বিশ্বকাপে ইরানের বদলে ইতালি প্রস্তাব বাতিল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৯ বার
ইতালিকে বিশ্বকাপে খেলানোর প্রস্তাবে যা বলল দেশটি

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তার একটি প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে ইরানের পরিবর্তে ইতালিকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করার আলোচনা সামনে এলেও শেষ পর্যন্ত সেই প্রস্তাবকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। এই ঘটনা বিশ্ব ফুটবলে নিয়মনীতি, যোগ্যতা এবং রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব বিষয়ক বিশেষ দূত পাওলি জাম্পোলির একটি প্রস্তাব থেকে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, বিশেষ করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিনান্সিয়াল টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর কাছে প্রস্তাব দেন যে, ইরানের পরিবর্তে ইতালিকে বিশ্বকাপে সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।

এই প্রস্তাব প্রকাশ্যে আসার পরই আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। কারণ ইতালি চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলেও সাম্প্রতিক কয়েকটি বিশ্বকাপে তারা যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে ইরান এশিয়া অঞ্চল থেকে প্রথম দিকেই ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে এবং নিয়মিত প্রস্তুতিও চালিয়ে যাচ্ছে।

ফিফার পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিয়ে পরিষ্কার অবস্থান জানানো হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ইরানকে বাদ দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি এবং লস অ্যাঞ্জেলেস ও সিয়াটলে নির্ধারিত তাদের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই অনুষ্ঠিত হবে। ফলে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ নিয়ে কোনো পরিবর্তনের সুযোগ নেই বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবটি সামনে আসার পর ইতালির ক্রীড়া কর্তৃপক্ষ দ্রুত এবং স্পষ্টভাবে তা প্রত্যাখ্যান করে। ইতালির ক্রীড়ামন্ত্রী আন্দ্রে আবোতি বলেন, এই ধরনের ধারণা বাস্তবসম্মত নয় এবং এটি গ্রহণযোগ্যও নয়। তার মতে, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ কেবল মাঠের যোগ্যতার ভিত্তিতেই নির্ধারিত হওয়া উচিত।

ইতালির অলিম্পিক কমিটির সভাপতি লুসিয়ানো বোনফিগলিও আরও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, বিশ্বকাপে খেলতে হলে অবশ্যই যোগ্যতা অর্জন করতে হয়। তার মতে, এমন প্রস্তাব ফুটবলের মৌলিক নীতির পরিপন্থী এবং এটি অপমানজনক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

এদিকে ইতালির অর্থমন্ত্রীও এই ধারণাকে সমালোচনা করে বলেন, এটি খেলাধুলার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ব্যবস্থার জন্য লজ্জাজনক একটি প্রস্তাব।

অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকেও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। ইরান দূতাবাস জানায়, ফুটবল মানুষের খেলা, কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয় নয়। তাদের মতে, মাঠের পারফরম্যান্সই একমাত্র মানদণ্ড হওয়া উচিত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিতর্ক ফুটবলের বিশ্বায়ন এবং রাজনৈতিক প্রভাবের সীমারেখা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে কোনো দলকে বাদ দিয়ে অন্য দলকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব ফুটবলের দীর্ঘদিনের নিয়ম ও কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করে।

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, ফিফার নিয়ম অনুযায়ী বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ সম্পূর্ণভাবে বাছাইপর্বের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে। কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বা বাইরের চাপের মাধ্যমে দল পরিবর্তনের সুযোগ নেই।

২০২৬ বিশ্বকাপকে ঘিরে ইতোমধ্যে নানা পরিবর্তন ও সম্প্রসারণের আলোচনা চলছে, তবে অংশগ্রহণকারী দল নির্ধারণের ক্ষেত্রে নিয়মের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।

সব মিলিয়ে, ইরানের বদলে ইতালিকে বিশ্বকাপে নেওয়ার প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত কোনো বাস্তব রূপ না পেলেও এটি আন্তর্জাতিক ফুটবলে নীতি, যোগ্যতা এবং রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ফুটবলপ্রেমীরা এখন অপেক্ষা করছেন মাঠের লড়াইয়ের জন্য, যেখানে সিদ্ধান্ত হবে কেবল পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত