যুক্তরাষ্ট্রেই ইরানের ম্যাচ, ফিফার সিদ্ধান্ত বহাল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫৪ বার
যুক্তরাষ্ট্রেই হবে ইরানের বিশ্বকাপ ম্যাচ

প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আগামী বিশ্বকাপে ইরানের ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকোতে স্থানান্তরের আবেদন শেষ পর্যন্ত নাকচ করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের করা আবেদন প্রত্যাখ্যান করে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে।

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাউম এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ফিফা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে ম্যাচগুলো পূর্বনির্ধারিত ভেন্যুতেই অনুষ্ঠিত হবে। তার মতে, ভেন্যু পরিবর্তন করলে পুরো আয়োজন জটিল হয়ে পড়বে এবং লজিস্টিক সমস্যা তৈরি হবে। যদিও এ বিষয়ে ফিফার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

গত মাসে ইরান ফুটবল ফেডারেশন নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে তাদের বিশ্বকাপ ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে আয়োজনের জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন জানায়। তারা দাবি করে, বর্তমান রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতিতে ইরানি খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে ম্যাচ হলে খেলোয়াড়দের জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে।

তবে ফিফা সেই আবেদন আমলে না নিয়ে জানিয়ে দেয়, বিশ্বকাপের সূচি ও ভেন্যু নির্ধারণ চূড়ান্ত এবং এতে কোনো পরিবর্তনের সুযোগ নেই। ফলে ইরানের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো আগের মতোই যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যদি নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়, তাহলে দল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না-ও করতে পারে। তবে সেই সম্ভাবনাকে আপাতত কমিয়ে দেখছে আন্তর্জাতিক ফুটবল মহল।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এ বিষয়ে আশ্বস্ত করে বলেছেন, ইরান বিশ্বকাপে অংশ নেবে এবং সব দেশ নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবে। তার মতে, খেলাধুলা রাজনীতির বাইরে থাকা উচিত এবং বিশ্বকাপ সেই বার্তাই বহন করে।

আগামী বিশ্বকাপে ইরান গ্রুপ জি-তে রয়েছে। এই গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে বেলজিয়াম, মিশর এবং নিউজিল্যান্ড। সূচি অনুযায়ী, ইরানের সব গ্রুপ ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রেই অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে দুটি ম্যাচ লস অ্যাঞ্জেলেসে এবং একটি ম্যাচ সিয়াটলে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ক্রীড়া ও কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি করতে পারে। কারণ রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও ভেন্যু অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিরাপত্তা প্রশ্নে নতুন আলোচনা উসকে দিতে পারে। তবে ফিফার অবস্থান অনুযায়ী, বৈশ্বিক ক্রীড়া ইভেন্টে সমতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখাই তাদের মূল লক্ষ্য।

অন্যদিকে ফুটবলপ্রেমীদের একাংশ মনে করছেন, মাঠের খেলা মাঠেই থাকা উচিত এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা খেলাধুলার ওপর প্রভাব ফেললে তা বিশ্বকাপের মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করতে পারে। তারা ফিফার সিদ্ধান্তকে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।

ইরানের সমর্থকদের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ মনে করছেন, নিরাপত্তা উদ্বেগ উপেক্ষা করা ঠিক নয়, আবার অনেকে মনে করছেন বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে অংশগ্রহণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে ইরানের বিশ্বকাপ ম্যাচ ঘিরে তৈরি হওয়া ভেন্যু বিতর্ক আপাতত শেষ হয়েছে ফিফার সিদ্ধান্তে। তবে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা ইস্যু সামনে রেখে আগামী দিনে পরিস্থিতি কতটা স্থিতিশীল থাকে, তা নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়ে গেছে।

বিশ্বকাপের বাকি প্রস্তুতি ও ম্যাচ আয়োজন নিয়ে এখন নজর পুরো ফুটবল বিশ্বের। ইরান দল নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী মাঠে নামলে এই বিতর্ক হয়তো ইতিহাসে একটি আলোচিত অধ্যায় হিসেবে থেকে যাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত