পশ্চিমবঙ্গে ১১০ আসনে জয়ের দাবি বিজেপির

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩ বার
আজ শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে নিউটাউনে এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট শেষ হওয়ার পর রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়ে গেছে। ভোটের পরদিনই ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপির শীর্ষ নেতা অমিত শাহ দলের পক্ষে একাধিক বড় দাবি তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথম দফার ১৫২টি আসনের মধ্যে ১১০টির বেশি আসনে বিজেপি জয় পেতে যাচ্ছে।

শুক্রবার সকালে নিউটাউনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব মন্তব্য করেন তিনি। সেখানে তিনি শুধু আসন সংখ্যার পূর্বাভাসই দেননি, বরং পুরো নির্বাচনী পরিস্থিতি, ভোটদানের হার, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ইভিএম সংক্রান্ত অভিযোগ এবং দ্বিতীয় দফার নির্বাচনী কৌশল নিয়েও দলের অবস্থান তুলে ধরেন।

গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত প্রথম দফার ভোটে পশ্চিমবঙ্গের ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবার ভোটদানের হার ৯২ শতাংশেরও বেশি, যা সাম্প্রতিক সময়ে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই উচ্চ ভোটদানের হারকে বিজেপি রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে।

অমিত শাহ বলেন, দলের পক্ষ থেকে সারারাত ভোটের বিশ্লেষণ করা হয়েছে এবং সেই বিশ্লেষণ অনুযায়ী বিজেপি বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গে ভোটের পরিবেশ এখন ভয়মুক্ত হয়েছে এবং মানুষ পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, এই ভোট শুধুমাত্র নির্বাচন নয়, বরং মানুষের দীর্ঘদিনের ভয় কাটিয়ে ভরসার পথে যাত্রা।

তিনি প্রথম দফার ভোটকে শান্তিপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন এবং নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তাঁর দাবি, বহু বছর পর পশ্চিমবঙ্গে এমন একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে যেখানে ভোটাররা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পেরেছেন।

বিজেপি নেতার মতে, এই নির্বাচনে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। তিনি বলেন, অতীতে ভয় দেখিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ থাকলেও এবার পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক ছিল। কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থার কারণে ভোটাররা অনেক বেশি নিরাপদ অনুভব করেছেন।

ভোটদানের উচ্চ হারকে কেন্দ্র করে তিনি বলেন, এটি শুধু গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ নয়, বরং শাসক দলের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষের প্রতিফলনও হতে পারে। তিনি এই প্রবণতাকে ‘সুনামি’র সঙ্গে তুলনা করেন এবং দাবি করেন, পরিবর্তনের ঢেউ শুরু হয়ে গেছে।

নির্বাচনের সময় কিছু জায়গায় ইভিএম পরিবর্তনের অভিযোগ উঠলেও অমিত শাহ এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করে জানান, বিজেপি প্রতিনিধিরা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং বিষয়টি কমিশন দেখবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তন মানে শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, বরং দুর্নীতি, সিন্ডিকেট রাজনীতি এবং প্রশাসনিক চাপ থেকে মুক্তি। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে দুর্নীতি একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী প্রসঙ্গেও কথা বলেন অমিত শাহ। তিনি দাবি করেন, আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী একজন বাঙালিই হবেন, যিনি বাংলার মাটিতে জন্মেছেন এবং বাংলা মাধ্যমেই পড়াশোনা করেছেন। এই মন্তব্যকে অনেকেই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখছেন।

দ্বিতীয় দফার ভোট নিয়েও আত্মবিশ্বাসী অবস্থান নেন বিজেপি নেতা। তিনি বলেন, পুরো পশ্চিমবঙ্গই তাদের জন্য কঠিন ছিল, কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। তাঁর মতে, প্রথম দফার ভোটে যে প্রবণতা দেখা গেছে, তা দ্বিতীয় দফাতেও অব্যাহত থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। মধ্যমগ্রামে এক রোড শোর সময় মানুষের ভিড় ও আবেগ তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে বলে জানান তিনি।

ঝালমুড়ি প্রসঙ্গেও তিনি মন্তব্য করেন, যা রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। মোদির গঙ্গা সফর ও স্থানীয় খাবার গ্রহণ নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে যুক্ত হওয়া রাজনীতিরই অংশ।

প্রথম দফার ভোট শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিজেপি নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে। অমিত শাহ ভোটারদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু ভোট আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানানো উচিত।

পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪ আসনের এই নির্বাচনে দুই দফায় ভোটগ্রহণ চলছে। দ্বিতীয় দফার ভোট আগামী ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে এবং ফলাফল ঘোষণা করা হবে ৪ মে। প্রথম দফার পর বিজেপির এই বড় জয়ের দাবি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত