু হয় সকাল সাড়ে সাতটায় অংশগ্রহণকারীদের রিপোর্টিং এবং প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে। এরপর সকাল ৮টায় গ্র্যান্ড ইয়েলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুষ্ঠান শুরু হয়। জাতীয় সংগীতের সুরে পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিনটি বরণ করা হয়। পতাকা উত্তোলনের পর প্রার্থনা সংগীত পরিবেশন করা হয় এবং সকাল ৮টা ১৩ মিনিটে ফেস্টুন ও পায়রা উড়িয়ে দিবসের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। এতে উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠানটি পালন করেন।
বাংলাদেশ স্কাউটসের নির্বাহী পরিচালক মো. শামসুল হক স্বাগত বক্তব্যে স্কাউটিং কার্যক্রমের গুরুত্ব এবং দেশের যুব সমাজে এর প্রভাবের ওপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, স্কাউটিং কেবল একটি সংগঠন নয়, এটি একটি শিক্ষামূলক আন্দোলন যা তরুণদের নৈতিক, শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ স্কাউটসের কোষাধ্যক্ষ ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল। তিনি বক্তৃতায় দেশের যুব সমাজকে চর্চাশীল, দায়িত্বশীল ও নৈতিকভাবে সমৃদ্ধ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে স্কাউটিং কার্যক্রমের অপরিহার্য ভূমিকা তুলে ধরেন। প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ স্কাউটসের সহসভাপতি এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক। তিনি বলেন, স্কাউটিং একটি আন্তর্জাতিক, স্বেচ্ছাসেবী, অরাজনৈতিক ও শিক্ষামূলক আন্দোলন, যা প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার পাশাপাশি কার্যকর সম্পূরক শিক্ষা হিসেবে কাজ করে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ স্কাউটস দীর্ঘদিন ধরে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে প্রশিক্ষণ ও কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে দেশের যুব সমাজকে চরিত্রবান ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
এদিনের অনুষ্ঠান কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি দেশের সব ইউনিট, উপজেলা, জেলা ও অঞ্চল পর্যায়েও একযোগে পালিত হচ্ছে। দিবসটি উদযাপনে স্কাউটরা বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেছে। শিক্ষামূলক প্রদর্শনী, পরিবেশ সচেতনতা কর্মসূচি, সামাজিক সেবামূলক কার্যক্রম এবং শারীরিক প্রশিক্ষণসহ নানা আয়োজনের মাধ্যমে যুব সমাজকে দায়িত্বশীল ও সৃজনশীল হতে উদ্বুদ্ধ করা হয়।
বছরের এই দিনে শিশু ও কিশোররা স্কাউটিংয়ের নিয়ম, প্রজ্ঞা ও নৈতিক শিক্ষার সঙ্গে পরিচিত হয়। বাংলাদেশ স্কাউটস দিবসকে কেন্দ্র করে আয়োজন করা হয় নানা প্রদর্শনী, আলোচনা, প্রশিক্ষণ এবং শারীরিক কার্যক্রম, যা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সহযোগিতা, নেতৃত্ব এবং দলগত মনোভাব তৈরি করে। এতে অংশগ্রহণকারীরা শেখে দায়িত্বশীল হওয়া, সামাজিকভাবে সচেতন হওয়া এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়া।
বাংলাদেশ স্কাউটস দিবস যুব সমাজকে কেবল শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং নিয়মিত জীবনধারায় প্রেরণা দেয় না, বরং তাদের মধ্যে নেতৃত্ব, দলগত চিন্তা, সহনশীলতা এবং মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই দিনে অংশগ্রহণকারীরা স্কাউটিংয়ের নীতি ও শৃঙ্খলার গুরুত্ব অনুধাবন করে এবং নিজেদের জীবনে এই শিক্ষাকে প্রয়োগের লক্ষ্য স্থাপন করে।
বাংলাদেশ স্কাউটসের কর্মকর্তা ও উদ্যোক্তারা বলেন, দিবসের মূল লক্ষ্য হলো দেশের যুব সমাজকে নৈতিক, দায়িত্বশীল, আত্মনির্ভরশীল এবং সামাজিকভাবে সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। যুব সমাজের চর্চা, সততা ও সৃজনশীল মনোভাব বৃদ্ধিতে স্কাউটিং কার্যক্রমের গুরুত্ব অপরিসীম। দেশের সব ইউনিটে একযোগে উদযাপন করে এই লক্ষ্যকে আরও দৃঢ় করা হয়।