স্বর্ণের দামে নতুন ধাক্কা, ২২ ক্যারেট ভরি ২.৫ লাখ ছাড়ালো

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩ বার
স্বর্ণের দাম বাংলাদেশ ২০২৬

প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে, যা সাধারণ ক্রেতা থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী—সবার মধ্যেই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার প্রভাব সরাসরি এসে পড়েছে বাংলাদেশের বাজারে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নতুন করে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে, যেখানে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকায়। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে এই নতুন দর কার্যকর হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ার পাশাপাশি ডলারের বিপরীতে টাকার মানের ওঠানামাও এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আন্তর্জাতিক অর্থনীতির অস্থিরতা, বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি এবং বিভিন্ন ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বিনিয়োগকারীদের স্বর্ণের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য করছে। ফলে স্বর্ণের চাহিদা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে এর মূল্যও। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশে স্বর্ণের দাম বাড়া প্রায় অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠেছে।

নতুন নির্ধারিত দামে দেখা যাচ্ছে, শুধু ২২ ক্যারেট নয়, অন্যান্য ক্যারেটের স্বর্ণের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২১ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮২০ টাকা, ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি ২ লাখ ৪ হাজার ৭০৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭৩৭ টাকা। ফলে সব শ্রেণির ক্রেতাদের ওপরই এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে।

বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে পিওর গোল্ড বা বিশুদ্ধ স্বর্ণের দাম বাড়ার কারণেই এই সমন্বয় করা হয়েছে। আমদানির খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যবসায়ীদের জন্য আগের দামে স্বর্ণ বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে এই নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে তারা এটিও উল্লেখ করেছে যে, ভবিষ্যতে বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী আবারও দাম পরিবর্তন হতে পারে।

এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশের গয়নার বাজারে কিছুটা স্থবিরতা দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে বিয়ের মৌসুম সামনে থাকায় অনেকেই আগেভাগে স্বর্ণ কেনার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু দাম হঠাৎ করে এতটা বেড়ে যাওয়ায় অনেক ক্রেতাই এখন সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধায় পড়েছেন। অনেকেই অপেক্ষা করছেন, ভবিষ্যতে দাম কিছুটা কমে কিনা তা দেখার জন্য।

অন্যদিকে, স্বর্ণ বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও নতুন করে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। যারা আগে কম দামে স্বর্ণ কিনেছিলেন, তাদের জন্য বর্তমান পরিস্থিতি লাভজনক হলেও নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বর্ণ দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে নিরাপদ হলেও বর্তমান উচ্চমূল্যে কেনার আগে বাজার পরিস্থিতি ভালোভাবে বিশ্লেষণ করা জরুরি।

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ার পেছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ বড় অর্থনীতিগুলোর সুদের হার নীতি, বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের দিকে আকৃষ্ট করছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ডলারের মূল্যও একটি বড় ফ্যাক্টর। যেহেতু স্বর্ণ আমদানি করতে বৈদেশিক মুদ্রা প্রয়োজন, তাই ডলারের দাম বাড়লে স্বর্ণের দামও বাড়ে। সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের দামে ওঠানামা থাকায় স্বর্ণবাজারেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, ডলারের দর স্থিতিশীল হলে স্বর্ণের দামেও কিছুটা স্থিরতা আসতে পারে।

এদিকে, মাত্র কয়েক দিন আগে, গত ৯ এপ্রিলও স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। অল্প সময়ের ব্যবধানে আবারও দাম বাড়ানোয় বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বর্ণের বাজার এখনো অস্থির রয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও পরিবর্তন আসতে পারে।

সামাজিক দিক থেকেও এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কম নয়। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বিয়ের গয়না কেনা এখন আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে কম ক্যারেটের স্বর্ণ বা হালকা গয়না বেছে নিচ্ছেন। ফলে বাজারে ক্রেতাদের আচরণেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

সব মিলিয়ে, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ দেশের স্বর্ণবাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকল। নতুন এই মূল্যবৃদ্ধি শুধু অর্থনীতির নয়, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপরও প্রভাব ফেলছে। এখন সবার নজর ভবিষ্যতের দিকে—স্বর্ণের দাম কি স্থিতিশীল হবে, নাকি আরও বাড়বে, তা নির্ভর করছে বৈশ্বিক ও স্থানীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত