সোনার দাম কমল, নতুন ভরি মূল্য ঘোষণা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৮ বার
বাংলাদেশ সোনার দাম আজ

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নতুন করে সোনার দাম পুনর্নির্ধারণ করেছে, যেখানে প্রতি ভরিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন এই মূল্য আজ শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) থেকে সারা দেশে কার্যকর হয়েছে।

বাজুসের ঘোষণা অনুযায়ী, সবচেয়ে মানসম্মত হিসেবে বিবেচিত ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমানো হয়েছে। নতুন দরে ২২ ক্যারেট সোনার এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হবে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকা। গতকাল পর্যন্ত এই মানের সোনার দাম আরও বেশি ছিল, ফলে হঠাৎ এই পরিবর্তনে বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।

একই সঙ্গে অন্যান্য মানের সোনার দামও সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন তালিকা অনুযায়ী ২১ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরি বিক্রি হবে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭১ টাকায়। ১৮ ক্যারেট সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২ হাজার ২০ টাকা প্রতি ভরি। অন্যদিকে সনাতন পদ্ধতির সোনা বিক্রি হবে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকায়।

তবে ক্রেতাদের জন্য চূড়ান্ত মূল্য আরও কিছুটা বেশি হতে পারে, কারণ নির্ধারিত দামের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ হবে। গয়নার নকশা, মান এবং দোকানভেদে এই মজুরির হার পরিবর্তিত হতে পারে, ফলে চূড়ান্ত খরচ ভিন্ন হতে পারে।

স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ওঠানামার প্রভাব সরাসরি দেশের বাজারেও পড়ছে। ডলারের মূল্য, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক চাহিদা-সরবরাহ পরিস্থিতি সোনার দামে বড় ভূমিকা রাখছে। ফলে প্রায়ই দাম পরিবর্তন করতে হচ্ছে, যা ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের জন্য এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।

চলতি বছর দেশের বাজারে সোনার দাম নিয়ে উল্লেখযোগ্য অস্থিরতা দেখা গেছে। বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর এখন পর্যন্ত মোট ৫৬ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩২ বার দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে, আর ২৪ বার কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ঘন ঘন পরিবর্তন স্বর্ণবাজারকে আরও গতিশীল কিন্তু অস্থির করে তুলেছে।

ঢাকার কয়েকটি স্বর্ণালংকার দোকান ঘুরে দেখা গেছে, নতুন দাম ঘোষণার পর ক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ দাম কমায় স্বস্তি প্রকাশ করলেও অনেকেই মনে করছেন, বারবার দাম ওঠানামা করায় স্বর্ণ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে বিয়ে ও বিশেষ অনুষ্ঠানের মৌসুমে এই পরিবর্তন সাধারণ ক্রেতাদের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, স্বর্ণ মূলত একটি বিনিয়োগ পণ্য হিসেবেও বিবেচিত হওয়ায় এর দামের ওঠানামা স্বাভাবিক। তবে দেশের বাজারে ঘন ঘন পরিবর্তন হলে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে আস্থার ঘাটতি তৈরি হতে পারে। তারা মনে করেন, বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষণ করে আরও সমন্বিত নীতিমালা প্রয়োজন।

অন্যদিকে স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা বলছেন, বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশীয় বাজারে দাম নির্ধারণ করা ছাড়া উপায় নেই। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা থাকলে তার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়বে, যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।

ঢাকার গয়না ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, নতুন দামে কিছুটা ক্রয়চাপ বাড়তে পারে বলে তারা আশা করছেন। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় ছিলেন, তারা এখন তুলনামূলক কম দামে সোনা কেনার সুযোগ নিতে পারেন। তবে বড় ধরনের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এখনো অনেকেই সতর্ক অবস্থানে আছেন।

সোনার দাম শুধু একটি পণ্য হিসেবে নয়, দেশের অর্থনীতি ও বিনিয়োগ প্রবণতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবেও বিবেচিত হয়। তাই প্রতি পরিবর্তনই সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বাজার বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

সব মিলিয়ে, নতুন দামে সোনার ভরি কিছুটা কমলেও বাজারে অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি। আন্তর্জাতিক বাজারের গতিপথ এবং ডলারের বিনিময় হার ভবিষ্যতে দেশের স্বর্ণবাজারকে আরও প্রভাবিত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ক্রেতাদের জন্য আপাতত স্বস্তির বিষয় হলো দাম কিছুটা কমেছে, তবে এই স্থিতি কতদিন থাকবে, তা নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়ে গেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত