প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
রাজধানীর আদাবর থানার অস্ত্র মামলায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যার মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদকে আদালত ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। ঢাকার ১৮তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মাহমুদুল মোহসীন বৃহস্পতিবার এই রায় ঘোষণা করেন। তবে আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর রাজধানীর আদাবরের বায়তুল আমান হাউজিং সোসাইটির একটি ফ্ল্যাটে র্যাব-২ অভিযান চালায়। অভিযানের সময় ফয়সাল করিম ‘পালানোর চেষ্টা’ করলে তাকে আটক করা হয়। পরে তার বাসা তল্লাশি করে চার রাউন্ড গুলি এবং একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। এরপর আদালতে অস্ত্র আইনে তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দায়ের করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ফয়সাল করিম এলাকায় চিহ্নিত অস্ত্রধারী, চাঁদাবাজ এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সংঘবদ্ধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আদালত সর্বশেষ ১০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন।
এ ঘটনায় ফয়সাল করিমের নাম আসার প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ শেষে নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে দুষ্কৃতিকারীদের গুলিতে ওসমান হাদি গুরুতর আহত হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ফয়সাল করিমের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার তথ্য উঠে আসে।
তদন্ত শেষে গত ৬ জানুয়ারি ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে গোয়েন্দা পুলিশ। তবে ডিবি পুলিশের অভিযোগপত্রে অসন্তোষ প্রকাশ করে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের ১৫ জানুয়ারি নারাজির আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে আবেদনটি মঞ্জুর করে অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।
আদালতে মামলার বিচার চলাকালীন ১৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। আদালত মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর রায় ঘোষণার জন্য ৯ এপ্রিল দিন ধার্য করেছিলেন। আসামি পলাতক থাকায় তার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া, এই মামলায় তদন্ত কার্যক্রমে নতুন দিক উন্মোচিত করেছে।
ফয়সাল করিমের বিরুদ্ধে আদালতের রায় দেশব্যাপী আলোচিত হয়েছে। বিশেষ করে ইনকিলাব মঞ্চ এবং হাদীর পরিবার এই রায়কে ন্যায়বিচারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মামলার রায়ের মাধ্যমে অস্ত্র মামলা, সন্ত্রাস এবং হত্যার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের বার্তা দেয়া হয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই রায় দেশের বিচারব্যবস্থায় সন্ত্রাস ও অস্ত্রের ব্যবহার রোধে একটি উদাহরণ স্থাপন করবে। তারা বলছেন, আসামির গ্রেপ্তার ও রায়ের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত হলে এমন ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।
ফয়সাল করিমের ১০ বছরের কারাদণ্ড শুধু এক ব্যক্তির জন্য নয়, এটি দেশের নিরাপত্তা ও সামাজিক শান্তি বজায় রাখার দিকেও গুরুত্ব বহন করছে। মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং যুক্তিতর্কের বিশদ বিশ্লেষণ রায় ঘোষণায় দৃঢ় ন্যায়পরায়ণতার প্রমাণ বহন করে।
এদিকে মামলার পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং আদালতের রায় কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে। মামলার এই রায় দেশের নাগরিকদের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা পুনঃস্থাপন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ফয়সাল করিমের রায়ের পরও বিষয়টি সম্পূর্ণ চূড়ান্ত নয়। আইন অনুসারে তার আপিল করার সুযোগ রয়েছে। তবে আপিল প্রক্রিয়া থাকলেও প্রাথমিকভাবে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড কার্যকর হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে দেশবাসীর মধ্যে এক ধরনের বিচারিক সন্তুষ্টি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এই রায় দেশের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, সন্ত্রাস প্রতিরোধ এবং ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত হবে। অস্ত্র মামলার ক্ষেত্রে এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ ভবিষ্যতে সমাজে আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।