প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় খাসিয়া সম্প্রদায়ের গুলিতে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে সীমান্তের ভারতীয় অংশের অভ্যন্তরে এই ঘটনা ঘটে। এতে সীমান্ত এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত যুবকের নাম সালেহ আহমেদ (৩০)। তিনি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার দয়ারবাজার ডাকঘরের কারবালার টুক গ্রামের মৃত বিরাম আলীর ছেলে। তার মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় সালেহ আহমেদ আরও দুই ব্যক্তির সঙ্গে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। তাদের সঙ্গে থাকা অন্য দুজন হলেন নাজিরগাঁও গ্রামের সুমন মিয়া (২৫) এবং একই এলাকার মাসুম আহমদ (২০)। তারা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের প্রায় এক কিলোমিটার ভেতরে চংকেট ও মারকান এলাকার মাঝামাঝি একটি বাগান এলাকায় অবস্থান নেন।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ওই এলাকায় সুপারি বাগানে অবস্থানকালে স্থানীয় খাসিয়া সম্প্রদায়ের লোকজন তাদের চোর সন্দেহ করে। এ সময় তাদের লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড ছররা গুলি ছোড়া হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে সালেহ আহমেদ ঘটনাস্থলেই মারা যান বলে জানা যায়। তার সঙ্গে থাকা দুইজন পরে তাকে উদ্ধার করে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন।
ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয় এবং স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিহতের মরদেহ বর্তমানে পরিবারে রয়েছে বলে জানা গেছে।
সিলেট বিজিবি ৪৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হক জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে নিহত সালেহ আহমেদসহ তিনজনই সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে এবং বিস্তারিত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
এদিকে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম খান জানান, শুক্রবার দুপুরে ঘটনাটি জানার পর পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করেছে। নিহতের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অনেকে বলছেন, সীমান্ত এলাকায় এমন ঘটনা নতুন নয়। অনেক সময় দুই দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন তারা।
সীমান্ত বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলে জটিল ভৌগোলিক পরিস্থিতি ও বনাঞ্চল থাকায় অনেক সময় অনুপ্রবেশ এবং ভুল বোঝাবুঝির ঘটনা ঘটে। এর ফলে স্থানীয় জনগণ ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার গভীর শোক প্রকাশ করেছে। পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, সালেহ আহমেদ জীবিকার তাগিদে বাইরে থাকলেও তার মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক ও অপ্রত্যাশিত। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসরত সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, সীমান্তে টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়ানো যায়।
এ ঘটনায় দুই দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও অনুপ্রবেশ বন্ধে দুই দেশের মধ্যে সমন্বিত পদক্ষেপ আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে সিলেট সীমান্তে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা স্থানীয় জনজীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।